আধা পাগল থেকে অসহায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:১৮ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১ বুধবার

আধা পাগল থেকে অসহায়

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘হাজার লকডাউন দেন কারফিউ দেক কিছু লাভ হবে না যদি নিজেকে নিজে সচেতন করতে না পারি। লকডাউন দিয়ে কি হবে? কারফিউ দিয়ে কি হবে? যদি আমি বাইরে বের হতে চাই। আমি যদি মনে করি পুলিশ দেখার আগে মাস্ক খুলে রাখলাম পুলিশ দেখলে মাস্ক পরে ফেললাম। আপনি কার জন্য এমন করছেন? পুলিশের জন্য করছেন? প্রশাসনের জন্য করছেন নাকি নিজের জন্য করছেন আপনি আগে চিন্তা করেন।’

১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এসব কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনার করোনা হলো আপনি হয়তো বেঁচে গেলেন। আপনার বাবা মা, ভাই বোন বা বাচ্চার হলো এবং মারা গেলো। এই দায়িত্ব কে নিবে? তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। এবং হাদিসেও এটিই আছে। আমাদের আল্লাহর রসুলও এই কথা বলে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জাবাসীর কাছে আমার একটাই অনুরোধ যে সরকার কি করবে রাষ্ট্র কি করবে সারা পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্র কি করবে করোনা থেকে প্রটেকশনের জন্য সেটা অবশ্যই একটি সাবজেক্ট। কিন্তু তার চেয়েও বড় সাবজেক্ট হচ্ছে আমি আমার জন্য কি করব। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে একটা অনুরোধ করব দুইটা জিনিস করার জন্য। একটি হচ্ছে যার যে ধর্ম আছে সেই সেই ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। আরেকটা বিষয় হাত জোর করে অনুরোধ জানাবো দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং আপনার পাশে যে আছে তাঁকে বলুন সেও যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।’

তিনি বলেন, ‘এটা ছাড়া যে রূপ আস্তে আস্তে নিচ্ছে আমরা কিন্তু বড় ধরনের হুমকির মধ্যে পড়ে যাব। আমি জানি না যে কিভাবে মোকাবিলা হবে। আমরা বিষয়টিকে খুব হালকা ভাবে দেখছি। কিন্তু বিষয়টি খুব হালকা না। তখনি খারাপ লাগবে আমার কাছের লোক যদি এই কোভিডে চলে যায়। তখন বোঝা যাবে এটার রিয়েকশন কি। দলমত নির্বিশেষে সবাই সচেতন হোন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। টাইম মতো টিকা নেন। সরকার চেষ্টা করছে। সরকার একা কিছু করতে পারবে না। আমাদের সবাইকে মিলে মোকাবিলা করতে হবে।’

এর আগে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও নাহিদা বারিকের বিদায় অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, এই যে লকডাউন বলা হচ্ছে। আমি দেখে আসলাম কি লকডাউন আল্লাহই জানে। তিন ঘন্টা সোয়া তিন ঘণ্টা লাগলো আসতে। আসলে মানুষ বুঝতে পারছে না কি করবে আসলে। কেউ এদিক দৌড় দিচ্ছে। কেউ ওদিক দৌড় দিচ্ছে। এতোটুকু একটা দেশ ১৭ কোটি মানুষ। আপনি মানুষটাকে লুকাবেন কোথায় এটাও একটা সমস্যা। সবাই যদি স্বাস্থ্য বিধিটা মেনে চলেন। মাস্ক পড়েন। তাহলে হয়তো আল্লাহ রক্ষা করবে।

শামীম ওসমান বলেন, আমি গত বার হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে গিয়ে আধা পাগল হয়ে গিয়ে ছিলাম। এবার আমি অসহায়। আমার কাছে মনে হচ্ছে এতো অসহায় একটা মানুষ হতে পারেনা। আমি আমার স্ত্রী গিয়ে আমার একজন আত্মীয়কে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারি নাই। হাসপাতাল থেকে বললো শামীম ভাই রোগীর নাম আর মোবাইল নাম্বার দিয়ে যান। আইসিইউতে একজন রোগী আছে আজকে হয়তো বাঁচবে না। না বাঁচলে আপনার রোগী ঢুকায় দিবো। বলেন তখন কেমন লাগে।

তিনি ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে শামমি ওসমান বলেন, আগামীর দিনগুলোর জন্য আমি ভয় পাচ্ছি। সামনে রমজান মাস। চারদিকে ষড়যন্ত্র তো আছেই। এরপর করোনা একদম ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতোটা ভয়াবহ যে পিসিআর টেস্টেও ধরা পড়ছে না করোনা আছে কিনা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও