তামাশা দেখছে হেফাজত!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫১ পিএম, ২ মার্চ ২০২১ মঙ্গলবার

তামাশা দেখছে হেফাজত!

হেফাজত নেতারা স্বার্থের খেলায় কি পরিমাণ হাতের পুতুল হয়ে গেছেন তার প্রমাণ মিললো মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিম ও তার ৩ পুত্রের ঘটনায়। মাওলানা আব্দুর রহিমের আরেক পরিচয় তিনি হেফাজতে ইসলামের বড় নেতা। হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের নেতারা যখন স্বার্থের খেলায় কখনো আওয়ামীলীগের হাতের লাঠি আবার ঝাড়– হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন-একই সময়ে একটি মাদ্রাসার নিজস্ব জমি ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে বাঁচাতে ৩ পুত্রসহ লড়ে যাচ্ছেন মাওলানা আব্দুর রহিম। হেফাজত নেতা হয়েও তিনি হকের দাবি প্রতিষ্ঠায় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতাদের কোন প্রকার সহযোগীতা পাচ্ছেন না। ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে হেফাজত নেতা আব্দুর রহিম ও তার ছেলেরা ইতিপূর্বে মারধর খেয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। তবুও হেফাজতের নেতারা কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

ভূমিদস্যুরা মাওলানা আব্দুর রহিমকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছে, ‘তোদের নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা আমাগো বড় নেতার (আওয়ামীলীগের) গোলাম। কোন হেফাজত নেতাই তোর মত মাওলানার পক্ষে দাঁড়াবেনা। হেফাজতওয়ালাদের জানা আছে। হেফাজত নেতারা নেতা না, খেতা! হেফাজত নেতারা স্বার্থের কারণে আমাগো বড় নেতারা আঙুলের ইশারায় উঠে, আবার বসতে বললে বসে।’ দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাওলানা আব্দুর রহিম একাই লড়ে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি ও তার পুত্রদের আসামী করে ভূমিদস্যুচক্রটি একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে ফতুল্লা মডেল থানায়। পিতা ও পুত্রকে মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি ভূমিদস্যুরা। জমিটি দখলে নিতে এবার মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিম ও তার ৩ পুত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যার চেষ্টা ও চুরির মামলা দায়ের করেছে ভূমিদস্যুরা। সর্বশেষ ওই মিথ্যা মামলায় সোমবার ১ মার্চ দুপুরে মাওলানা আব্দুর রহিম ও তার এক পুত্রকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। আসামীপক্ষের অভিযোগ পুলিশ ভূমিদস্যুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছে।

এদিকে হেফাজত নেতা মাওলানা আব্দুর রহিম চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগের ভূমিদস্যুদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ঢি ঢি পড়ে গেছে। বোদ্ধামহলের অনেকেই বলছেন, হেফাজত নেতারা এত স্বার্থপর তাতো জানতাম না। স্বার্থের জন্য ওরা আওয়ামীলীগ নেতারা পদলেহন বাকি রেখেছে। তাছাড়া সবই করছে। তাদের নিজেদের লোক মাওলানা আব্দুর রহিম মার খাচ্ছে অথচ হেফাজতিরা তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। হেফাজতিদের ঈমান আকিদার কথা সবই ভড়ং। নইলে একজন নিরীহ মাওলানা মার খাচ্ছে আর একই দলের লোক হয়ে ওরা তামাশা দেখছে। মানুষ ওদের চরিত্রটা পুরোপুরি জানতে পারলে এক সময় ঘৃনা প্রকাশ করে থুতু ফেলবে। সেদিন বোধ হয় বেশি দূরে নয়।

এদিকে হেফাজতের নেতারা ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। বায়বীয় অভিযোগ নিয়ে একের পর এক কর্মসূচী পালন করে আসছে। কখনো আইভীকে জঙ্গি স্টাইলে হুমকিও দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়ে অস্বীকার করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। মূলত চারটি ইস্যুতে সরব ছিলেন হেফাজত ও ওলামা পরিষদের নেতারা। এগুলো ছিল মাসদাইর কবরস্থান মাদ্রাসা উচ্ছেদ, ডিআইটি মসজিদের সামনে সেতু নির্মাণ, সিদুর পড়ে আইভীর প্রণাম ও বাগে জান্নাত মসজিদ মাদ্রাসা ইস্যু। তবে মাসদাইর মাদ্রাসা নিয়ে এর পরিচালক আবু আহমেদ সিদ্দিকের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে প্রকৃত তথ্য। ডিআইটি মসজিদের সামনে কোন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল না জানান মেয়র। সিদুর পড়ার ছবিটিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন হয়েছেন জানান আইভী। ফলে হেফাজতের সামনে এখন শুধু একটা ইস্যু সেটা হলো বাগে জান্নান মসজিদ মাদ্রাসা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও