রাজনীতিতে তাঁরা ফ্যাক্টর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:০২ এএম, ৪ মে ২০২১ মঙ্গলবার

রাজনীতিতে তাঁরা ফ্যাক্টর

নারায়ণগগঞ্জ আওয়ামী লীগ অঘোষিত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করে আসছে। এর মধ্যে একটি বলয়ে বর্তমানে একটি বলয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম। যেটাকে বলে থাকে ওসমান বলয়। অন্য বলয়ের বর্তমান নেতৃত্ব রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যেটাকে বলা হয়ে থাকে চুনকা বলয়। এই দুই বলয়কে ঘিরেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে এই দুই বলয়েরর আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে কিংবা আশ্রয় প্রশ্রয়ের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে এমন কয়েকজন রাজনীতিবিদের সৃষ্টি হয়েছে যারা বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই স্ব স্ব মহিমায় বলীয়ান হয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। রাজনীতিতে সুবিধা জনক অবস্থান নিতে হলে তাদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িযেছে।

এই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, জাতীয় শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুু সুফিয়ান।

জানা যায়, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর যখন তরুণ তখন তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বহুবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্র্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে দুই দশকের প্রায় সকলেই জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদে অধিষ্ট হয়েছেন। অনেকেই পেয়েছেন সম্পাদকীয় পদ। কিন্তুআওয়ামীলীগে নামে মাত্র সদস্য পদে দিপুকে রাখা হলেও তাকে শীর্ষ পদে রাখা হয়নি। যা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে বিস্ময়ের বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছিল। যদিও পরবর্র্তীতে নিজ শক্তিবলে আনিসুর রহমান দিপু কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে জায়গা করে নেন। সেই সাথে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও একটি ভাল সম্পর্কে গড়ে তুলেন। ফলশ্রুতিতে আগামী দিনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অথবা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্র্থী হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেন।

নেতাকর্র্মী সূূত্র বলছে, আনিসুর রহমান দিপু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা পরামর্শক ছিলেন। তবে বর্তমানে শামীম ওসমানের সাথে তার আগের মতো সম্পর্ক নেই। অনেকটা একাই নিজেকে বলীয়ান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে দেখা গেলেও তেমন একটা সক্রিয় না। কিন্তু ওসমান বলয় কিংবা চুনকা বলয় দুুই বলয় থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুকে তাদের বলয়ে সক্রিয়ভাবে ভিড়ানোর জন্য।

একই সাথে অনেকটা তরুন বয়সেই ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্র্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। কিন্তু পরবর্তীতে তার ইমেজে কিছুটা ঘাটতি চলে আসে। ফলে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনগুলোতে দল থেকে মনোনয়ন পাননি কায়সার হাসনাত। সেই সাথে তাকে অনেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিন পার করতে হয়। তবে বর্র্তমানে তার সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে শীর্ষ পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে তার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছেন।

এদিকে জাতীয় শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ সকল বাধা বিপত্তিকে মোকাবেলা করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে এগিয়ে চলছেন। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন কাউসার আহমেদ পলাশ। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে সেই ছাত্র জীবন থেকেই তাকে নির্যাতন নীপিড়ন সহ্য করতে হয়েছে। ছাত্রজীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলেও কর্মজীবনে এসে তিনি ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগুতে থাকেন। ছাত্রজীবন শেষে কাউসার আহমেদ পলাশ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন। যেখানেই শ্রমিকদের উপর অত্যাচার অনাচার অবিচার সেখানেই ছুটে যান তিনি। সেই সাথে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে লক্ষ শ্রমিকের হৃদয়েও স্থান করে নিয়েছেন কাউসার আহমেদ পলাশ। ফতুল্লা এলাকায় তার রয়েছে একছত্র জনপ্রিয়তা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সুনজরে রয়েছেন তিনি। ফলশ্রুতিতে দিন যতই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় এলাকায় ততই পোক্ত হচ্ছে তার অবস্থান। কোন বাধাই কাউসার আহমেদ পলাশকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে স্থানীয় সকল কর্মসূচিতেই থাকে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথেই রয়েছে তার সুসম্পর্ক।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন আলোচিত নেতা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান। প্রায় অনেকটা আশ্চর্যজনক ভাবেই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদে তিনি জায়গা করে নেন। সাংগঠনিক পদে এসেই তিনি একের পর এক চমক দেখিয়ে যেতে থাকেন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা দাবী নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। বর্র্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় তরুণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন শেষে এবার তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে তার উজ্জল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রয়েছে। জিএম আরাফাত ১৯৯১ সালে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে শ্লোগানে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই তার রাজনীতি শুরু। ওয়ান এলিভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিছিল বের করে জিএম আরাফাত। সেই মিছিলের ঘটনায় জিএম আরাফাতকে জরুরী আইনের বিধিতে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ভবিষ্যত আরও গুরুত্বপূূর্র্ণ জায়গায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও