বিএনপির কাজটি করে দিচ্ছেন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

বিএনপির কাজটি করে দিচ্ছেন

নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ বেশ প্রচলিত একটি প্রবাদ। যেকোন মূল্যে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলার জন্য নিজের মহাক্ষতি করে ফেলাকেই মূলক নাক কাঁটা বোঝায়। আর সেই প্রবাদটি এবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান পন্থী নেতারা। মেয়রের সমালোচনা করতে গিয়ে পুরো আওয়ামী লীগকে যেভাবে ধবল ধোলাই করছেন তাতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিএনপির ভোট ব্যাংক আরো পোক্ত হচ্ছে। বিনামূল্যে বিএনপির কাজ করে দেয়ায় এই নেতৃবৃন্দদের ধন্যবাদ পত্র পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাধা পেয়ে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন। আওয়ামী লীগের কাজ এখন পুলিশই করে দিচ্ছে। বিএনপিকে মোকাবেলা করতে এখন আর আওয়ামী লীগ আসে না। ঠিক তেমনই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলতেই পারেন, দলের সমালোচনা করতে এখন আর বিএনপি লাগেনা। আমাদের দলের নেতারাই নিজ দলকে সমালোচনা করে ডোবাচ্ছেন।

আসন্ন নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিয়মিত চলছে মেয়র আইভীর সমালোচনা। বাদ যাচ্ছেন না জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও। মূলত নারায়ণগঞ্জের ২৭ টি ওয়ার্ডে শামীম ওসমান কর্মীসভা ডাকার পর থেকেই এর ধারাবাহিকতা চাঙ্গা হয়। আগে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মেয়রের সমালোচনা করা হতো। এখন কর্মীসভায় দুর্নীতি, অবমূল্যায়ন, নাগরিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে চলেছে সমালোচনার কাজ। আর এই কাজের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন তারা।

মেয়রের প্রবল সমালোচনা করতে প্রায় প্রতিদিনই মাঠ চড়ে বেড়াচ্ছেন একাধিক নেতারা। এদের মধ্যে আছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ।

প্রতিটি কর্মীসভায় গিয়ে বলছেন পরিবর্তনের কথা। নারায়ণগঞ্জবাসী নাকি পরিবর্তন চায়। বাস্তবে ওসমান পন্থী এসব নেতারা নিজেদের স্বার্থে আঘাত পড়ায় যে পরিবর্তন চান তা সহজেই বুঝে নেন সকলে। দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখেও যখন তারা বলেন কোন উন্নয়ন হয়নি তখন স্বাভাবিক ভাবেই এই মন্তব্যের জবাবে উত্তর দেয়া বোকামি হিসেবেই দেখেন পরিচ্ছন আওয়ামী লীগের নেতারা। অথচ মেয়রের উন্নয়নের কথা খোদ বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন। একই সাথে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখারও কথা বলেন তারা।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এখন পর্যন্ত অংশ নেয়ার ব্যাপারে পরিস্কার ইঙ্গিত না দিলেও অংশ নেয়ার বিষয়টি বেশ নিশ্চিত। কারন দলটি নিজেরাই স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচন বেশ ফেয়ার। ফলে নিজেদের পরীক্ষা করে দেখতে চায় তারা। যদিও রাজনৈতিক ভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ার কারনে এখনই মাঠে নামতে পারছে না তারা। তবে তাদের যেসব প্রচার প্রচারণা চালানো দরকার ছিলো বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে সেই কাজটি করে পথ সহজ করে দিচ্ছেন বাদল-খোকন-চন্দনরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়র আইভীর জনপ্রিয়তার কাছে বিএনপির প্রার্থী নস্যি হলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির প্রার্থীদের শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। ২৭ টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক কর্মীসভা আয়োজন করে যখন তারা নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন তখন পুরো সুফলটাই পায় বিএনপি। আর একে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বাজিমাত করতে পারেন সেই সম্ভাবনা বেশ প্রবল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও