দুই চেয়ারম্যানের ড্যামকেয়ার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১২ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার

দুই চেয়ারম্যানের ড্যামকেয়ার

সারাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাস জনিত কঠোর লকডাউন চলছে। নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। এ অবস্থায় গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করেই বন্দরের দুইজন চেয়ারম্যান প্রতিনিয়ত নানা কর্মসূচী আয়োজন করে যাচ্ছে। তারা হলেন মুছাপরের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও কলাগাছিয়ার চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। মিছিল মিটিং বদ্ধ ঘরে জমায়েত হচ্ছে শত শত মানুষের। ফলে চেয়ারম্যানদের এ কা- দেখে সাধারণ মানুষও করোনায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে যাচ্ছে।

সবশেষ সরকারী নির্দেশনা লকডাউন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামবাসীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চিহ্নিত রাজাকার রফিক চেয়ারম্যানের পুত্র বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন। ২৭ এপ্রিল সকালে মুছাপুর এলাকায় কয়েকশত গ্রামবাসীকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তিনি। যেখানে ছিলনা কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। এমনকি অনেকের মুখে মাস্কও ছিলনা। অথচ সরকার যে কোন ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

জানা গেছে, মুছাপুর ইউনিয়নের দক্ষিনপাড়া নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের উন্নয়ন ও কবরস্থানের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবরের সাথে একই এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার বাদ আছর উল্লেখিত মসজিদের সামনে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর ও একই এলাকার সাখাওয়াতের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির জের ধরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবুরসহ উভয় পক্ষের আব্দুর রহিম মিয়া (২২), শান্ত (২১), দেলোয়ার (৪৫), ছগির (২৭), আনোয়ার (৪৫), সিরাজ (৭০), মোকলেছ (৬০) সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় এলাকাবাসী জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বন্দর, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল সহ ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর এবং তার বড় দুই ভাই সিরাজ ও মোকলেসসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মজিবর রহমান বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সাখাওয়াত ও মনির হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবর গণমাধ্যমকে জানান, আমার বড় ভাই রিয়াজুল নয়াগাও বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ কমিটি সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মসজিদের উন্নয়ন ও কবরস্থানে গাছ কাটার জের ধরে সন্ত্রাসী সাখাওয়াতসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সাখাওয়াত, মনির, দেলোয়ারসহ অজ্ঞাত ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার ভাতিজার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারিরা একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ক্ষতি সাধন করে পালিয়ে যায়।

এদিকে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে লকডাউন থাকার পরও মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকালে বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে নিজের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজাকার পুত্র মাকসুদ চেয়ারম্যান। যা নিয়ে উঠেছে বিরূপ সমালোচনার ঝড়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দিপক চন্দ্র সাহা বলেন, লকডাউন চলা অবস্থায় গ্রামবাসী নিয়ে এভাবে বিক্ষোভ মিছিল করা সম্পর্কে আমাকে কেউ জানায়নি বা পূর্বানুমতিও নেয়নি।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার বলেন, লকডাউন থাকা অবস্থায় এমন জনসমাগম করে বিক্ষোভ মিছিল সম্পর্কে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে গত এক সপ্তাহে বন্দরে পৃথকভাবে তিনদিন ইফতার পার্টির নামে গণজমায়েত করেছেন কলাগাছিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তবে তিনি এতে কৌশল এটেছেন। ইফতার পার্টির নামে মূলত নির্বাচনী প্রচারণা করলেও ব্যানারে তিনি লিখেছেন করোনা সচেতনতামূলক সভা।

খবর নিয়ে জানা গেছে, দেশের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে চরম স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের লোকজনদের নিয়ে ইতোমধ্যে তিনদিন হাজারো লোকের সমাগম ঘটিয়ে মহামারী করোনা ভাইরাস সচেতনতা বিষয়ক সভার নাম করে অসচেতন কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন চেয়ারম্যান দেলোয়ার। প্রচুর লোকজনের সমাগম যেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঘটা করে সহ¯্রাধিক লোক জড়ো করে তিনি ইফতারপার্টি ও সভা-সমাবেশ সম্পূর্ণ সরকারী নিয়ম-নীতির পরিপন্থী। এমন অসচেতন কাজ করা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সচেতন এক ব্যাক্তি জানান,সারাদেশ ব্যাপী চলছে লকডাউন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক এই ব্যাধিতে প্রান হারাচ্ছে। সরকারী স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ম্যাসেজ দেওয়া হচ্ছে। সরকারীভাবে শতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বার বার অবগত করা হচ্ছে। অথচ কলাগাছিয়া ইউনিয়নের এই প্রভাবশালী চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান যেন সুপ্রীম পাওয়ার নিয়ে চলছে। সাংসদ সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ট হওয়ায় যেন তিনি সরকারী নিয়মনীতিকেও পাত্তা দিচ্ছেন না। সহ¯্রাধিক লোক নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ইফতার পার্টি করছেন। এতে করে করোনা ঝুকিতে পড়তে পারে পুরো কলাগাছিয়া ইউনিয়ন। আমি এমন দায়িত্বহীন চেয়ারম্যানের বিরোদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও