শোকের বদলে হাসিমুখ : বিএনপি নেতাদের মুড সুইং!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫১ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

শোকের বদলে হাসিমুখ : বিএনপি নেতাদের মুড সুইং!

বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার পিতা মৃত্যুবরণ করেছে। শোক এবং সমবেদনা জানাতে হাসপাতালেই ছুটে এসেছেন বিএনপি নেতারা। এরপরেই কয়েকজনের মুখ থেকে উধাও হয়ে গেলো শোকের চিহ্ন। উল্টো হাসিমুখে হাসপাতালের কোনায় কোনায় দলবদ্ধ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তারা। সেই ছবি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারও করেছেন তারা। শোকাহত মন নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে বিএনপি নেতাদের এমন মুড সুইং দেখে হতবাক হয়েছেন কর্মীরা।

সাধারণত হাসপাতালে রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা চিন্তিত মুখে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে থাকেন সুস্থতার জন্য। মুখ ভার করে প্রত্যাশা করেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার। রোগীকে দেখতে এসেও নীরবে নিভৃতে শান্তনা জানাতে আসেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আর রোগী যদি হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই জীবন যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন তবে কান্না আর আর্ত চিৎকারের রোল পরে যায় সর্বত্র। যেই চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত মৃত্যু, লাশ আর স্বজনদের আর্ত চিৎকারে অভ্যস্ত তারাও কখনও হাসিমুখে রোগীর সামনে দাঁড়াননা। শান্ত গলায় ভরসা দেন তাদের। আর মৃতের স্বজনদের সামনে এমন ভাবে উপস্থিত হন যেন চিকিৎসকেরই কোন আপনজন বিদায় নিয়েছেন। তবে মানবিকতা কিংবা সামাজিকতা প্রদর্শন করতে এসে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেই বিষ্ময়ের জন্ম দিয়েছে তা হতবাক করেছে সকলকে।

সম্প্রতি ২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান (৬০) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এই সংবাদ প্রচারিত হবার পরপরেই নারায়ণগঞ্জ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির বহু নেতা ভিড় করেন ইউনাইটেড হাসপাতালে। স্বাভাবিক ভাবেই সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছিলেন সকলে। তবে কয়েকজন নারায়ণগঞ্জ ও কেন্দ্রীয় নেতা দীর্ঘদিন পর দেখা পেয়ে ভুলে যান সেই শোক। সমবেদনা জানানোর বদলে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে একসাথে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কুশল বিনিময় এবং ফটোসেশন শুরু করেন।

তাদের এমন কান্ড দেখে উপস্থিত অনেকেই সমালোচনা শুরু করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ এবং রোগীদের স্বজনরাও তাদের এমন কান্ড দেখে অবাক হন। মানবিকতার এমন অবক্ষয় দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করেন অনেকেই। শোক জানাতে এসে এভাবে হাসিমুখে কোন সুস্থ মানুষ ছবি তুলতে পারে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন অনেকেই।

এতেই থেমে থাকেননি তারা। ২১ তারিখ রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব ছবি পোস্ট করতে শুরু করেন তারা। এরপরেই শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। প্রবল সমালোচনার শিকার হয়েও তাদের দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা যায়নি কোথাও। বিএনপির নেতাদের এমন কান্ডজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মীরা।

নেতাদের এমন ছবি দেখে তৃণমূলের কর্মীরা বলেন, মানুষ মরা বাড়ি গেলে হয় চোখের জল ঝড়ায় অথবা নীরবে শোক পালন করে। আর এই নেতারা হাসিমুখে ছবি তুলে সেগুলো আবার পোষ্ট করে ফেইসবুকে। তারা মানসিকভাবে আদৌও সুস্থ কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জাগে। একটা শোকের পরিবেশে গিয়ে কিভাবে তাদের হাসিমুখে ছবি তোলার কথা মাথায় আসে তা আমরা বুঝতে পারিনা। দায়িত্বশীল হিসেবে যারা পরিচিত তাদের এমন আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও