সেই লাখো মানুষের অতীত স্মরণ করালেন জাকির খান

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০১ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

সেই লাখো মানুষের অতীত স্মরণ করালেন জাকির খান

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক সংবর্ধনা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাকির খানের ফেসবুকে আইডিতে সেই ছবিটি পোস্ট করা হয়।

এতে লেখা হয়, ৯৬ থেকে ২০০১ দীর্ঘ পৌনে পাঁচ বছর আওয়ামী কারাগার থেকে মুক্তি পান, তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলার নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন প্রিয় নেতা জাকির খান। তখন বিএনপি ও জেলা ছাত্রদল তাকে একটি সম্বর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেন। আজ থেকে ২০ বছর আগে আজকের এইদিন ৯ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি জাকির খানের সম্বর্ধনায় তাকে একনজর দেখার জন্য আশেপাশের জেলা থেকে কয়েক লক্ষ আমজনতা পথে পথে আওয়ামী লীগের গুলিবর্ষণ বোমাবর্ষণকে উপেক্ষা করে ছুটে আসেন ডিআইটি সেই জাকির খানের সম্বর্ধনার ময়দানে।

জানা গেছে, জাকির খান দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও কাছাকাছি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর এই দীর্র্ঘ সময় দেশের বাহিরে অবস্থান করেও এখনও তিনি তার কর্মী বাহিনীকে ধরে রেখেছেন। বিএনপি দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম সহ যে কোনো কর্মসূচিতেই তার কর্মী সমর্থকরা নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বড় শোডাউন করে থাকেন। যেখানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতা দেশে অবস্থান করেও নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন সেখানে জাকির খান দেশের বাইরে থেকেও সক্রিয় ভূূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থেকেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে রাজকীয় দাপটে রয়েছেন তিনি।

সূত্র বলছে, ১৯৮৯ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের হাতে ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজে যোগদানের মাধ্যমেই জাকির খানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তার পিতা দৌলত খান ছিলেন তৎকালীন টানবাজার পতিতালয়ের গডফাদার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সাথে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধলে কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে সে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়।

এক পর্যায়ে দেওভোগ এলাকার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুধর্ষ হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে উঠেন জাকির খান। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যায়। একই বছরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মাথায় কাশীপুর বাংলা বাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয় এবং জেলে যায়।

১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। আওয়ামীলীগের শাসনামলের শেষ দিকে ২০০০ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থেকে টানবাজার ও নিমতলী পতিতালয় উচ্ছেদ করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস জেলে থাকেন জাকির খান।

সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ির গুলিতে নিহত হয়। এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পর জাকির খান নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পাড়ি জমায় থাইল্যান্ডে। এরপর থেকেই তিনি দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। মাঝে মাঝে দেশে ফিরার খবর গণমাধ্যমে ছড়ালেও সেটা খুবই অল্প সময়ের জন্য। স্থায়ী সময়ের জন্য তিনি কখনই দেশে ফিরে আসতে পারেননি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও