সাখাওয়াত মারধরে বিএনপি নিরব

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৫৩ পিএম, ৩ মে ২০২১ সোমবার

সাখাওয়াত মারধরে বিএনপি নিরব

নারায়ণগঞ্জের আইনাঙ্গন থেকে উঠে আসা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন আলোচিত ও সমালোচিত নেতা হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আইন পেশার মধ্য দিয়েই তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বেশ কয়েকবার নিজ যোগ্যতাবলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার নামটি সবসময় আলোচনায় থাকে। তবে এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে সবসময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারাই আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিপক্ষ দলীয় নেতাকর্র্মীদের দ্বারা অপমান অপদস্থ না হলেও নিজ দলের নেতাকর্মীরাই তাকে অপমান অপদস্থ করেছেন। সেই সাথে বেশ কয়েকবার গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

সবশেষ নিজ দলের আইনজীবী এমনকি এসময়ে নিজের জুনিয়র অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারে হামলার শিকার হরে গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। মারধর করে তাকে গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিকটবর্তী চেম্বার থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা চালানো হয়।

কিন্তু এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিকে বরাবরের মতো এবারও নিরব থাকতেই দেখা যাচ্ছে। কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ কিংবা নিজেদের মধ্যে কোন্দল মিটানোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আর এই কোন্দল না মিটিয়ে বরং ক্ষোভ জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কিংবা মহানগরের কোনো সিনিয় নেতাকে এব্যাপারে দায়িত্ব নিতে দেখা যাচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিকটবর্তী চেম্বারে বসে বিচরকি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাখাওয়াতের উপর হামলা করেন। এসময় তাদের সাথে চাকু ছিল। এক পর্যায়ে সাখওয়াত হোসেন খানকে রক্তাক্ত করে সাথে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণের চেষ্টা চালান।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান, অ্যাডভোকেট টুটুল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আনজুম আহমেদ রিফাত সহ আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্বার করেন। সেই সাথে তারা পাল্টা অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারের উপড় হামলা করে তাকে আহত করেন। ফলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, এভাবে চাকু নিয়ে হামলা আগে কখনও হয়নি। আদালতপাড়ায় এর আগে বিভিন্ন সময় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। কিন্তু কখনও এভাবে চাকু নিয়ে কখনও হামলা করা হয়নি। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হত্যার উদ্দেশ্যই এই হামলা করা হয়েছিল। অন্যথায় এভাবে চাকু নিয়ে হামলা করার কথা না। মানসিক বিকারগ্রস্থ থাকলেই এ ধরণের হামলা করা সম্ভব।

তবে এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য হচ্ছে, একজন আইনজীবীর নেতৃত্বে আমার উপড় হামলা করা হয়। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আমি বাসায় অবস্থান করছি। ওই আইনজীবী নাম বলতে আমি ইচ্ছুক না।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার একসময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জুনিয়র ছিল। সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে শত্রুতা চলে আসে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারকে ফেল করানোর অভিযোগ রয়েছে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সম্পদের হিসাবের জন্য দুুর্নীতি দমন কমিশনে একবার চিঠিও দিয়েছিলেন শহীদ সারোয়ার। আর এসকল বিষয় মিলিয়েই মূলত তাদের মাঝে শত্রুতার সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন পূর্বেও অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ারের সাথে সাখাওয়াত হোসেন খানের তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। সবশেষ তা চূড়ান্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কিন্তু এসকল ঘটনার সুষ্ঠু সমাপ্তি চান বিএনপিপন্থী সাধারণ আইনজীবীরা। দুই পক্ষকেই একসাথে বসিয়ে সমস্যার মিটমাট চান তারা। যে দোষী হবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এ জিদ দিন দিন বাড়তেই থাকবে। সেই সাথে এই জিদ অন্যদের মাঝেও ছড়াবে। আর তাই ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেটাই সকল আইনজীবীদের চাওয়া।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও