আল্লামা শফির মূর্তি বানালেও বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

আল্লামা শফির মূর্তি বানালেও বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ হাবিব আল হাবিব বলেছেন, আমাকে উপরের মহল থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আমরা ভাস্কর্যের মতো সামান্য বিষয় নিয়ে বিরোধীতা করেন কেন? আমি একটা কথাই বলেছি ইসলামের সঙ্গে যেখানেই সাংঘর্ষিক সেখানেই আমরা বিরোধীতা করি। সামান্য কোনো বিষয় ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হলে যত রকমের শক্তিশালীর পক্ষ থেকেই হোক হেফাজতে ইসলাম এটাকে হেফাজত করার জন্যই মাঠে নেমেছে। এটাই আমাদের কাজ। বাধা যতই আসুক আমরা আমাদের কাজ করবো। এটা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩০ নভেম্বর সোমবার দুপুরে শহরের ডিআইটি মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জুনায়েদ হাবিব আল হাবিব বলেন, আজকে নামে যেমন ভাস্কর্যের নামে বঙ্গবন্ধুর মূর্তিপূজার ব্যবস্থা করা হচ্ছে ইশা (আঃ) এর পরে বড় বড় ব্যক্তিদের স্মৃতিস্বরূপ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে প্রধান মূর্তিপূজা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। যার সামান্যতম কুরআন হাদীসের জ্ঞান আছে যার সামান্যতম ঈমান আছে তারা সবাই বলছে মূর্তি আর ভাস্কর্য একই জিনিস। আমরা বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারী নই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীতাকারী নই। আমাদের নেতা আহমাদ শফীর মূর্তিও যদি কেউ বানায় সেটাকেও বুড়িগঙ্গা ফেলে দিব। আমরা মুসলমান আমরা কোনো ব্যক্তির বিরোধীতা করতে আসিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এদেশের আলেম উলামায়ে কেরাম। আমরা বন্যার পানি দিয়ে ভেসে আসি নাই। আমাদের ইতিহাস আছে। স্বাধীনতার মূল আমরা। দেশের জন্য রক্ত আমরা দিয়েছি। এদেশে ইসলাম থাকবে আমরাও থাকবো ইসলাম না থাকলে আমরাও থাকবো না। অত্যন্ত গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে মুছে ফেলার জন্য। এদেশের মুসলমান এবং সংখ্যালঘুদের সাথে সংঘর্ষ লাগানোর জন্য। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি সেটাকে ধরে রাখতে হবে। এদেশের অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সাথে আমাদের কোনো প্রকারের সংঘাত নাই। একটা পূজা মন্ডপের ভিতরে যদি ১০ হাজার মূর্তি স্থাপন করেও যদি পূজা করেন আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু ৯০ ভাগ মসুলমানের দেশে নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় মূর্তি স্থাপন করবেন সেটা করতে দেয়া হবে না। এটাই আমাদের দাবী। সেই দাবীতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। মুসলমানরাও ঐক্যবদ্ধ। যারা বড় বড় বক্তৃতা দেন তাদেরকে বলবো হ্যাঁ না ভোট দিয়ে দেখেন কি হয়।

জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক মাহববুল আলম হানিফ বলেছেন হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বর থেকে নাকি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছি। আমরা নাকি পরাজয় করেছি। আমরা পরাজয় করি নাই লেজ গুটিয়ে পালিয়েও যায়নি। গোটা বিশ্ব দেখেছে আমরা পিছপা হয় নাই। আমাদেরকে সেদিন অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে কারাবালা প্রান্তর করেছে তারপরেও আমরা সেখানে ছিলাম। যারা পিটিয়েছে তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। আজকেও আমরা দেখিয়ে দিতে পারি। বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ সংগঠন হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম।

বিরোধীতাকারীদের সাবধান করে বলেন, তোমরা জুনায়েদ আল হাবিবের কণ্ঠকে স্তব্দ করে দিতে পারবা মামুনুল হকের কণ্ঠক স্তব্দ করে দিতে পারবা কিন্তু ইসলামকে স্তব্দ করে দিতে পারবা না। মানুনুল হকের কি দোষ? মামুনুল হক মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাই তোমরা মামুনুল হকের কুশপুত্তলিকাদাহ করা হয়। তোমাদের বংশধর চোর আর ডাকাতের বংশধর। আর মামুনুল হকের এদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তির বংশধর। সাবধান করে দিলাম এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি জাকির হোসেন কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহ, মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, সহ সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা মুফতি হারুনুর রশীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর আহমাদুল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও