লড়বেন আইভী আনোয়ার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

লড়বেন আইভী আনোয়ার

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় দুই হেভিওয়েট নেতা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ দুইজন বলেছেন অচিরেই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলবেন।

২৫ নভেম্বর বুধবার সময়ের নারায়ণগঞ্জকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, অগঠনতান্ত্রিকভাবে এভাবে একজনকে অব্যাহতি দিতে পারেনা। কারণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ যদি কোন অপরাধ করে থাকে দল বসে আলোচনা তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এখানে তেমন কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। একজন কর্মী জেল জুলুম সহ্য করেছে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই যে সে দলের আদর্শের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। সে দলের একজন নিবেদিত প্রাণ। এটা ঠিক হয় নাই। এটা গঠনতন্ত্রের রীতিনীতির বাইরে গিয়ে কাজ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে। মানুষের স্লিপ অফ টাং হতেই পারে। পরবর্তীতে এই ভুলের পর সে দল ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এরপর তাকে কি করে অব্যহতি দেয়া হয় তা আমার বোধগম্য হয়না।

তিনি আরো বলেন, আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ ব্যাপারে বলবো ‘এটা করা ঠিক হয়েছে কিনা’। অবশ্যই যাব এবং অবহিত করবো। সে আমার রাজনীতি করেছে, সে আমার জেলা পরিষদের সদস্য। দলের প্রতি তার একটা অবদান আছে। একটা লোককে ইচ্ছে করলে এভাবে অব্যাহতি দিয়ে দেয়া যায়না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি আমার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু এটাকে পুঁজি করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক (আব্দুল হাই ও বাদল) জাতীয় পার্টির এমপি খোকাকে বাঁচানোর জন্য যা করেছে এটার জন্য আমি ঘৃণা করি, আমি দুঃখিত। এটা উনারা করতে পারেনা। এটা অন্যায় কাজ করছে। আর এটার জন্য আমার জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে কখনো দল থেকে বের করবেনা বলে আমি আশা করি। আমিতো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছি অন্য কোন দল করি নাই। অন্য কোন দল থেকে আসি নাই। আমি নির্যাতিত, জেলা খাটছি, মাইর খাইছি এবং মামলা খাইছি দল করার কারণে। কিন্তু আজকে আমাকে গঠনতন্ত্র বর্হিভূতভাবে উনারা আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমি উনাদের অব্যাহতি তোয়াক্কা করিনা। উনারা মির্জা আজম ভাইয়ের (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) নাম বিক্রি করছে। আমার মনে হয়না, মির্জা আজম ভাই এমন নির্দেশনা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীর বলেন, আমি বুধবার মেয়রের সঙ্গে দেখা করেছি। মেয়র আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবেন। মির্জা আজম ভাই সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে তিনি কথা বলবেন। এই অব্যাহতির বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

এখানে উল্লেখ্য, ২৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম বরাবর ওই চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে (ঢাকা বিভাগ)। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য রাখার অপরাধে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এখানে উল্লেখ থাকে যে, ২১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে আপনার দেওয়া বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে।’

গত ১৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে ২১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধী দল।’ মূলত এ বক্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরের দিন জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যে অনড় থাকলেও ২৩ নভেম্বর তিনি ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন।

অব্যাহতির ব্যাপারে জাহাঙ্গীর বলেন, আমি গত ২১ তারিখ যে বক্তব্য দিয়েছি সেখানে স্লিপ অফ টাং একটা ভুল হয়েছে। বক্তব্যের উত্তেজনার মুহূর্তে আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা স্বপক্ষের দল বলার ক্ষেত্রে মুখ ফসকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে ফেলেছি। এটা বক্তব্যের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় মুখ ফসকে বলে ফেলেছি। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে আর মানুষ মানুষকে ক্ষমা করবেনা। কিন্তু এরপরও আমি আজকে পত্রিকাগুলোতে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছি। লিখিত আকারে এই বিবৃতি দিয়েছি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও