হেফাজতের হরতালে তাণ্ডব নিয়ে কথা বললেন শামীম ওসমান

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:২৮ এএম, ৩ এপ্রিল ২০২১ শনিবার

হেফাজতের হরতালে তাণ্ডব নিয়ে কথা বললেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হেফাজত তান্ডব চালালেও নারায়ণগঞ্জের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল সাহেবের সঙ্গে আমার একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। ২৫-৩০ বছর আগে নিষিদ্ধ পল্লী উচ্ছেদের সময়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ। আউয়াল সাহেব পদত্যাগ করেছিলেন শুধুমাত্র সহিংশতার কারণে। মহানগরর সভাপতি মাওলানা ফেরদাউস বলেছেন শহরে কিছুই হয়নি। যা হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ডে। আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি সিদ্ধিরগঞ্জে যে বড় মাদ্রাসা মাদানীনগর মাদ্রাসা সেখান থেকেও কোন একটি ছেলে বের হয়নি। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে একটি মার্কেট থেকে লোকজন বেরিয়েছে। তাদের ফুটেজ আমাদের সাথে আছে। মামলা সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও কাউন্সিলরের নাম এসেছে। এগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। আরেকজনের নাম আসেনি যার নাম মনির হোসাইন কাশেমী। সরকারকে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের সে সভাটি হয়েছে কাঠমান্ডু ও থাইল্যান্ডে সেখানে এ কাশেমী উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও এটা স্বীকার করেছেন। তাছাড়া আমার দলের একজন মহিলাও এর সাথে জড়িত। আমি জানি না এটা সত্য কি না। এটা পত্রিকায় এসেছে। আমাদের দল থেকে বলা হয়েছে ডোন্ট মুভ। সে কারণেই আমরা কেউ যাইনি। আমরা গেলে কেউ দাঁড়াতে পারতো না। তারা মূলত চেয়েছিল লাশ।

২ এপ্রিল রাতে সময় টিভির টক শোতে তিনি এসব কথা বলেন।

এখানে উল্লেখ্য, গত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন মনির হোসাইন কাশেমী। তিনি হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা। মনির হোসাইন কাশেমী ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন।

জানা গেছে, ২৮ মার্চ রোববার ফজরের নামাজের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর পশ্চিম ঢাল, শিমরাইল চৌরাস্তা, ইউটার্ণ, মাদানীনগর মাদ্রাসা, দশতলা ভবন এলাকা, মৌচাক, সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজতের নেতা কর্মীদের অবস্থানের কারনে যান চলাচল বন্ধ যায়। সকাল আটটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি বশির উল্লাহ শিমরাইল পয়েন্টে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে মহাসড়কে টায়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছের গুড়ি জ্বালিয়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় হেফাজতকর্মীরা। হরতাল চলাকালে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে কয়েকদফা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

সকাল সাড়ে  ১০টায় সাইনবোর্ড ও সানারপাড়  এলাকায় মহাসড়ক থেকে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। হরতাল সমর্থকরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ইট পাটকেল ছুড়লে পুলিশও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

দিনভর সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে থেমে থেমে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মোঃ শফিকুল ইসলাম (৬৭), শাকিল (৩২)  ও শাহাদাত (৩৫) নামে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও পুলিশ সদস্য এমদাদসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো ভর্তি করা হয়।

এদিকে যোহরের নামাজ আদায় করে হেফাজতের একটি অংশ। তখন হেফাজতের নেতারা সড়ক থেকে ঘোষণা দিয়েই নিজেরা সরে যেতে থাকেন। বলেন তাদের হরতাল সফল হয়েছে। হেফাজতের লোকজন চলে যাওয়ার পরেই শার্ট প্যান্ট পরিহিত একদল ব্যক্তি বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে তারা র‌্যাব পুলিশ বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়ে। শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ। বিভিন্ন পয়েন্টে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পেছনে হটে মহল্লার ভেতরে ঢুকে যায়। আবার পুলিশ কিছুটা সরে এলেই তারা পুলিশের উপর বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের বিরুদ্ধে উসকানিম‚লক নানা স্লোগান দিতে থাকে তারা।

সংবাদ সংগ্রহের সময়ে প্রেস নারায়ণগঞ্জের সিয়াম হোসাইন সৌরভ,  নিউজ ২৪ এর মৌ খন্দকার সহ ১০ থেকে ১২ জন সংবাদকর্মীর উপর হামলা করা হয়। তারা নিউজ ২৪ এর একটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এদিকে বিকেল ৫টার পরে বিজিবি, র‌্যাব ও পুিলশ যৌথভাবে এ্যকশানে গিয়ে মহাড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করলে হরতাল সমর্থক বহিরাগতরা ৩টি যানবাহনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আরো এক ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু হয়।

হেফাজতে ইসলামের হরতালে সংঘর্ষের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের থানায় অজ্ঞাত ২০০ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী ও সমর্থককে আসামি করে আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১ এপ্রিল রাতে মামলা দায়েরের কথা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান।

এর আগে হেফাজতের ডাকা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় সহিংসতার ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ বাদী হয়ে ২৯ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থনায় পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিএনপি, জামায়াতের ১৩৬ জনকে এজহার নমীয়সহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৩ হাজার ২০০ জনকে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও