আজাদ রিয়াদকে দুষছেন রনি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৯ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার

আজাদ রিয়াদকে দুষছেন রনি

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও জেলা বিএনপির সদস্য রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী আমাকে চাপে রাখতে সাগর সিদ্দিকিকে ব্যবহার করে বিদ্রোহী কমিটি ঘোষণা করেছে। সাগর সিদ্দিকির বাবা তুষার আহমেদ মিঠুও শ্রমিক দলের বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিল। সে ছিল ডাকাত, নদীপথে ডাকাতি করতো। যাকে এ কমিটির আহবায়ক দেয়া হয়েছে সে বিবাহিত এবং সে ২০০৩ সালের ব্যাচ। এমনিতেই টিকেনা সে। আর যাকে সদস্য সচিব দেয়া হয়েছে তার বাড়িঘরের ঠিক ঠিকানা নেই। কয়দিন আগে তার বাবা মারা গেছে সে নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তাকে আমি যুগ্ম আহবায়ক করেছিলাম সে আমার পায়ে ধরে বলেছিল আমি আপনার সাথে রাজনীতি করবো আর বেয়াদবি করবোনা এবং উল্টা পাল্টা চলবোনা। তারপর বাবুর অনুরোধে তাকে আমি কমিটিতে রাখি। কমিটি হবার দুই দিন পর তাকে পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে ডেকে নিয়ে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলে যদি রনির সাথে থাকিস তাহলে তোকে পুলিশে দেব। তাকে যে বিদ্রোহী কমিটিতে রাখা হয়েছে এটা সে নিজেও জানেনা। সে নাকি পরে শুনেছে তাকে কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

৩১ জানুয়ারী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রনি এসব কথা বলেন।

রনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, মূলত সামনে থানা কমিটি হবে তো তাই আড়াইহাজারের কমিটি কব্জায় নিতে আজাদের নির্দেশে এ ধরনের বিদ্রোহী কমিটি দিয়ে আমাকে চাপে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী আমার ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান দোলনের বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পুলিশ পাঠিয়ে তাকে বলা হয়, তাকে ওসির সাথে দেখা করতে না হলে তার হাত পা ভেঙে দেওয়া হবে। আমি ফতুল্লা থানার পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্চয়কেও বলেছিলাম রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর কথা। সে বলেছে তার সাথে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সম্পর্ক ভালো। তবে রিয়াদের কথা নাকি সে শুনবেনা।

রনি বলেন, যারা বিদ্রোহী কমিটি দিয়েছে এবং যারা কমিটিতে আছে এদের বেশিরভাগই আওয়ামীলীগ। ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথেই এদের চলাফেরা। ফতুল্লা প্ল্যাটফর্মের ওখানে তো প্রথম যুগ্ম আহবায়কের বাবা মা মাদকের ব্যবহার করে। সে নিজেও মাদকের ব্যবসা করে। সে চিহ্নিত এবং থানায়ও তার বাবা মায়ের নাম আছে। কাশীপুরের আরো কিছু ছেলে আছে তাদের অস্তিত্বই নেই, চিনিও না, নামও শুনিনি কখনো। মূলত এরা ফতুল্লা প্ল্যাটফর্মে বসে চুরি ছিনতাই করে, এদেরকে দিয়েই কমিটি করা হয়েছে।

‘এ ধরনের কাজ করাচ্ছেন নজরুল ইসলাম আজাদ কমিটিতে তার প্রভাব বিস্তার করানোর জন্য।’

তিনি বলেন, ৩টি ইউনিট কমিটি প্রস্তুত করা আছে, সেখানে শুধু আহবায়ক ও সদস্য সচিবের নাম বসিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত থাকায় কমিটি হচ্ছেনা। তারা সময় দিলেই একসাথে বসে কমিটি হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, সোনারগাঁয়ে যারা ছাত্রদলের কাজ করে এরা কেউ সজীবের সাথে নেই। সজীবের সাথে যারা চামচামি করে শুধু তাদের নামউ দিয়েছেন সজীব। রাজনৈতিক কার্যক্রম, অবস্থান, সামাজিক অবস্থান সব কিছুই যারা করেছে তাদের নাম সেখানে দেয়া হয়েছে। জাকারিয়া এবং শাহজালাল এরা কাজ করেছে থানায়। এরা পরিশ্রম করে, কষ্ট করে, শ্রম দেয়। এদের নাম এসেছে মশিউর রহমান শান্ত যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে এখন সে বয়সের কারণে নিজেরসহ যারা প্রার্থী ছিল তারা বাদ পড়েছে এ জন্য সিরিয়ালে এদের নাম এসেছে। একই ভাবে সজীব যে দুজনের নাম দিয়েছে এদের নামও এসেছে। সজীব তো বোকার সর্গে বাস করছে। সজীব বাচ্চা ছেলে তার ম্যাচুইরিটির অভাব।

তিনি বলেন, জাকারিয়া ও শাহজালাল যেমন কাজ করছে তেমনি জনি ও রাদও কাজ করছে। এদের মধ্যে যারা ভালো তাদের দিয়েই কমিটি হবে। কমিটি দ্রুতই হয়ে যাবে।

এর আগে সবশেষ জেলা ছাত্রদল কর্তৃক ঘোষিত ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি বাতিল ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি রনির বহিষ্কার দাবিতে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল সহ রনির কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

পরে একই দিন ২৯ জানুয়ারী রাতে ফতুল্লার কোতালেরবাগস্থ ছাত্রদলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পিয়াস খন্দকারকে আহবায়ক ও লেলিনকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের পাল্টা আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করে।

তাদের দাবী, স্বীয় স্বার্থ হাসিলে রনি আওয়ামীলীগের এজেন্ডা হিসেবে তাদের হুকুম বাস্তবায়নে অছাত্র, বিবাহিত, আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের স্থান দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে।

ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি করার পূর্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের সাথে কোন সমন্বয় না করে অর্থলেনদেন এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য এই পকেট কমিটি করা হয়। রনির দেওয়া কমিটির বেশীরভাগ অছাত্র বিবাহিত, স্বশিক্ষিত, বাবুর্চি এই কমিটিতে স্থান পায়। যারা দলের জন্য ত্যাগী, দলের দুর্দিনের কান্ডারী, নির্যাতিত ও রাজপথে সক্রিয় তারা কমিটিতে স্থান পায়নি। আর তাই ত্যাগী, নির্যাতিত, পরিক্ষিতদের নিয়ে রনির পকেট কমিটির বিরুদ্ধে পাল্টা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে বিএনপির সিদ্ধান্তক্রমে আমাদের ঘোষিত কমিটি কাজ করে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও