আওয়ামী লীগের খুদকুঁড়া খায়!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫১ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১ সোমবার

আওয়ামী লীগের খুদকুঁড়া খায়!

বৃহত্তর ফতুল্লা অঞ্চলে প্রকৃত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা অবহেলিত। পদে পদে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। চাষাঢ়ার আশীর্বাদ প্রাপ্ত নেতারা অধীনস্তদের আজকাল আর পাত্তা দিতে চান না। দলের কাজেও সময় থাকে না নেতাদের। নেতারা ব্যস্ত হাইব্রীডদের নিয়ে।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল পোড় খাওয়া নেতাদের একজন। বিগত বিএনপির সময়ে তিনি রাজনীতি করতে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করেছেন। তখন শামীম ওসমান দেশের বাইরে। প্রতিটি এলাকাতে গিয়ে নিয়মিত সভা করতেন। তার মোবাইলে সদূর আমেরিকা, কানাডা ও ভারত থেকে নিয়মিত শামীম ওসমান মোবাইলে ভাষণ দিতেন। বিপর্যয়ের মধ্যেও দলকে চাঙ্গা রাখতেন। সঙ্গে ছিলেন শওকত আলী। এর জেরও পরে দিতে হয় নিজ দল ক্ষমতায় আসার পরেও। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন সারাহ বেগম কবরী। তাঁর জন্য খাটেন বাদল শওকত সহ অনেকেই। বিনিময়ে পরে শওকতকে হাতকড়া পড়িয়ে গ্রেপ্তার করান কবরী। বাদলকে চেষ্টা করেন হেনস্থা করতে। কিন্তু ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকাতে এখন হাইব্রিডদের ছড়াছড়ি।

পোড় খাওয়া কয়েকজন প্রবীণ নেতা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আওয়ামীলীগ নেতারা কখনোই এমন ছিলেন না। সঙ্গদোষে তাদের আচার-আচরণ অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। দলের ভাইটাল পদে থাকা নেতারা অনুজদের এড়িয়ে চলেন। কারণ, অনুজরা যদি ভাগ চায়। বড় নেতারা সারাক্ষণ ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এলাকার জমিজমার দালালি থেকে শুরু করে ড্রেজার ব্যবসা, নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসা, ডিসলাইন ও ইন্টারনেট ব্যবসা-সমস্তটাই বড়দের হাতে। ছোটরা দলের খুদকুঁড়াও পায় না। দলের খুদকুঁড়া খেয়ে বেড়ে উঠছে হাইব্রিড নেতারা। যারা সারাক্ষণ বড় নেতাকে কুর্নিশ করে চলে। এসকল হাইব্রিড নেতারা দলের নাম ভাঙ্গাতে পটু। ইদানিং অপকর্ম বাড়ছে। প্রকৃত নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন।

হাইব্রিড নেতাদের রাজত্ব চলছে ফতুল্লা জুড়ে। থানা কমিটিতেও অনেকে পদ-পদবী বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ফতুল্লা আওয়ামীলীগের দুই দিকপাল থাকেন দুই প্রান্তে। সভাপতি থাকেন কাশীপুর ইউনিয়নে। সাধারণ সম্পাদক থাকেন বক্তাবলী ইউনিয়নে। দু’জনেরই যথেষ্ঠ বয়স হয়েছে। বয়সের কারণসহ নানা কারণে দুজনে দলের শাখা-প্রশাখার খবর রাখেন না। তাদের ঘিরে থাকে হাইব্রিড নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লা থানার অন্তর্গত বক্তাবলী, এনায়েতনগর, কাশীপুর, গোগনগর, মাসদাইর, ভোলাইল, বাংলাবাজার, নবীনগর, চর নরসিংপুর, মধ্যকাশীপুর, শ্রীধরদি, বারৈভোগ, ইসদাইর, গাবতলী, টাগারপাড়, লালপুর, কুতুবপুর, পাগলা, নয়ামাটি, নামাপাড়া, শেয়াচর, নন্দলালপুর, চিতাশালসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিটি মহল্লায় কিশোর গ্যাং এর দাপট। যে কোন অপকর্ম করার পর খোঁজ নিলে কান টানতে মাথা চলে আসার মত চলে আসেন হাইব্রিড আওয়ামীলীগ নেতা। নেতাজি দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে নানান অপকর্ম করছেন। জমির দালালীতেও আজকাল নেতারা প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছেন। এলাকায় কোন জমি বা বাড়ি ঘর বিক্রির তথ্য পেলেই নেতারা লোক পাঠায়। জমির মালিককে আওয়াজ দেয়-‘ধাপনার জমিতে সমস্যা আছে। আপনি এই জমি বেচতে পারবেন না। আপনার পাশের অমুক বিচার দিছে। জমি বেচলে আমাগো জানাইবেন।’ এমন কথার পর শোনা যায়, নেতারাই ওই জমিটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন। ত্রিশ লাখ টাকার জমি থেকে তারা কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে কমিশন হিসেবে।

সূত্রমতে, প্রথমে নেতারা জমিতে যে সমস্যার কথা বলেছিল-সেটা ছিল ভুয়া কথা ! আসলে ওরা বিষয়টাতে বাগড়া দেয়ার জন্যই ওই প্রসঙ্গ তোলে। মহল্লায় ওদের না জানিয়ে বাড়ি ঘর বিক্রি করতে গেলে ওরা সমস্যা তৈরী করে। সম্ভাব্য ক্রেতারা বাড়ি দেখতে আসলে ওরা লোক পাঠিয়ে ভুল তথ্য দেয়। কখনো মিথ্যা তথ্য জুড়ে দেয়। যখন ওরা বেচাকেনার বিষয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়-তখন আবার ভেজাল জমিও হয়ে যায় নিষ্কন্টক। হাইব্রিড নেতারা মানুষকে নানাভাবে দেখাচ্ছে ভেল্কি। তিলকে তাল আবার তালকে তিল করতে ওরা ওস্তাদ! মহল্লায় যত গ্যাঞ্জাম সৃষ্টি করে হাইব্রিড নেতাখেতা ও তাদের চামচারা টাকা কামাই করছে। আজকাল চায়ের দোকানে বসলেও প্রবীণ নেতাদের টিপ্পনী শুনতে হয়। অনেকে বলে উঠেন, ‘আসল নেতাগো দিন শেষ। দেহছনা বিএনপি ও অন্যদলের চোর চোট্টারা আওয়ামীলীগে নাম লেখাইছে। ওরা কত ঢং ফং করতে জানে। নেতাগো ধান্দা দেখায়। মাসে মাসে নজরানা পাঠায় নেতার বাড়িতে। নেতারে তেল মারে। আর জনগনের পকেট মারে। ওরাই এখন আসল নেতা। যতদিন দল ক্ষমতায় আছে ওরা আওয়ামীলীগ করবো। অন্য কাউরে আওয়ামীলীগ করতে দিবনা। হাইব্রিডরাই দল কব্জা কইরা লইবো।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও