সোনারগাঁয়ে টাকার খেলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫২ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

সোনারগাঁয়ে টাকার খেলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীনে থাকা বিভিন্ন থানা উপজেলা পৌরসভা কমিটি গঠনে অনেক বিতর্কিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির কমিট গঠনে চলছে টাকার খেলা। সেখানকার কমিটি গঠনের বিনিময়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা বিনিময়ের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সোনারগাঁ বিএনপির কমিটি নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে সাবেক সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে চলছে লড়াই। সোনারগাঁ বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোশারফ হোসেন। কিন্তু তাকে চাচ্ছেন না আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিপরীতে মোশারফ হোসেন উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসতে ইতিমধ্যে মামুন মাহামুদকে ম্যানেজ করে নিয়েছেন বলেও গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। এসব কারণে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন- যারা প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ নেতাদের পক্ষে কাজ করেছেন তারাই এখন মামুন মাহমুদের সুদৃষ্টিতে। নিয়মিত এখন মোশারফ হোসেনকে মামুন মাহামুদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

এ মোশারফ হোসেন হচ্ছেন সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপি নেতা যিনি গতবারের আগেরবার পৌরসভা বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। সে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের মাধ্যমে তিনি পেয়ে যান জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদবি।

বিএনপি ও জাপার কয়েকটি বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, সম্প্রতি মোশারফ হোসেন কয়েকটি মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন যদি তাকে পৌরসভা নির্বাচনের মেয়রের টিকেট পাইয়ে দেয়া হয় তবে তিনি দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে জাপায় যোগদান করবেন। আর যদি সেটি করা না হয় তাহলে তিনি বিএনপিতেই থাকবেন। আর জাপায় গেলে তিনি জাপার পাশাপাশি খোকার হয়ে সবসময় কাজ করবেন বলে প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলেছেন। কিন্তু আর সেটা হয়নি।

এ মোশারফ হোসেন মূলত বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের আমলে গঠিত ওরা এগারজনের সদস্য। তিনি বিগত দুটি উপজেলা নির্বাচনে সরাসরি সরকার দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মূলত হলেন মোশারফের ঘনিষ্ঠ। সে কারণেই ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানকে বাদ দিয়ে তিনি কালামের পক্ষে মাঠে নামেন। ২০১৯ সালেও তিনি কাজ করেন কালামের পক্ষে। ওই সময়ে তিনি পৌর জাপার সভাপতি এম এ জামানকে সঙ্গে নিয়ে সরকার দলের প্রার্থীর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। তাছাড়া তাঁর পরিবারের লোকজনও হলেন আওয়ামী লীগ ঘেঁষা।

পৌর বিএনপির কমিটি গঠনের পর গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে গোপন আতাতের কথাও ফাঁস করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন- ওই নির্বাচনে স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থন ছিল আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের দিকে। স্থানীয় এমপির কাছ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের শর্তে বিএনপির নেতারা কালামের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। মূলত এরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফরের পরোক্ষ নির্দেশেই কালামের পক্ষে কাজ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে কালামের পক্ষে কাজ করা বিএনপির বেশকজন নেতা ইতিমধ্যে জাতীয়পার্টিতে যোগদান করেছেন।

ওই নির্বাচনে শাহজাহান মেম্বার ও মোশারফ হোসেন প্রকাশ্যে কালামের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। এবার সেই শাহজাহান মেম্বারকে যখন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করেছেন মামুন মাহামুদ তখন সোনারগাঁয়ের মাঠ পর্যায়ের রাজপথের সক্রিয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন এবং কঠোর সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সোনারগাঁও পৌর নির্বাচনে মোশারফ হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে তিনি ঘাছাড়াভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমানের সঙ্গে তিনিও তাল মিলিয়ে অনেকটা ড্যামী প্রার্থীর মত অবস্থান নেন। ফলে নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়।

বিএনপি জামাত জোট সরকার আমলে মোশারফ হোসেনের নাম সোনারগাঁয়ে এক আতংকের নাম। সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিমের গড়া ওরা ১১ জনের একজন হলেন মোশারফ হোসেন। সোনারগাঁয়ের সকল আর্থিক, লাভজনক, প্রশাসনিক সহ সকল কিছুর নিয়ন্ত্রনে ছিলেন ওরা ১১জন। মোশারফকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সেই মোশারফের হাতে সোনারগাঁও বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দিতে চাচ্ছেন মামুন মাহামুদ। ওরা ১১ জনের মধ্যে ছিলেন শাহজাহান মেম্বারও।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও