নিজেদেরই সহ্য করতে পারছে না

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২১ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২১ সোমবার

নিজেদেরই সহ্য করতে পারছে না

টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নারায়ণগঞ্জে দলটির রাজনীতিতে স্বাভাবিক ভাবেই অভ্যন্তরীন বিবাদ রয়েছে। প্রকাশ্য বিবাদে এতদিন একক স্থানে ছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী। এছাড়া দলের ভেতর মনস্তাত্বিক বিরোধ থাকলেও একে অপরের সভা পন্ড করা, ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার মত ঘটনা দেখা যায়নি। কিন্তু ইউপি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতারা একে অপরকে সহ্য করতে পারছেন না।

পুরো আগস্ট জুড়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলায় দলের অভ্যন্তরনীর বিরোধ বড় আকারে ধরা দিয়েছে। নিজেদের বিরোধী মুখ থেকে এবার পেশী শক্তিতে রূপ নিয়েছে। থানা পুলিশ পর্যন্তও পৌঁছে গেছে অভিযোগ। এরপরেও থেমে নেই একে অপরকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য প্রদান। অথচ কিছু দিন পূর্বেই উভয় উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হলেও উপজেলা পর্যায়ে দলকে গুছিয়ে রাখতে পারছেন না উপজেলা নেতৃবৃন্দরা।

গত ১৫ আগস্ট সোনারগাঁ পৌরভার মাঠে শোক সভার মঞ্চ ও প্যান্ডেলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় সাঁটানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। মূলত এই মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। ঘটনার পর সেই স্থান পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

এর একদিন পূর্বেই ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল ফাঁকা পেয়ে দুর্বৃত্তরা এই প্যান্ডেলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। সেখানেই নতুন করে প্যান্ডেল নির্মাণ করে শোক সভার কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দফায় প্যান্ডেল হামলার শিকার হলে এর জন্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, কায়সারের নির্দেশে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান সজীবের নেতৃত্বে কিছু উশৃঙ্খল যুবক এ হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এই ঘটনার পর থেকে একাধিক শোক সভা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্বরণে সভায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে যাচ্ছেন। সেই ঘটনার পাশাপাশি দলের অবদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা।

নতুন করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ধামগড় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে উপজেলার জাঙ্গাল স্ট্যান্ডে শোক দিবসের ফেস্টুন লাগানো হয়। এসব ফেস্টুন গত শুক্রবার পর্যন্ত অক্ষত থাকলেও শনিবার রাতে কে বা কারা সেসব ছিঁড়ে ফেলে। ফেস্টুন সমূহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানের পক্ষে লাগানো হয়েছিলো। আর এসব দুবৃর্ত্তরা পরিকল্পিত ভাবে ছিঁড়েছে এমন অভিযোগ করেন ধামগড় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মোল্লা। একই সাথে বিষয়টি কাজিম উদ্দিন প্রধানকে অবগত করেছেন বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনার পর থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের না করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ঘোষণা আসে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের তরফ থেকে। কোন না কোন ভাবে এজন্য নিজ দলেরই প্রতিপক্ষকে দায়ী করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নতুন কিছু না। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ বছর পূর্বেও বিএনপির সাথে যেই ধরণের রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করতে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে সর্বত্র। সেই উত্তেজনা এখন ছড়িয়ে পড়েছে নিজ দলের ভেতরেই। এর কারন হিসেবে কাউয়া ও হাইব্রিডদের দায়ী করলেও খোদ এই বিষয় নিয়েই জেলার শীর্ষ দুই নেতৃত্ব দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেরাই নিজেদের সহ্য করতে পারছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা এমনটাই দাবী সংশ্লিষ্টদের।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও