রাজনীতির কালো অধ্যায়

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:১৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার

রাজনীতির কালো অধ্যায়

রাজনৈতিক মামলার আসামী হওয়ার কারণে স্ত্রীর জানাযায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তাদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করছেন।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল আলম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন।

সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক আয়েশা আক্তার দিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কি নির্মমতা এই পরিবারটি আজ বয়ে বেড়াচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হেফাজতের মামলায় ফেরারী জিবন কাটাচ্ছেন সাংসদ গিয়াস ভাই ও তার ছেলেরা। নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে গিয়াস ভাই এর ছেলেরা কখনো কোন রাজনীতি তে ছিলেন না তৃতীয় ছেলে রিফাত বিএনপির প্রোগ্রাম গুলিতে অংশগ্রহণ করলেও তা কোন আত্মঘাতী বা কারোর জন্য ক্ষতির কারণ হয় বা দেশের জন্য সমস্যা তৈরি হয় এমন রাজনীতি করতেন না। গিয়াস ভাই এর চার ছেলে। কখনো কোন সন্তানকে দেখিনাই এমপির ছেলে বলে দাম্ভিকতা বা কখনো দেখিনাই কারো সাথে বেয়াদবি তো দুরের কথা কারো মনে সামান্য কষ্ট দিয়েও কখনো কথা বলে নাই। অথচ এই পরিবারটি ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি এই সরকারের হামলা মামলা সহ নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছে।’

জেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘হেফাজতের মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ দিন যাবৎ ফেরারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন ভাই তার প্রিয় সহধর্মিণীর শেষ বারের মতো মুখ ও তার জানাজায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি। এমনকি তার ছেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের জনগণের ভোটে নিবার্চিত কাউন্সিলর সাদরিল তার মায়ের মুখ ও জানাজায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি। এটা নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতির কালো অধ্যয় হিসাবে কিন্তু দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন ‘চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ গিয়াস উদ্দিন সাহেবের স্ত্রী। কিন্তু হেফাজতের মামলায় ফেরারী থাকার কারণে জানাযায় অংশ নিতে পারেননি মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলে মো সাদরিল। এই বিষয়টা কতটা কষ্টদায়ক একমাত্র তারাই বলতে পারবেন। গিয়াস উদ্দিন ভাই রাজনীতি করলেও তিনি কোনো সহিংসতার সাথে জড়িত থাকতে পারেন না। তিনি খুব ভদ্র মানুষ। তার ছেলেরা অত্যন্ত নীরিহ। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে তাদেরকে এই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই নির্মমতার মুখোমুখি একদিন তাদের ও হতে হবে যারা আজ এই পরিবারটির সাথে করেছেন। কারণ আল্লাহ পাক ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেননা।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও