ঝর্নার সঙ্গে বিয়ে বৈধভাবে হয়নি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৪২ পিএম, ৬ জুন ২০২১ রবিবার

ঝর্নার সঙ্গে বিয়ে বৈধভাবে হয়নি

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নার দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার ৬ জুন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ।

সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে ধর্ষণ ও নাশকতার অভিযোগে ৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে শেষে ৫ জুন হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার জায়েদুল বলেন, জান্নাত আরা ঝর্না ধর্ষণের মামলায় মামুনুল হক নিজেই ফেসবুক লাইভে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বৈধভাবে বিয়ে করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা সত্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। আশা করি আদালতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা অভিযোগ পত্র দাখিল করবো। বাদিনী রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন। আশা করি বাদিনী ন্যায়বিচার পাবে।

গত ১২ মে সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ধর্ষণ ও সহিংসতার চারটিসহ পাঁচ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি মামলায় তিনদিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে ১৭ মে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মামলার আরো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন এক নারী। যাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছিল। সবশেষ গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে তাকে ধর্ষণ করা হয়।’

প্রসঙ্গত ৩ এপ্রিল ‘বিকেল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার কক্ষে মামুনুল হককে নারী সহ অবরুদ্ধ করে রাখে উপজেলা যুবলীগের, ছাত্রলীগ সহ স্থানীয় কয়েকজন। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুর করে নারী সহ মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামীলীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক একটি মামলা দায়ের করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরো তিনটি মামলা দায়ের করেন। ৬টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও