নৌকা ডুবাতে চান আওয়ামী লীগ নেতা, নীরব ছিলেন সেক্রেটারী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩২ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২১ শুক্রবার

নৌকা ডুবাতে চান আওয়ামী লীগ নেতা, নীরব ছিলেন সেক্রেটারী

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চলছে আলোচনা সমালোচনা। যেখানে তিনি বলেছেন নৌকা একটি প্রতিক। নৌকা প্রতিকের দরকার নেই। নৌকা পাইলেও পাশ করামো না পাইলেও পাশ করামো। সেই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল স্ব শরীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সে সময়ই কোনো প্রতিবাদ করেননি। আর তার এই নিরব থাকা যেন নৌকা প্রতিককে ডুবাতে সায় হিসেবে ধরে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় গোগনগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আর ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল। তার সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফজর আলী। যার বিরুদ্ধে বিএনপি করার অভিযোগ রয়েছে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। সেই সাথে মঞ্চে আরও অনেক উপস্থিত ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘ফজর আলীকে (গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী) আমরা আপনারা সকলে মিলে নৌকা পাইলেও পাশ করামো না পাইলেও পাশ করামো। যদি সম্ভব হয় ফজর আলী ভাইকে আমপাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করামো। ফজর আলী ভাইকে পাশ করিয়ে নিবোই। নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। ভোট দিবেন আপনারা। ভোট দিব আমরা। ফজর আলী ভাইয়ের দিকে দৃষ্টি রাখবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৪৯ বছর ধরে পার্টির সেক্রেটারী বিভিন্ন পদে। কোনো দিনও আমার সম্পর্কে কেউ সমালোচনা করছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু এইবার ইচ্ছামতো করছে। কেন করছে জানেন? নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের কান্ডারী নারায়ণগঞ্জের বীরপুরুষ নারায়ণগঞ্জের অহংকার যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চলে সেই নেতা (শামীম ওসমান) আমাকে হুকুম দিয়েছে এই পদ্ধতিতে কাজ করবেন। আমি সেই পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা এখানে নাই। আমার কোনো চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। জীবনে কোনোদিন চাই নাই কোনোদিন চাইবও না। আমাকে শামীম ওসমান বলেছে আরে আপনি চেয়ারম্যান দিছিলাম। গত নির্বাচনে আমি নমিনেশন পেয়েছিলাম সেই নমিনেশন জসিমকে দিয়েছি। আমার গলায় ধরে কান্নাকাটি করে নিয়েছে। শামীম ওসমান বলেন উনি পাশ করবে না। আমিও পাশ করবো না। শামীম ওসমান বলেন আপনি পাশ করবেন। আমাকে কাটতে হবে।’

আল মামুন বলেন, সেই ভদ্রলোক (জসিম উদ্দিন) চাইনিজ হোটেলে বসে মিটিং করেছিলাম। সেখানে বলেছিল গতবার আপনাদের সাথে যেভাবে ছিলাম এবারও দিগুণভাবে থাকবো দয়া করে নৌকা প্রতিক পাইয়ে দেন। আমি জসিমকে (গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী) বলেছিলাম নারায়ণগঞ্জে নৌকা প্রতিকের নমিনেশন দিবে ওসমান পরিবার। আমরা দিতে পারবো না আমার সভাপতিও দিতে পারবো না। আপনি ওসমান পরিবারের দিকে তাকান। সেখান থেকে যদি আপনি নমিনেশন আনতে পারেন নৌকা দেয়া আমাদের জন্য কোনো অসুবিধা হবে না। যিনি নৌকা পাবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ইঙ্গিতে কাজ করছেন উল্লেখ করে মামুন বলেন, ‘ফজর আলী সাহেবকে আজ থেকে ৮ মাস পূর্বে আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন শামীম ওসমান সাহেব। মামুন ভাই এবার আপনি নির্বাচন কইরেন না। এবার আমি ফজর আলীকে নমিনেশন দিবো। ফজর আলীর পক্ষে কাজ করেন। সেই সুবাধে আমি ফজর আলীর পক্ষে উনার অফিসে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করি। পত্রিকায় লেখা হয় লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ফজর আলীকে নমিনেশন দিয়েছে। আামি তাদের উদ্দেশ্য বলবো নৌকা প্রতিক দেয়ার ক্ষমতা আদৌ আমার আছে কি? নৌকা দেয়ার মালিক যিনি উনি নারায়ণগঞ্জে আছেন। উনি দিলে সেটা যাবে গণভবনে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকা মার্কা দিবে তিনিই নির্বাচন করবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ফজর আলী ভাই আওয়ামী লীগ করে না হাইব্রিড নেতা। হাইব্রিড অর্থ কি? ২০০১ সালে ফজর আলীর বাড়িতে র‌্যাবের বড় টিম এসেছিল তাদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে তছনছ করেছে। ফজর আলী প্রতিটা সময়ে আওয়ামী লীগকে বড় বড় ডোনেশন দেয়। এই যে যার দরুন শামীম ভাইয়ের নির্দেশ মোতাবেক এই নেতাকে আমরা থানা আওয়ামী লীগে পদায়ন করেছি।’

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘এগুলো অগঠনতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক কথাবার্তা। দলের নিয়ম কানুন আছে। নৌকা প্রতিক থানা অবস্থায় অন্য প্রতিক পাশ করাবে কেন? নৌকা না থাকলে বলতে পারতো। এগুলো গাঁয়ের জোরের কথা। নৌকা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। নৌকা প্রতিকের মূল্য রয়েছে। সে যদি ক্ষমতাশালী হয়ে তার যা ইচ্ছা বলতে পারে। কিন্তু এগুলো বলা ঠিক না।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে মিটিং কল যাচ্ছে না। মিটিং হলে এসকল বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে। এসকল বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি তো একা কিছু করতে পারবো না। মিটিং হলে সকলে মিলেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি এসব কথা বলবেন কেন? তিনি আবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন একটি ইউনিয়নে। নিয়োগ দেয়ার তো কোনো নিয়ম নেই। এখানে তো কেউ চাকরি করে না। কেউ মারা গেলে মিটিং দিয়ে তার পরবর্তীতে যিনি থাকবেন তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। এটাই সাংগঠনিক নিয়ম।’

তবে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, ‘আমি তো জানি না। আওয়ামী লীগের এ ধরণের কথা বলি না। নৌকা প্রতিকে ভোট দিবে জনগণ। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই প্রার্থী হবেন। তিনিই বলতে পারবে। আমি তখন অজিহা পড়তেছিলাম। যদি কেউ এ ধরনের কথা বলে সে কথার কোনো যুক্তি নাই। সেটা আমাদের কথা না দলের কথা না। সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে। যে প্রতিককে অবজ্ঞা করবে সে কি দলে থাকতে পারবে?’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও