আওয়ামীলীগ নেতার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার

আওয়ামীলীগ নেতার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সাংঘর্ষিক অবস্থার মধ্যেই বুধবার ২৮ এপ্রিল রাতে স্থানীয় নামিরা মসজিদে তারাবী নামাজ চলাকালীন সময়ে এক আওয়ামীলীগ নেতার পুত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকারপুত্র খ্যাত মাকসুদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে রাজাকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে রাজাকার পুত্র আখ্যায়িত করে চেয়ারম্যান মাকসুদ কর্তৃক অসহায় মানুষদের অর্থ ও ভূমি আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাও। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের বাবা চিহ্নিত রাজাকার রফিক গংদের অগ্নিসংযোগসহ নির্মম খুনের লোমহর্ষক কাহিনী যা এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছিল। ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের বই ”শান্তি কমিটি ১৯৭১”এ রাজাকারের তালিকায় চেয়ারম্যান মাকসুদের পরিবারের ৪ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে তারা হলো তার বাবা রফিক, দাদা মাইনুদ্দীন, চাচা আব্দুল মালেক ও সামাদ। রাজাকার রফিকের জীবদ্দশায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দিন পর্যন্ত অসংখ্য নিরীহ ব্যক্তিকে খুন করা হয়। যার মধ্যে বন্দর থানার রামনগর গ্রামের মগা প্রধান (দুঃইখ্যার বাবা), ধামগড়ের আইছাইল্লা মুন্সিকে প্রকাশ্য দিবালোকে, ধামগড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির মাষ্টারের বড় ভাই গিয়াসউদ্দীন, তার নিকট আত্বীয় আমিনুদ্দীন, মতিউর রহমান এবং আবদুল হামিদকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। রাজাকার রফিক গংরা কুড়িপাড়া, ধামগড়, হরিপুর, গোকুলদাসের বাগসহ ১৮টি গ্রাম জালিয়ে দিয়েছিল। এসময় তাদের হাতে ১২ জনের অধিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে মাকসুদ বাহিনী আওয়ামীলীগ নেতা কাদির ডিলারকে হুমকী দিয়েছিল মাকসুদ বাহিনী। পরে কাদির ডিলার বন্দর থানায় জিডিও দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে কাদির ডিলারের বাড়িতে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গেও মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার অনুগামীদের নানা ইস্যুতে বিরোধ বিদ্যমান। মুছাপুর ইউনিয়নের দক্ষিনপাড়া নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের উন্নœয়ন ও কবরস্থানের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবরের সাথে মাকসুদ চেয়ারম্যানের অনুগামী একই এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার বাদ আছর উল্লেখিত মসজিদের সামনে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর ও একই এলাকার সাখাওয়াতের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির জের ধরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবুরসহ উভয় পক্ষের আব্দুর রহিম মিয়া (২২), শান্ত (২১), দেলোয়ার (৪৫), ছগির (২৭), আনোয়ার (৪৫), সিরাজ (৭০), মোকলেছ (৬০) সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় এলাকাবাসী জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বন্দর, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল সহ ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর এবং তার বড় দুই ভাই সিরাজ ও মোকলেসসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর রহমান বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সাখাওয়াত ও মনির হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবর গণমাধ্যমকে জানান, আমার বড় ভাই রিয়াজুল নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ কমিটি সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মসজিদের উন্নয়ন ও কবরস্থানে গাছ কাটার জের ধরে সন্ত্রাসী সাখাওয়াতসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সাখাওয়াত, মনির, দেলোয়ারসহ অজ্ঞাত ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার ভাতিজার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারিরা একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ক্ষতি সাধন করে পালিয়ে যায়।

পরে সরকারী নির্দেশনা লকডাউন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামবাসীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চিহ্নিত রাজাকার রফিক চেয়ারম্যানের পুত্র বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন। মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকালে মুছাপুর এলাকায় কয়েকশত গ্রামবাসীকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তিনি। যেখানে ছিলনা কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। এমনকি অনেকের মুখে মাস্কও ছিলনা। অথচ সরকার যে কোন ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এদিকে ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আওয়ামীলীগ নেতা ইসলাম পলুর পুত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাকসুদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বুধবার ২৮ এপ্রিল রাতে নামিরা মসজিদে তারাবী নামাজ চলাকালে পেছনের দরজা লাগানো নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ইসলাম পলুর পুত্র স্কুলছাত্র আলআমিনের সঙ্গে বাকবিতন্ডা বেঁধে যায় মাকসুদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে। এসময় আলআমিনকে মারধর করে মাকসুদ চেয়ারম্যান। পরে আলআমিনকে মসজিদের বাহিরে ডেকে নিয়ে মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার অনুগামী দেলোয়ারের পুত্র রবিন বেধড়ক মারধর করতে থাকে। আলআমিনের ডাকচিৎকারে মুসুল্লীরা বেরিয়ে এসে মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার অনুগামীর কাছ থেকে তাকে রক্ষা করে। এ ঘটনায় বেশী বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলে বলেও হুমকী দেয় মাকসুদ ও তার অনুগামী রবিন।

এ বিষয়ে জানতে মাকসুদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও