আলোচনায় চার নবীন প্রবীণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৭ পিএম, ১২ জুন ২০২১ শনিবার

আলোচনায় চার নবীন প্রবীণ

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আরও অনেক আগেই। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা অনেকদিন আগেই। কয়েকদিন পর পরই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে আলাপ আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন আর হয়ে উঠে না। তবে এবার যে কোনো সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে চারজন আলোচনাতেও রয়েছেন। আর এই চারজনের মধ্যে হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

এই চারজন ঘিরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চলছে নানা আলাপ আলোচনা। এই চারজনের নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি আসার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও কমিটির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই চারজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। কারণ যোগ্যতা ও ত্যাগ তিতিক্ষার দিক দিয়ে তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামে উত্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অনেক আলাপ আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগেরও ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে দেখা হচ্ছে।

তারই অংশ হিসেবে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন। সেদিন তারা সারাদিনব্যাপী বর্ধিত সভা করবেন। বর্ধিত সভা শেষে কমিটি গঠন নিয়েও আলাপ আলোচন হতে পারে। অথবা ওই বর্ধিত সভার আগেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এর বক্তব্য হচ্ছে, কমিটির মেয়াদ তো শেষ হয়ে গেছে। এখন কেন্দ্র ইচ্ছা করলে যে কোনো সময়ই কমিটি বিলুপ্ত করতে পারেন। চলতি মাসের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য। তারা শুধুমাত্র কমিটি গঠন নিয়ে কথা বলার জন্য আসবেন ঠিক তা না।

কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করা হবে। দলের কেন্দ্রীয় ২২তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এখন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। এ জন্য দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ আগামী বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে চায় দলের নীতিনির্ধারকরা। সে জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৩০ জেলার সম্মেলন হয়েছে। বাকি ৪৮ জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই এসব মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার সম্মেলন শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দলের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করা হবে।

সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিলুপ্ত শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতেও সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে ছিলেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা। কমিটির মেয়াদ ছিল ২ বছর। কিন্তু পার হয়ে গেছে ৭ বছর।

একই সাথে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল একের পর এক নানা ঘটনায় বিতর্কিত হতে থাকেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাদেরকে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। সবশেষ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা বিভিন্ন থানা উপজেলা কমিটি গঠনেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল তৃণমূলের মন জয় করতে পারেনি। তারা তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা দেখাতে পারেনি। সবসময় প্রভাবশালী নেতাদের মতামতের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে।

অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর তাদের অধিনে প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি ২০১৭ সালের মে মাসে গঠন করা হবে বলে ঘোষণা করা হলেও কমিটি গঠনের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের কয়েকটি ওয়ার্ডের পদপ্রার্থীরা। কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগও তাদের চোখে পড়ছেনা বলে জানান তারা। ইতোমধ্যে বছর তিনেক পেরিয়ে গেলেও কমিটির কোন লক্ষণ দেখছেন না নেতাকর্মীরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও