চুনকার শোক র‌্যালিতে সুফিয়ানের নেতৃত্বে ঢল

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২৫ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

চুনকার শোক র‌্যালিতে সুফিয়ানের নেতৃত্বে ঢল

নারায়ণগঞ্জের পৌরপিতা প্রয়াত জননেতা আলী আহম্মদ চুনকা’র ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর শোক র‌্যালিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের ঢলে নেমেছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শোক র‌্যালি, মাজার জিয়ারত, শ্রদ্ধাঞ্জলি, বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও সংগঠনের দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৮টায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন পাঠাগারের সম্মুখ থেকে শোক র‌্যালি মাসদাইর কবরস্থানস্থ তার মাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে হাজারো নেতা-কর্মী নিয়ে র‌্যালিতে যোগ দেয়। পরে মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, আলী আহমদ চুনকা বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় একবার দলের সমর্থন নিয়ে এবং আরেকবার সমর্থন ছাড়াই টানা দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আলী আহাম্মদ চুনকাকে ‘পৌরপিতা’ উপাধি দেয় নারায়ণগঞ্জবাসী। তারই ধারাবাহিকতায় বজায় রেখেছেন তার সন্তান (মেয়ে) সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো ভোটারদের মন জয় করিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন যোগ্য পরিবারের প্রতি আমাদের সব সময় সমর্থন ও ভালোবাসা থাকবে।

১৯৩৪ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেওভোগের এক মুসলিম পরিবারে আলী আহাম্মদ চুনকার জন্ম। তার বাবার নাম ওয়াহেদ আলী, মা গোলেনুর বেগম। ১৯৫২ সালে তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনে জনমত গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আলী আহাম্মদ চুনকা ১৯৬৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহকুমা থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭১ সালে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তরুণ ও যুব সমাজকে সংগঠিত করেন। চুনকা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ পাট শ্রমিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজ দল আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি আলী আহমদ চুনকা। দলের সমর্থন পান মহিউদ্দিন আহমেদ খোকা। একই দলের খাজা মহিউদ্দিনও প্রার্থী হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলী আহমদ চুনকাই সর্বাধিক ভোটে বিজয়ী হন। তিন বছর পর ১৯৭৭ সালে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চুনকার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দেওভোগ এলাকার নাজিমউদ্দিন মাহমুদ। নির্বাচনে চুনকা পরাজিত হন। ১৯৮৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আলী আহাম্মদ চুনকা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও