জুয়েলেই সূচনা উন্নয়নের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৪৮ পিএম, ৯ জুন ২০২১ বুধবার

জুয়েলেই সূচনা উন্নয়নের

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আলোচিত একটি নাম অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। যে নামটি উচ্চারণ হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে অনুপ্রেরণা কাজ করে। জুয়েলের হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে উন্নয়নের সূচনা হয়েছিল। আইনজীবীরা বুনেছিলেন স্বপ্নের জাল। সেই সাথে সে স্বপ্নের বাস্তব রূপও দেখেছিলেন আইনজীবীরা। আগামী দিনে তাকে আবারও অভিভাবক হিসেবে চান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম হচ্ছে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। তার মাধ্যমে নায়ণগঞ্জের হাজারো আইনজীবী আলোকিত স্বপ্নের ছোঁয়া পেয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের দেখিয়েছেন কিভাবে সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে নিজ লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে নিজ দলীয় সমর্থিত আইনজীবীরাও বিভিন্নভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপরেও তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে স্থির ছিলেন। আর এই কার্যকরি ভূমিকায় অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে এনে দিয়েছে আইনজীবী সমিতির ‘ডায়নামিক’ সভাপতি। আর এই ডায়নামিক সভাপতি হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল।

জুয়েল আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা দুই মেয়াদ ধরে জেলা আইনজীবী সমিতির কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছেন। তার তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সঙ্গ দিয়েছেন আরেক তরুণ আইনজীবী মোঃ মোহসীন মিয়া। তাদের হাত ধরে আইনজীবী সমিতিতে ডিজিটালাজেশনের ছোঁয়া লেগেছে। সমিতির ওয়েবসাইট হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সময়ে।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসীন মিয়ার মেয়াদে জেলা আইনজীবী সমিতির ৮ তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আর এই কাজের শুরু করতে গিয়ে তাদেরকে বহু বাধা বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়েছে। অনেক সময় নিজ দলীয় সমর্থিত আইনজীবীরাও তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন। এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোহসীন মিয়া। ফলে ভবন নির্মাণের জন্য সমিতির ফান্ডে হাত দিতে হবে না। পাশাপাশি আদালতপাড়ার আইনজীবীদের অন্যতম সমস্যা দুই কোর্ট একসাথে রাখার ব্যাপারেও কার্যকরি ভূমিকা রাখা হয়েছে জুয়েলের সময়ে।

আইনজীবীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও কল্যাণকর বেনাভোলেন্ট ফান্ড করেছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। কিন্তু এ ফান্ড করতে গিয়ে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছিল জুয়েলকে। অথচ আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবীদের কল্যাণে যে সব ফান্ড হয়েছিল ওইসব ক্ষেত্রে বেনাভোলেন্ড ফান্ডই সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে অনেকেই বিরোধীতা করলেও পরবর্তীতে সকলেই মত দেন। সিনিয়র অনেক আইনজীবীরাও এ ফান্ড গঠনে বিরোধীতা করেছিলেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অনুষ্ঠানে এ ফান্ড নিয়ে কথা বলতে গেলে জুয়েলের মাইক কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও হয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েনি জুয়েল। আজ সেই জুয়েলের আপ্রাণ চেষ্টার কারনেই এ ফান্ড হয়েছে। আজকে একজন আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলে যিনি ২০ বছরের বেশি আইন পেশায় ছিলেন তার পরিবার সাড়ে ১১ লাখ টাকা পান। এটা আগে কখনও ছিল না। একই সাথে এটা দিন দিন বাড়তে থাকবে।

আইনজীবীদের জন্য ডিপিএস হয়েছে। ফলে একজন আইনজীবী যখন খুশি এই টাকা ভাঙ্গাতে পারবে আবার এই টাকা রেখে দিতে পারবে। একটা অংকের টাকা বারে জমা দিবে আবার বার তার সম অংকের টাকা ওই আইনজীবীকে প্রদান করবে। তার যখন ইচ্ছা ভাঙ্গাতে পারবেন। কাজেই আইনজীবীদের যেসব ন্যায্য দাবি রয়েছে তা জুয়েল মোহসীনের নেতৃত্বেই হয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের আয়ের উৎস কেবল হাজিরা, ওকালতনামা এগুলো। বাকী যেগুলো সমন নোটিশ ছাড়া হয় সবগুলো আইনজীবী সমিতি থেকে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রতি বছর আয় হয়ে থাকে। আর এই টাকা চলে যায় আইনজীবীদের স্বার্থে আইনজীবীদের ডিপিএসে। তাদের কল্যাণের জন্য।

একই সাথে আইনজীবীদের জন্য স্মার্ট, আইডি র্কার্ড ও ডাইরেকটরি তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের মেয়াদে। ডাইরেকটরিতে সকল আইনজীবীদের ছবি সহ সংক্ষিপ্ত পরিচয় উল্লেখ করা থাকবে। সেই সাথে প্রত্যেক আইনজীবী সম্পর্কে তথ্য আইনজীবী সমিতির ওয়েব সাইটে দেয়া থাকবে। যার মাধ্যমে বিচার প্রার্থী যে কোন সময় আইনজীবীকে মুহুর্তেই খুুজে পাবেন। যে কোন বিচারপ্রার্থী পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে গুগুলে সার্চ দিয়েই নারায়ণগঞ্জের যে কোন আইনজীবীকে খুজে পাবেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু অন্য কোন মেয়াদে আইনজীবীদের সে সকল স্বপ্ন ধরা দেয়নি।

প্রতিবারই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়ণের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনী চৈতরণী পার করতেন প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী আইনজীবীরা। কিন্তু কোন বেলায়ও আইনজীবীদের সে সকল স্বপ্ন পূরণ হতো না। এর আগেও বহুবার সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনবারই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। আর সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের হাত ধরে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও