তারেক রহমানকে টাকা দিতে হবে!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার

তারেক রহমানকে টাকা দিতে হবে!

আগামী কিছুদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই কমিটিকে কেন্দ্র করে চলছে লাখ লাখ টাকার খেলা। পদপ্রত্যাশী সকলেই লাখ লাখ টাকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার টাকা পৌছিয়েও দিয়েছেন। আর এসব কিছুই করা হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নাম ভাঙ্গিয়ে। পদ প্রত্যাশী নেতাদেরকে বলা হচ্ছে তারেক রহমানের কাছে এসব টাকা পৌঁছাতে হবে। যদিও তারেক রহমানের কাছে এসব টাকা আদৌ পৌছানো হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ সংশয় রয়ে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। বিলুপ্ত হওয়ার কিছুদিন পর কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে এখন পর্যন্ত মহানগর যুবদলের কমিটির ঘোষণা হয়নি। তবে এবার আগামী কিছুদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে লাখ লাখ টাকা বিনিময়ের অভিযোগ উঠেছে। পদ পাওয়ার জন্য একেকজন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠানোর জন্য লাখ লাখ টাক নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে ফেলেছেন। আর বাকী অংশ ইশারা পাওয়ার সাথে সাথেই পরিশোধ করা হবে।

বিএনপির একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটিকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত পর্যায়ে তিন জন আলোচনায় রয়েছেন। এরা হলেন এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সজল ও মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান।

এদের মধ্যে মাজহারুল ইসলাম জোসেফ এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তার অনেক প্রভাব ছিল। কিন্তু ছাত্রদলের পর দীর্ঘ অনেক বছর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার দেখা মিলেনি। বিএনপির রাজনীতি থেকে তিনি একেবারেই হারিয়ে গিয়েছিলেন। কোনো কর্মসূচিতেই তার দেখা মিলত না। সেই সাথে তাকে হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি। যেখানে যুবদলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা দিনের পর দিন জেলে মামলা হামলায় দিন যাপন করলেও জোসেফ ছিলেন নিরাপদে।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বিএনপিতে আবারও সক্রিয় হন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের শীর্ষ পদে আসার জন্য ব্যাপক তোড়জোড় চালানোর পাশাপাশি লাখ লাখ টাকাও খরচ করেছেন তিনি। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি জাকির হোসেন নান্নুর সাথে ১০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জোসেফ। ইতোমধ্যে তিনি ১ থেকে ২ লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন।

সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান। এই সদস্য সচিব পদে আসার জন্য তিনি টাকাও বিনিয়োগ করছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় যুবদলের সহ সভাপতি মজিবুর রহমানের কাছে ৩ লাখ টাক পৌছিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে আরও দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাগর প্রধান ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলে কোন্দল সৃষ্টির প্রধান কারিগর। কমিটি গঠনের শুরু থেকেই তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও তার এই সক্রিয় অবস্থান ছিল লোক দেখানো। ফলে তাকে তেমন মামলা হামলার শিকার হতে হয়নি।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম করে এসব টাকা নেয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের নাম শুনে পদ প্রত্যাশী নেতারাও আর কোনো আপত্তি করছেন না। নির্দ্বিধায় তারা টাকা পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তত রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটিকে কেন্দ্র টাকা লেনদেনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ থাকতেই পারে। পদ না পাইলেই নেতারা এরকম অভিযোগ করে থাকে। নারায়ণগঞ্জ এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাগর প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশোকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সেই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে কখনই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আহবায়ক কমিটি দিয়েই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কার্যক্রম পরিচালিত হত। তবে এবার মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে সেই দীর্ঘ দিনে রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে।

কিন্তু এই কমিটি গঠনের পর থেকেই বিদ্রোহ দেখা দেয়। প্রথমে সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু এক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। বিপরীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান একাই বিদ্রোহ করে মহানগর যুবদলের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করতেন। পরবর্তীতে সাগর প্রধানের সাথে সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তুও মিলিত হন। সেই সাথে তারা দুইজন মিলে মহানগর যুবদলের কয়েকজন নেতাদের নিয়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতেন।

তাদের এই বিদ্রোহীতার ফলশ্রুতিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে দেন। বর্তমানে সেই বিলুপ্ত অবস্থায়ই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও