বন্ধুর চির বিদায়ে কাঁদলেন আনোয়ার হোসেন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৬ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

বন্ধুর চির বিদায়ে কাঁদলেন আনোয়ার হোসেন

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেছেন,‘ রোকন উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই ছোট বেলা থেকেই। স্কুল জীবনে আমরা এক সঙ্গে লেখাপড়া করেছি। সে একজন সদালাপী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ভালো গানের গলাও তার। সে একজন নিরহংকারী, নিষ্কন্টক, একজন ভালো মানুষ। আমার রাজনৈতিক জীবনে একজন শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে আমি হারালাম।’

১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন আহমেদের নামাজে জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মৃতিচারণ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নারায়ণগঞ্জে সর্বপ্রথম যে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয় সেটা আমরাই নেতৃত্ব দিয়ে ছিলাম আমি ও রোকন উদ্দিন। এক সময় সে ছাত্র ইউনিয়ন করতো আমি ছাত্রলীগ করতাম। দুইজনে দুই গ্রুপের থাকলেও আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এমন সম্পর্ক বিরল। তোলারাম কলেজের শ্রেষ্ঠ সংসদ পরিষদ হলো রোকন আনোয়ার পরিষদ। কৈশোর জীবনেও আমি আওয়ামীলীগ করতাম সে অন্য দল করতো। আওয়ামলীগে আসার পর আমরা দুইকজন একত্রে রাজনীতি করেছি। আমার বিপদে আমি তার কাছে পরামর্শ নিয়েছি। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমি যখন হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যেতাম তখন সে আমাকে আলোর পথ দেখাতো এবং ধৈর্য্য ধারণ করার জন্য আমাকে বলতো সুপরামর্শ দিতো। এ পরামর্শ নিয়েই আমি চলতাম।’

তিনি বলেন, ‘তার এ মৃত্যুতে আমি একজন রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে হারালাম, আমি আমার একজন উপদেশ দাতা হারালাম, আমি একজন আদর্শের ও নিবেদিত কর্মীকে হারালাম। এ অভাব কখনো পূরণ হবে কিনা জানিনা তবে আমার একটা প্রত্যাশা রোকনের যে আদর্শ, নিরহংকার, সদালাপী সেটা যদি আমরা অনুসরণ করতে পারি তাহলে রোকনের আত্মা সন্তুষ্ট হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করে।

এদিকে জানাযার আগে বক্তব্যে কান্না জড়িত কন্ঠে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তার মতো শ্রেষ্ঠ বন্ধু আমার ছিল না। ছাত্র জীবনে সে ছাত্র ইউনিয়ন করতো আমি ছাত্রলীগ করতাম। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন একটা ভাব ছিল, আজকে রাজনৈতিক যে অবস্থা সে অবস্থা আমাদের মধ্যে ছিল না। যদি কখনো কোন অনিয়ম হতো সেটা আমরা নিজেরা সংশোধন করে নিতাম। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আমরা এলাকায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করতাম।’

তিনি বলেন, ‘এ পৃথিবীতে কেউ থাকবে না। সবাই চলে যাবে। কেউ একদিন আগে, কেউ একদিন পরে। তাই রোকনউদ্দিন যদি রাজনৈতিক জীবনে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে কারো সঙ্গে কোন দিন ঝগড়া করেনি। যদি তার রাজনৈতিক আচার আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন তার বন্ধু হিসেবে আমি ক্ষমা চাইছি। তিনি আর কোন দিন ফিরে আসবে না। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। এ বলেই তিনি কান্না শুরু করেন।’

এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে রোকন উদ্দিনের মরদেহে রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা, ঘনিষ্ট বন্ধু ও ভাই আনোয়ার হোসেনই অশ্রুশিক্ত নয়নে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বন্ধুর শেষ মুখখানা দেখে বিদায় জানান। পরে একে করে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার ভোর ৫টায় শহরের ভাষা সৈনিক সড়কের নিজ বাসায় মারা যায় রোকন উদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুর আগে তিনি মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ছয় মাস ধরে বিছনায় শয্যাশায়ী ছিলেন।

রোকন উদ্দিন আহমেদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করার সময় স্লোগানে রাজপথ কম্পিত করা তুখোর ছাত্র নেতা ছিলেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনেরও বিভিন্ন পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তাঁর সহধর্মীনি রিনা আহমেদ নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি। রোকন উদ্দিন আহমেদের মেয়ে রেজেকা রুমানা কলকাতায় রবীন্দ্র ভারতীয়তে পড়াশোনা করেছেন। এমবিএ শেষ করে বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। ছেলে জুলকার আহমেদ নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও