ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতারা নেতারা বিয়ের পিঁড়িতে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতারা নেতারা বিয়ের পিঁড়িতে

যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তেমনিভাবে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য রয়েছেন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। ছাত্রদের এই দুই সংগঠনই তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের ভ্যানগার্ড বলা হয়ে থাকে ছাত্রলীগ ও বিএনপিকে। তবে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগ এই দুই সংগঠনেরই শীর্ষ নেতারা বিবাহিতদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। তারা যেন এখন বিয়ের আসরে রয়েছেন। একের পর এক সকলেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে শুরু করেছেন।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। অতি সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণের কারণে সংক্ষিপ্ত আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন রিয়াদ।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী ওই বিয়ে পড়ানো হয়। সেখানে প্রথমত আঙটি বদলের কথা থাকলেও শেষতক বিয়ে হয়ে যায়। কনে নারায়ণগঞ্জের একজন পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে। কয়েকদিন ধরে তাদের বিয়ের খবর ভাসতে থাকলেও অবশেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারী রাতেই সে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

যদিও রনি দাবী করেন, বিয়ে সম্পন্ন হয়নি। আপাতত আঙটি বদল হয়েছে। পরে সুবিধামত সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। কিন্তু কনের বাবা বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘কথা ছিল আঙটি বদলের কিন্তু উভয় পক্ষের সম্মতিতেই কাবিন হয়েছে। অচিরেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে।’

এরপর নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদও বিয়ের পিঁড়িতে বসে যান। গত ২ এপ্রিল তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হলেও করোনা সংক্রমণের কারণে সংবর্ধনা স্থগিত করা হয়। এই দুই সভাপতি ছাড়াও দায়িত্বে থাকা অন্যান্য ছাত্রদলের নেতারাও বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির হওয়ার কিছুদিন পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব। সজীব বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের বড় ছেলে। ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীবের বিয়ের অনুষষ্ঠাকিতা সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ জুন জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কমিটিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে মশিউর রহমান রনিকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে খাইরুল ইসলাম সজীবকে। এতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে সোহেল মিয়াকে। একইভাবে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে শাহেদ আহমেদকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মমিনুর রহমান বাবুকে। এতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মারুউফুল ইসলাম পাপনকে।

সেসময় জেলা ছাত্রদলে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ, সহ সভাপতি আরিফুর রহমান মানিক, যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল মামুন, মেহেদী হাসান, মঈনুল ইসলাম রবিন, নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রাকিব হাসান রাজ, রফিকুল ইসলাম রফিককে পদায়ন করা হয়।

মহানগরে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে রাফিউদ্দিন রিয়াদ, সহ সভাপতি শাকিল মিয়া, নাজিম পারভেজ অন্তু, শফিকুল ইসলাম শফিক, আলতাফ হোসেন ইব্রাহীম, সিরাজ উদ্দিন প্রধান দর্পন, হামিদুর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক আলামিন প্রধান, লিংরাজ খান, রাকিবুর রহমান সাগর, সাজ্জাদ হোসেন, ইব্রাহীম বাবুকে পদায়ন করা হয়। এদের অনেকেই বর্তমানে বিবাহিত। যারা বিয়ের পিঁড়িয়ে তারাও বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের ১০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আজিজ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাফেল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে ছিলেন।

একই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আাহবায়ক পদে থাকা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে থাকা হাসনাত রহমান বিন্দুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস আর সোহাগ ও সেক্রেটারী জাকির হোসেন এক বছরের জন্য এসব কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যেও অনেকেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন কিংবা বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও