শামীম ওসমানের সেই আন্দোলন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার

শামীম ওসমানের সেই আন্দোলন

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচারী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান প্রণীত গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল, ছাত্রবন্দীদের মুক্তি ও দমননীতি বন্ধ এবং গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর গগনবিদারী শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে রাজপথ। ১১টি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই আন্দোলনের ডাক দেয়। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে মিছিলও হয়।

জানা গেছে, ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বেলা ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ঢাকা শহর এবং আশেপাশের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে। ছাত্রনেতাদের বক্তৃতাপর্ব শেষে শুরু হয় মিছিল, লক্ষ্যস্থল সচিবালয়।

সামনেই শিক্ষা ভবনের গোটা এলাকাজুড়ে শত শত সাঁজোয়া বাহিনীর সদস্য। বিনা উস্কানিতে অতর্কিতে তারা মিছিলকারীদের উপর গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ শুরু করে। নিরস্ত্র আন্দোলনকারীরা রাস্তায় পড়ে থাকা ইট ও পাথরখন্ড ছুঁড়ে গুলির জবাব দেবার দেষ্টা চালায়।

জানা গেছে, শামীম যখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সে সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে পোস্টার লাগাতে গিয়ে পুলিশের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছিলেন। ৮০’র দশকের প্রথমভাগে তোলারাম কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু। পরবর্তীতে ৮১ সালে ভিপি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার শত্রুদের ব্যাপারে আপোষহীন এ নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কাঁপিয়েছেন। স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেছেন। পরবর্তীতে শহর আওয়ামী লীগ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেটে একেএম শামীম ওসমান ৭৩ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ৮৯৯ ভোট। ২০০০ সালের ১৬ এপ্রিল দেশ বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তোলারাম কলেজে জাহানারা ইমাম ভবন উদ্বোধনের পর মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজামী, খালেদা জিয়াকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ মুখ লিংক রোডে স্থাপন করা হয়। এসব ঘটনার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সূত্র মতে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান ও এই আসনের আরেক প্রভাবশালী নেতা গিয়াসউদ্দীন। শামীম ওসমান আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীকে অন্যদিকে গিয়াসউদ্দীন বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় গিয়াসউদ্দিন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়। আর শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬ হাজার ১০৪ ভোট। সে নির্বাচনে ১৯৩ আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে। নির্বাচনে শামীম ওসমান পরাজিত হোন।

পরবর্তীতে শামীম ওসমান ২০০৮ সালে মনোনয়ন না পাওয়ায় এমপি নির্বাচিত হন সারাহ বেগম কবরী। শামীম ওসমান পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সবশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন শামীম ওসমান।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও