নারায়ণগঞ্জ থেকে কাশিমপুর কারাগারে মামুনুল হক

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২৩ পিএম, ৫ জুন ২০২১ শনিবার

নারায়ণগঞ্জ থেকে কাশিমপুর কারাগারে মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে ধর্ষণ ও নাশকতার অভিযোগে ৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে শেষে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

৫ জুন শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। পুলিশ কোন মামলায় পুনরায় রিমান্ড আবেদন না করায় আদালত মামুনুল হককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ১৮ মে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে রিমান্ডে আনা হয়। প্রথম ৩দিন কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা সম্পর্কে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক আরো ৫টি মামলায় পুলিশ,সিআইডি ও পিবিআই মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ৬টি মামলায় ৬জন তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কোন মামলায় মামুনুল হক আদালতে দোষস্বীকার করে জবানবন্দি দেয়নি। সবশেষ পিবিআইয়ের তিন দিনের রিমান্ড শেষে সকালে মামুনুল হককে আদালতে হাজির করে পিবিআই। পরে আদালত শুনানী শেষে মামুনুল হককে কেন্দ্রীয় কারাগারে (কাশিপুর) পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, ‘রিমান্ডে মামুনুল হক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিন তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে এসব তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

এর আগে ৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন এক নারী। যাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছিল। সবশেষ গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে তাকে ধর্ষণ করা হয়।’

প্রসঙ্গত ৩ এপ্রিল ‘বিকেল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার কক্ষে মামুনুল হককে নারী সহ অবরুদ্ধ করে রাখে উপজেলা যুবলীগের, ছাত্রলীগ সহ স্থানীয় কয়েকজন। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুর করে নারী সহ মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামীলীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক একটি মামলা দায়ের করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরো তিনটি মামলা দায়ের করেন। ৬টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।

এছাড়াও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ সহ সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশের ৫টি ও র‌্যাবের একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআই ও সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিআইডি সিদ্ধিরগঞ্জের দুটি মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও