এবার বঞ্চিতদের পালা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪১ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার

এবার বঞ্চিতদের পালা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে আসছে কারা ? পাইপলাইনে অনেকের নাম। দলে বঞ্চিত অথচ যোগ্যতায় এগিয়ে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শত প্রলোভনেও বিচ্যুত হননি। কিছু না পেয়েও টিকে আছেন। দলের বশ্যতা স্বীকার করেই দিন কাটাচ্ছেন। দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দল পাঁচবার ক্ষমতায়। পাঁচটি বসন্তেও তাঁরা ছিলেন বঞ্চিতদের কাতারে। এখনো তেমনি আছেন। তাদের কোন খেদ নেই। নেত্রীর প্রতি আস্থা তাদের অবিচল। দলের প্রতি আনুগত্য হিমালয়ের মত অঁটল। এমন নেতাদেরকে মূল্যায়ন করবে আওয়ামীলীগ। এমন নেতাদের মধ্যে থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, আরজু রহমান ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, আনিসুর রহমান দিপু ও আব্দুল কাদির এর নাম শোনাযাচ্ছে।

ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে, যাঁরা একাধিক সুযোগ পেয়েছে সামনে তাদেরকে আর সুযোগ দেয়া হবে না। আওয়ামীলীগ তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক দল। এখানে দলের বিভিন্ন স্তরে নিরবে নিভৃতে যুগ যুগ ধরে কাজ করে যাওয়া নেতার সংখ্যা কম নয়। এঁরা বরাবরই নিরব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বুকে লালন করে দলের জন্য কাজ করাকেই অধিকতর শ্রেয় মনে করেন এবং সেভাবেই নির্মোহ জীবন যাপনে তাঁরা অভ্যস্থ। কখনো লাইম লাইটে আসতে চান না। দলের দুঃসময়ে অবশ্য নেতাকর্মীদের মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকেন এই শ্রেণীর নেতাগন। দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে এমন ডেডিকেটেড নেতাদেরকে সবাই চিনেন। সকল দলের কাছেই এমন নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এমন নেতারা কখনো দল ক্ষমতায় না থাকলে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান না। তাঁরা দেশেই থাকেন। নিজ এলাকাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেই দুর্দিনে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন। ক্ষমতায় থাকা ভিন্ন দলের হামলা-মামলা মোকাবেলা করেন। হঠাৎ করে এমপি হতে পারেন না, আবার রাতের আঁধারে পালিয়েও যেতে পারেন না। এই শ্রেণীটিকে এবার মূল্যায়ন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ঢাকাসহ তিনটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের দলীয় লোককে মনোনয়ন দিয়ে শুভ সূচনা করেছেন। আগামী দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনকালেও এই নীতিতে নেতৃত্ব বাছাই করা হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করেছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে এবারো চমক থাকছে। নেতাকর্মীরা যাঁদেরকে আশা করছেন সে সকল চেনামুখের এবারের কমিটিতে নাও থাকতে পারে। তবে দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়-এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া থেকেও দল বিরত থাকবে। যে যাই বলুক প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জে রাফ এন্ড টাফ না হলে নেতৃত্বে এসেও সেই নেতা কিছুই করতে পারেন না। রুটিন মাফিক দলীয় কর্মসূচী সঠিক ও শুদ্ধভাবে পালন করতে পারলেই এই মহানগরীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে টিকে থাকার শর্তগুলি সাদাসিধে নেতারা পূরণ করতে পারেন কিনা -তা একবারও যাচাই করা হয়নি। শুধু সিংহপুরুষ ও ব্যঘ্র মানবের চেলাচামুন্ডারা সারাবছর সিনিয়র ও তথাকথিত সাদাসিধে জীবনকারী নেতাদের সমালোচনা করে থাকে। ওই সকল চামচা বাহিনী ভুলে গেছে এই শহরে শহীদ মনির হোসেন, আলী আহাম্মদ চুনকা, নাজিমউদ্দিন মাহমুদ, একেএম সামসুজ্জোহা, শেখ আনছার আলী, আফজাল হোসেন ও গোলাম মুর্শিদ ফারুকীর মত নেতা ছিলেন। যাঁরা মোটেও রাফ এন্ড টাফ ছিলেন না। ছিলেন না মারমুখি ও ভোগবিলাসী নেতা। এঁরা ছিলেন সাচ্চা মানুষ। সত্যিকার অর্থেই জনদরদী নেতা। নিজের জীবন নিয়ে কোনদিন ভাবেননি। এদের ধ্যান-জ্ঞান ছিল দেশ, দল ও দেশের মানুষ।

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি হয়তোবা আগামী নির্বাচনের আগে আর গঠন করা নাও হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারী নিয়ে দলকে চালিয়ে নেয়াও দায়। তাঁদেরকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এ্যালার্জির শেষ নেই। এই এ্যালার্জির কারণও তারা। সভাপতি কোন ব্লকের কাছেই গ্রহণীয় নন। সেক্রেটারী এককাঠি বেশি। সেক্রেটারী বিতর্কিত। সভাপতি ও সেক্রেটারী উভয়ে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পদে পদে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সেক্রেটারীর নামটি শুনতেও চান না। আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত দল। এই দলের নেতাকর্মীরা সবাই দক্ষ। দলের সাংগঠনিক ভিত্তি খুব মজবুত। দু একজন বিতর্কিত লোকজনের জন্য কর্মীরা কিছুতেই দলকে বিতর্কিত হতে দিবে না। নেতাকর্মীরা দলের দুষ্টক্ষতকে চিহ্নিত করেছেন। দুষ্টকক্ষতকে সময় এলেই সরিয়ে দেয়া হবে। সবাই সেভাবে প্রস্তুতী নিতে শুরু করেছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও