হিন্দু ক্ষেপেছে হেফাজতে ক্ষেপেছে কিন্তু বিচারের মালিক আল্লাহ:আইভী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২৩ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার

হিন্দু ক্ষেপেছে হেফাজতে ক্ষেপেছে কিন্তু বিচারের মালিক আল্লাহ:আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, আয়োজন করে প্রশংসা ভাল লাগেনা। আসলে নেগেটিভ কথা বেশি শুনি তো। সব আমার বিরুদ্ধে একটু নেগেটিভ কথাবার্তা বেশি হয় এজন্য আপনারা যখন প্রশংসা করেন তখন শুনতেও ভাল লাগেনা। কিন্তু উপায় নাই শুনি আরকি। যাই হোক মানুষতো দ্াড়িয়ে সত্য কথা বলে ফেলে। কিন্তু আপনারা খেয়াল করে দেখবেন ইদানিং আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহরে কি পরিমান যে মিথ্যার চর্চা হচ্ছে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি যে শহরের মধ্যে গত দুই তিন মাস যাবত যেভাবে মেয়রকে ভূমিদস্যু বানানো হচ্ছে, যেভাবে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেই থাকতে দিবেনা। সেখানে আপনাদের এখানে এসে যে প্রশংসা করলেন কোনটা যে সত্য একমাত্র আল্লাহই জানে।

শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী বন্দরের মদনগঞ্জে একটি বিজ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আইভী এসব কথা বলেন।

মেয়র আরো বলেন, আমি আজকে এখানে এসেছি একটি বিজ্রের উদ্বোধন করতে। আমি না আসলেও পারতাম আমার কাউন্সিলর সাহেবই এটা করতে পারতেন। কিন্তু আমি আসছি একটু পাশের মাঠটা দেখবো আর আপনাদের সাথে সাক্ষাত হবে এই কারনে। আমি যখন আপনাদের সামনে বীজ্র উদ্বোধন করছি আপনাদের সাথে উন্নয়ন কর্মকান্ড করছি তখন আমার বিরুদ্ধে এই মূহুর্তে রাইফেল ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছে। সেই সাংবাদিক সম্মেলনটা কি? আমি ভূমিদস্যু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ৫৪০টি মসজিদ করে দিচ্ছেন। সেখানে নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দরে একটি করে মসজিদ হবে। শহরে মন্ডলপাড়ায় ওয়াকফা এস্টেটের একটি জায়গা আমাদের সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা নিয়েই তারা করতেছেন। প্রায় ১০ কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আমি সেটা উদ্বোধন করেছি। এখন আমি এটা কেন উদ্বোধন করলাম এটাই হয়ে গেল আমার চরম অপরাধ। কেন আমি ওয়াকফ স্ট্যাট এর জায়গা ইসলামি ফাউন্ডেশনকে বললাম এই জায়গায় করেন এটা আমার চরম অপরাধ। অথচ দেখেন এতো একটি মসজিদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর এবং সিদ্ধিরগঞ্জকে আমরা সেই দিকে তাকাচ্ছি। কিন্তু শত্রুতার কারনে মেয়র আইভীকে ভূমিদস্যু বানাতেই হবে সেজন্য কত ধরনের চক্রান্ত।

জিউস পুকুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের হিন্দু ভাইদের কিছুদিন আগে অনশন করালো। জায়গা দখল করেছি পুকুর দখল করে নিয়ে গেছি। পুকুর কিনেছে ২০ থেকে ২৫জন ওই পুরা এলাকার। ওইখানে দেবোত্তর সম্পত্তি ৮ একর। আমার নানা কিনেছেন ৪ একর। বাকি ৫ একর কোথায় গেল? বাকি ৫ একর মুসলমান হিন্দুরা মিলেই কিনেছে। তাদের কথা কিন্তু কেউ বলেনা। কিন্তু আমাদের মাননীয় সাংসদ যিনি উন্নয়নের দিকে তাঁর কোন খেয়াল নাই। কাজ কর্মের দিকে তাঁর কোন খেয়াল নাই মেয়র আইভী কি করলো সেটা নিয়ে তার মাথা ব্যথা। তাহলে নিশ্চয়ই আমি মাথা ব্যথার কোন কারণ। আর সেই কারনটা হলো আপনাদের ভালবাসা। আজকে যে ভালবাসাটা দেখাচ্ছেন আমি জানিনা আমার কাউন্সিলর শিউলি নওশেদ বা তার ছেলে আগামীকাল পরশু আবার মামলা খাবে কিনা। আমি জানিনা আমার পাশে বসা কাউন্সিলর মুরাদের বিরুদ্ধে আরেকটা মামলা হবে কিনা। কারণ এভাবেই জোর জুলুম করে আমাদের কাউন্সিলরদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কাউন্সিলদের বিপদে ফেলা হয়, ভয়ভীতি দেখানো হয়। কিন্তু আমি তাদেরকে একদম স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমার সিটি করপোরেশনের সেবার বয়স হলো ৯ বছর। নয় বছর যাবত আমি আপনাদের সেবা করছি। আরো ১ বছর আছে। আমার জন্য দোয়া করবেন সুস্থ্য ভাবে যেন আমি আপনাদের সেবা করতে পারি। সমস্যা হয়ে গেল আমার ৩৬জন কাউন্সিলরকে নিয়ে। তাদের যখন তখন ডাকা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। বাচ্চাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো হয়। এই ভয় ভীতি মাথায় নিয়েই আমাদের কাউন্সিলররা চলে। অবশ্য আমি কোনদিন তাদের কিছু বলিনা। কেন স্বাক্ষর দিয়ে আসলেন কেন ওখানে গেলেন, কেন রাইফেল ক্লাবে গেলেন এমন কোন প্রশ্ন আমার মাঝে নাই। কারন তারা স্বাধীন মানুষ তাদের বিবেক আছে। প্রত্যেকটা মানুষেরই বিবেক আছে। তারা কি করে স্বজ্ঞানে করে। আমার এটা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নাই। আমার মাথা ব্যথা হলো আমি কোথায় আপনাদের একটা মাঠ করে দিবো, কোথায় একটা পার্ক করে দিবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিশু বান্ধব, জনবান্ধব নগরী গড়তে হবে।

আইভী বলেন, আমাকে ভূমিদস্যু বলুক আর বলুক না কেন। হিন্দু ভাইদের ক্ষেপিয়েছে, দেখছেন আপনারা হেফাজত আমাকে কিভাবে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করছে। উপরে আল্লাহ একজন আছেন যিনি সব কিছুর বিচারক, যিনি সব কিছু দেখেন আর আমাকে মাজার পূজারী বলে কোন লাভ হবেনা। আমি মাজার ভক্ত একজন মানুষ। আমি সুন্নিয়তের একজন মানুষ, আমি অলি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, রাসূলকে মানি। সুতরাং আমাকে ভয় দেখাবেন না। ভয় দেখানোর মানুষ আমি না। এখানে কদমরসুল আছে বলেই নবীগঞ্জের এতো সুনাম আছে। কদমরসুলে নবী করিম (সা:) এর পায়ের নকশা আছে বলেই আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী এতো ঝড় ঝাপটার পরেও মাথা উচু করে দাড়িয়েছি। নারায়ণগঞ্জ ৬৪ জেলা থেকে কোন অংশে কম নয়। এই ৬৪ জেলার মধ্যে বাকি ৬৩টা জেলার লোক নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে এসে কাজ করে কর্মসংস্থান করে। নিশ্চয়ই আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কোন ভাল কাজ করেছে। আমাদের প্রচুর অলি আউলিয়া এখানে শায়িত আছেন। ১২ আউলিয়ার দেশ এই বাংলাদেশ। আপনারা বলেন মাজার পূজারী। এই দেশে যদি হযরত শাহাজালাল না আসতেন তাহলে আপনারা কেউ তো মুসলমান হতেন না। সুতরাং অলি আল্লাহদের নিয়ে যারা এভাবে কথা বলেন, বেয়াদবের বদ নসিব এবং আদাবে মুক্তি। ভক্তিতে মুক্তি, বেয়াদবে বদ নসিব। বেয়াদব বেয়াদবই থাকবে আমরা মানুষকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করবো। আমি দলমত নির্বিশেষে আপনাদের উন্নয়নে কাজ করবো।

তিনি আরো বলেন, আমরা খুব তাড়াতাড়িই নদীর দুই পাড়ে গাছ লাগিয়ে ইকো পার্কের মত করবো। এটা হাইকোর্টের নির্দেশ। ২০০৯ সালে এই নির্দেশ ছিল যে প্রত্যেকটা নদীরপাড়ে যেখানে বিআইডব্লিউটিএ এর জায়গা আছে সেখানে গাছ লাগাতে হবে। সেটা বিআইডব্লিউটিএ ও করতে পারে এবং আমরা সিটি কর্পোরেশনও করতে পারি। আমি আপনাদের সাথে নিয়েই এই কাজ গুলো করবো। মাঠ আমি তিনটা করে দিয়েছি। টাকার হিসাব আমি দিলাম না। আমার কাউন্সিলররা হিসাব দিয়েছে। আপনারা জানেন এখানে পুকুর আছে লেক আছে। আমরা সোনাকান্দা স্টেডিয়ামটা টেন্ডার দিবো। বাকি সরকারের যে পতিত জায়গা গুলো আছে সেগুলো আমি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে কাজকর্ম করবো। এই ব্রীজটার জন্য কিছু কারখানার সাময়িক সমস্যা হবে। আমি কাউন্সিলরদের বলবো তাদের বিকল্প রাস্তা বের করে দিতে। আমরা চেষ্টা করবো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ব্রীজের কাজ শেষ করবো। যদি তার আগে করতে পারে ঠিকাদারকে আমরা সবাই মিলে পুরস্কার দিতে বলবো। মানুষের কথায় কান দিবেন না। আমি আপনাদের সাথে হাটে মাঠে ঘাটে পথে নৌকায়, চায়ের দোকানে বসে জনগনের সাথে কাজ করি। আমার কাছে আপামোর জনসাধারণ দেখেন আমি কিভাবে পরিশ্রম করি।

মাহামুদনগর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সমাজ সেবক হুমায়ন কবির সভাপতিত্বে ব্রিজ উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাদামতলী ধান চাউল আড়ৎ বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ ১৯,২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ প্রমুখ। ব্রিজ উদ্ধোধন কালে উপন্থিত ছিলেন, মাহামুদনগর পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর, সমাজ সেবক হাজী আমির হোসেন, হাজী আব্দুল খালেক, আওয়ামীলীগ নেতা হিরো, হিমেলসহ স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও