শামীম ওসমান চুপ!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

শামীম ওসমান চুপ!

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান কেন চুপ রয়েছেন সে প্রশ্ন রেখেছেন একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক। ৩০ নভেম্বর ওই সাংবাদিক তার ফেসবুক আইডিতে এ সম্পর্কিত পোস্ট করেন।

জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর বিকালে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করে। এর আগে সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। ওই মিছিলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বড় শো ডাউন দেখায়। যাদের সকলেই শামীম ওসমানের অনুগামী। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাঈফ উদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, জেলা যুবলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু ও জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, মহানগর স্বেচ্ছাসেব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জয় জেলা ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল প্রধান।

ওই সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, না থামলে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া হবে।

সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে গ্রেফতারসহ সাতটি দাবি জানানো হয়েছে। পূরণ না হলে সারাদেশে রাজপথে নামার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে মাঠে নেমেছে ধর্মভিত্তিক বেশ কয়েকটি দল। ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে প্রথমে বলা হয়, এই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে সেটি বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়া হবে।

শুরুতে আওয়ামী লীগ মুখ না খুললেও চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মাঠে নামে মামুনুল হকের একটি মাহফিলকে ঘিরে। তাদের হুঁশিয়ারির পর শুক্রবার হাটহাজারীর ওই মাহফিলে যোগ দেননি মামুনুল হক। যদিও ওই মাহফিলে হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ হলে তারা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবেন।

জনকণ্ঠের একসময়ের স্বনামধন্য সাংবাদিক ফজলুর বারী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে রয়েছেন। তিনি ফেসুবকে লিখেন, ফ্রান্সের ঘটনার পর শামীম ওসমানের তর্জন গর্জন মনে আছে? বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলার ঘোষনার পর তার কোন আওয়াজ পেয়েছেন কেউ?

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে হত্যার ঘটনায় তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া গোলা চত্ত্বরকে ‘রাজীব চত্ত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেদিন এক সমাবেশের আগে নারায়ণগঞ্জের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড গেথে দেন এবং ফলক উম্মোচন করেন। ওই সময়ে শামীম ওসমান বলেন, ২০০০ সালে আমি নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে ও নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে তাদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মোড়ে সাইনবোর্ড গেথে ছিলাম। এ কারণে ওই এলাকার নাম হয়েছিল সাইনবোর্ড। তেমনিভাবে এখন চাষাঢ়াতে রাজীবের স্মরণে সাইনবোর্ড গেথে তার নামে রাজীব চত্ত্বর ঘোষণা করলাম।

তবে ৫দিন পরেই ২২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে জুমআর নামাজের পর হেফাজত নেতাদের একটি মিছিল থেকে রাজীব চত্বর এর ফলক ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় মিছিলকারীরা শহরের চাষাঢ়া এলাকা অবরুদ্ধ করে প্রায় ২০ মিনিটি ধরে তান্ডব চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ অ্যাকশনে গেলে মিছিলকারীরা পিছু হটে।

ওই সময়ে নামাজ শেষে ডিআইটি এলাকায় ইসালামী ঐক্য জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রাহমানের পরিচালনায় একটি সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিআইটি রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আওয়াল। উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কাদির, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আবু সায়েম খালেদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় আসলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন অন্তত ৭ থেকে ৮হাজার মুসল্লী পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই মিছিল নিয়ে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। তখন পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়নি। হাজারো মুসল্লীর মিছিল চাষাঢ়া গোল চত্বর এসেই সেখানে সান্তনা মার্কেটের সামনে নির্মিত চেতনা মঞ্চে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ও এর আশেপাশে থাকা মাইক ভেঙ্গে ফেলে। একই সময়ে উত্তেজিত মুসল্লীরা চাষাঢ়ায় ব্লগার রাজীবের নামে নির্মিত রাজীব চত্বরের ফলকও ভাংচুর করে। সেখানে থাকা সাবেক এমপি শামীম ওসমানের বেশ কয়েকটি ফেস্টুনও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে মুসল্লীরা চেতনা মঞ্চে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে মুসল্লীরা পিছু হটে। পিছু হটা লোকজন পরে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবের সামনে ব্লগারদের কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন পুলিশ এক যুবককে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও