অন্ধকারে বর্বর তান্ডবে আওয়ামীলীগ অফিস,বাড়ি গাড়ি হোটেল ভেঙে চুরমার

সোনারগাঁ করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৩ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০২১ মঙ্গলবার

অন্ধকারে বর্বর তান্ডবে আওয়ামীলীগ অফিস,বাড়ি গাড়ি হোটেল ভেঙে চুরমার

সকলের হাতে লাঠিসোটা, রড। নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়েই হামলা শুরু হয়। একে একে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর বাড়ি, গাড়ি, চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বাদ পড়েনি দোকানও। রাতের আঁধারে ওই ভাঙচুরের পরে রোববার দিনের আলোতে সেই ধ্বংসলীলা দেখে তাজ্জব সেখানকার লোকজন। তারাও বুঝতেও পারেনি রাতের আধারে কিভাবে এ নৃশংস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

৪ এপ্রিল বিকেলে সেই ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ হয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে। তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ধ্বংসলীলা দেখেনি কেউ। বিএনপি জামায়াতের লোকজন কদাচিৎ হামলা করলেও যেভাবে ৩ এপ্রিল রাতে হামলা করেছে সেটা অকল্পনীয়।

সোনারগাঁয়ের সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার বলেছেন, হেফাজত ইসলাম যে তান্ডব চালিয়ে আমি মনে করি এটা পরিকল্পিত একটি ঘটনা। হেফাজত ইসলামকে সামনে রেখে জামায়াত বিএনপি ও জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে হামলা করেছে। তারা হেফাজতের কাঁদে বন্দুক রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। একজন ইমানদার আরেকজন ইমাদারের উপর হামলা করতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করতে পারি না। আজ যখন আমরা প্রতিবাদ সভার করার সিদ্ধান্ত নেই তখন অনেক লোক আমাকে বলেছে হেফাজত আমাদের হামলা করতে পারে। বলেন আমাদের দল ক্ষমতায় অথচ তারা এতো সাহস পায় কোথায়? আমরা যদি নেতাকর্মীদের ডাক দেই তাহলে তো আপনারা রাস্তায় থাকতে পারবেন না। আমরা চাই শান্তি কোন উশৃঙ্খলতা পছন্দ করি না। তাই সকলকে আহবান জানাবো সংহিসতা ছেড়ে সহ অবস্থান করো নিজে ভাল থাকুন অন্যকে ভাল রাখুন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার কক্ষে মামুনুল হককে নারী সহ অবরুদ্ধ করে রাখে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ হোসাইন, জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনি সহ অনুগামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ স্থানীয় কয়েকজন। তারা মামুনুল হকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে সেখানে যান সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্টের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা রিসোর্টের প্রধান ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করতে শুরু করে। পরে কয়েকজন হেফাজতের নেতারা গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় রিসোর্টের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। আর একদল বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী উপজেলার মোরগাপাড় মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাশ, কাঁঠে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাঙচুর করে। রাত পৌনে ৯টায় পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে সরিয়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মহাসড়কে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি (রাবার বুলেট) ছুড়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কাউকে আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও