শামীম ওসমান সংযত হোন : হেফাজত

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৭ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার

শামীম ওসমান সংযত হোন : হেফাজত

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে সংযত হয়ে বক্তব্য রাখতে আহবান রেখেছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান। তিনি এ ক্ষেত্রে আলেম ওলামাদের ক্ষেত্রে বক্তব্য রাখতে শামীম ওসমানকে শিষ্টাচার বজায় রাখার আহবান রাখেন। কোন আলেমের নাম উল্লেখ না করে ‘আলেম’ শব্দ ব্যবহার করে পুরো আলেম সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ থেকে বিরত থাকারও আহবান রাখেন তিনি।

এ প্রতিবেদককে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এসব কথা বলেন।

আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুর পর যে কমিটি হয়েছে সেই কমিটির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেন পরিবারের লোকজন। ওই কমিটির লোকজনদের বিরুদ্ধেই শফিকে মৃত্যুর আগে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পরিবারের অভিযোগ তোলা নেতাদের নেতৃত্বেই হেফাজতের বর্তমান কমিটি যেখানে ফেরদাউস সহ নারায়ণগঞ্জের আরো দুইজন আছেন যাদের একজন আবদুল আউয়াল। তিনি নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আমীর।

এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের গ্রেপ্তারসহ সাত দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় শো ডাউন দেখায় শামীম ওসমানের অনুগামীরা। ২৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা মিলেছে। কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে পালিত হলেও সেখানে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের আধিক্য ছিল বেশি। সারা রাজপথ জুড়েই ছিল নারায়ণগঞ্জের নেতাদের আধিক্যতা। এছাড়াও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কগুলো শামীম ওসমান অনুগামীরা কম্পিত রেখেছিলেন।

সেখানে তিনি হেফাজতের কতিপয় নেতাদের বিষোদাগার করেছেন। এও বলেছেন, প্রকৃত আলেমরা ষড়যন্ত্রে নাই। ভাস্কর্যের বিষয়টি একটি দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের প্রয়াস। তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আলেমদের একটি গ্রুপকে সামনে দিয়ে রেখেছেন। আর পেছন থেকে তারা দেশকে ব্যর্থ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। যারা ফাঁদে পা দিয়েছেন তাদের সঙ্গে দেশের প্রকৃত আলেম ও ৮০ ভাগ আলেমের সম্পৃক্ততা নাই। কারণ তারা বুঝে গেছে প্রকৃত ঘটনা কি।

২৬ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে কর্মী সভায় শামীম ওসমান বলেন, খেলা শুরু করছে। আজকে সাহস দেখায় ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলে চুরমার করে দিবে। আমার কাছে লজ্জা লাগে ঘৃণা লাগে। সরকারি দল করি দেখলাম কেউ কথা বলা শুরু করে নাই। আমি বললাম এমপি সিটটি ছেড়ে দেয় তাহলে তো দলের কিছু রইলো না। আয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দে সাধারণ মানুষের মতো লড়াই করি দেখি কে কতটুকু মায়ের দুধ খাইছো তোমরা। আমাদেরকে ইসলাম বুঝায় তারা।

২৭ ডিসেম্বর ফতুল্লার কর্মীসভায় শামীমও সমান বলেন, হঠাৎ করে শুনলাম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলবে। কারা ভেঙ্গে ফেলবে? ওরা নাকি আলেম। কিসের আলেম এরা। ওই বেঠা তুই কেমনে আলিম হলি। যারা বলছে তারা যদি আলেমই হইতো তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত আলেম যাকে আমি মন থেকে শ্রদ্ধা করি। ইসলামের কথা হচ্ছে একজনের মুসলমানের মুখ এবং হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকবে। আর তোমরা কি করছ মাওলানা শফী সাহেবের মতো একজন প্রকৃত মুমিন একজন প্রকৃত আলেমকে দুইদিন ধরে আটকিয়ে রাখছিলা। তার গায়ে হাত দিছ। এটা আমাদের কথা না এটা তার পরিবারের কথা হচ্ছে মাওলানা শফী সাহেবকে নির্যাতন করা হয়েছে। আর এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। যারা উনার নাম ব্যবহার করে দল গঠন করতে পারে আমি তাদেরকে আলেম বলতে পারি না। তারা আলেম না। আমি অধিকাংশ আলেমের সাথে কথা বলেছি তারা বুঝে গেছে এটা রাজনৈতিক গেম।

এ ব্যাপারে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, ‘জনাব শামীম ওসমান একজন দেশ বরেণ্য রাজনীতিক। একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। আমার তাঁকে শ্রদ্ধা সম্মান করি। কিন্তু তাঁর উচিত সংযত হয়ে বক্তব্য রাখা। আলেমদের নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া, বিরূপ মন্তব্য করাটা তাঁর পক্ষে মানায় না। আমরা তাঁর প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বি না। কিন্তু সংবাদে দেখছি তিনি আলেমদের হয়তো সেটা এক শ্রেণির কিন্তু আলেম ওলামা শব্দ মুখে নিলে তাদের সম্মান জানানো শ্রেয়। নতুবা যারা নিরপরাধ তারাও কষ্ট পায়। তাই আমি মাননীয় এমপি মহোদয়কে বলবো, আলেম ওলামাদের নিয়ে কটূক্তি আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করবেন না।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও