কে সেই লোক শামীম ওসমানকে ধমক দেয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০১ পিএম, ১৬ জুন ২০২১ বুধবার

কে সেই লোক শামীম ওসমানকে ধমক দেয়

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার পরে যখন ওবায়দুল নামের একজনকে থানায় আটক করে নিয়ে যায় তখন থানার ওসির ড্রয়ারে একটি শক্তিশালী বোমা পাওয়া জানিয়েছেন ওই হামলায় আহত শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে এসে সেই দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন সেই ঘটনায় আহত শামীম ওসমান।

মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের সময়ে ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, চাষাঢ়ার পাশেই মিশনপাড়া এলাকার ওবায়দুল সঙ্গে ছোটকাল থেকেই আমার পরিচিত। তার কোলেও উঠেছিল। ২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে এসেছিলেন ওবায়দুল। এসে বলেছিলেন যে তার ছেলে ও মেয়েরা আমেরিকা যাবে আমি যেন কাগজে সুপারিশ করে দেই। কিন্তু আমি তখন হাতের সেই আবেদন পড়ে দেখলাম ইংরেজীর অনেক ভুল। তাছাড়া আমাদের সাক্ষরে এভাবে ভিসা হয় না। আমাদেরকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে ভিসার আবেদন করতে হয়। আর এ ধরনের ভুল আবেদন দেখলে ভিসা এম্বেসী আমাদের খারাপ ভাববে। এক পর্যায়ে তিনি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিতে বললেন। আমি বললাম, কাল সকালে আপনার বাসায় দিয়ে আসবো। তিনি আবার উত্তেজিত হয়ে বললেন এখনই দিতে। ওই সময়ে উবায়দুল হঠাৎ করেই আমার সামনের টেবিল চাপড়ে উঠে বলেন, ‘আমার জন্য কেন সুপারিশ করবে না, দিবে না কেন, আমরা তোমার মহল্লার লোক। আমাদের জন্য না করলে কার জন্য করবে?’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি তাকে বার বার বলি যে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সাংসদদের সুপারিশে ভিসা দেয় না। তার পরও উবায়দুল হক সুপারিশের জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকেন। টেবিল চাপড়ানো দেখে আশেপাশের লোকজনও বলে উঠে কে এ লোক যে শামীম ওসমানকে ধমক দেয়। আচরণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উঠেন রুমে থাকা অন্যরা। তারা অনেকটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন উবায়দুল এর দিকে। টেবিল চাপড়ানো ওবায়দুল পরে গ্রেপ্তার করলেও সে জামিনে রয়েছেন। আমি বার বার সিআইডি ও পুলিশকে বলেছিলাম। তারা বলেছিল যে নজরদারীতে আছে। কিন্তু কখনো তাকে দেখলাম না। পরে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন। তার কিছুক্ষণ পরই ঘটলো বিস্ফোরণের ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরেই আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম ওবায়দুলের বাড়িতে যেতে এবং পাসপোর্ট রয়েছে কিনা চেক করতে। তদন্তে দেখলো পাসপোর্ট নেই। পরে পুলিশ ওবায়দুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর পরেই স্বজনেরা থানায় গিয়ে হৈ চৈ করে। ওই সময় পুলিশও দ্বিধায় ছিল এ বৃদ্ধ মানুষ এই কাজ কেন করবে। কাজটা ঠিক হলো কিনা। রাতে ওসি বেরিয়ে গেলেন কিন্তু ওবায়দুল সাহেবের পরিবার সারারাত ছিল। পরদিন সকালে ওসি থানায় গিয়ে দেখে ড্রয়ারের মধ্যে একটি শক্তিশালী প্লাস্টিকের বোমা। সারাদেশে পরে যে ৬৩ জেলায় বোমা হামলায় হয়েছিল তার সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল।’

তিনি বলেন, রক্ত কত গরম তা অনুভব করেছিলাম। বোমাটি যখন বিস্ফোরণ হল তখন মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। আমার আশেপাশে কারো ছেড়া হাত, পা বা কারো মাথা। সিলিং ঝুলে আছে ছিন্ন ভিন্ন মানবদেহ। আর চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। পরক্ষণেই জ্ঞান হারাই। আমি প্রথম জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আমার ওপর হামলার পরেই কিন্তু ২১আগস্ট নেত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। সমস্যাটা হলো আমি আগে বলি পরে সবাই বুঝতে পারে।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘হাসপাতালে নেওয়ার পরে তো আমার ধারণা ছিল আমি মরে গেছি। কিন্তু আমার বুকে আল্লাহপাকের একটি কালাম ছিল। সেটা যখন ছুয়েছিলাম তখন বুঝেছি যে মরি নাই।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও