শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করতে ১ বছর ধরে ঘুরছেন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৮ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করতে ১ বছর ধরে ঘুরছেন

‘বাবারে, একবছর ধরে ঘুরছি শামীম ওসমানেরই তো দেখা পাই না। কই বয় শামীম ওসমান? কতজনে ট্যাকা নিল দেখা করাইয়া দিবো। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেখা করাইয়া দিল না।’

২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে নিউজ নারায়ণগঞ্জ অফিসে এসে জায়গা জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলাপচারিতায় দুঃখ প্রকাশ করে কথাগুলো বলেন ভুক্তভোগী সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব বারেক সরদার।

সন্তানরা দেশের বাইরে থাকায় নিজের জায়গা উদ্ধারে এ বয়সেও ইউনিয়ন পরিষদ, ফতুল্লা মডেল থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। এসপি অফিস থেকে সুপারিশ করে থানায় পাঠালেও থানা পুলিশ সমাধান করে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শেষ ভরসা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করে এসব বিষয়ে জানাতে চাইছেন তিনি।

২০২০ সালের ৬ জুন ফতুল্লা মডেল থানায় দেওয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে বারেক সরদার বলেন, ‘কাশিপুর ফরাজিকান্দা এলাকায় আমার পৈত্রিক ২০ শতাংশ জায়গা থেকে আমার ভাতিজারা উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন সময় পায়তারা ও ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করে। ২০২০ সালের ৫ জুন সকাল ৯টায় ভাতিজারা সহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। আমার বাড়ী ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিলে আমাকে পরিবার নিয়ে সম্পত্তিতে থাকতে দিবে না সহ আমার সম্পত্তি ছেড়ে না গেলে জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।’

অভিযুক্তরা হলেন, ‘ফরাজীকান্দা এলাকার মৃত আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে মোক্তার হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোফাজ্জেল হোসেন ও মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী।

বারেক সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজারা পয়সাওয়ালা। তাই সবাই হের পক্ষে কথা কয়। এ বিষয়ে জিডি করার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ফতুল্লা থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। থানা থেকে একাধিক পুলিশ বাড়িতে যায় কিন্তু কোন কাজ হয় না। তার ভাতিজার কথা শুনে চলে আসে। এখন আমি কই গেলে আমার জায়গা ফেরত পামু? আমার সব কাগজপত্র আছে। ফতুল্লার সার্ভেয়ারও রিপোর্ট দিছে পর্চায় আমার নাম আছে। এগুলো নিয়ে কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদলের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সে আমার ভাতিজার পক্ষে কথা কয়। আমি এখন কই যামু? কই গেলে আমি আমার জায়গা পামু?

আপনাদের এমপি শামীম ওসমানকে জানান? জবাবে তিনি বলেন, ‘বাবারে, একবছর ধরে ঘুরছি শামীম ওসমানেরই তো দেখা পাই না। কই বয় শামীম ওসমান? কতজনে ট্যাকা নিল দেখা করাইয়া দিবো কইয়া। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ দেখা করাইয়া দিল না। অনেকে বলছে চাষাঢ়ার এখানে ক্লাবে বসে। কবে কখন বসে কিছুই জানি না। কয়েকদিন আইসা ঘুরে গেছি পাই নাই।’

কারা টাকা নিয়েছে শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করানো জন্য বলে? তিনি বলেন, ‘কয়দিন পর এমনিই মইরা যামু গা। নাম বলা কি ঠিক হইবো? থাক।’

তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমানের দেখাইতাম আমার কাগজপত্রগুলো যে, সব ঠিক আছে কিনা। যদি আমি জায়গা পাওনা থাকি তাইলে আমারটা বুঝিয়ে দিবো। না পাওনা থাকলে দিবো না। আমি শুনছি শামীম ওসমান বলে দিলে আমি আমার জায়গা পামু। তাই শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করতে চাইছি। শামীম ওসমান তো এসব বিচার কইরা দেয়।’

আদালতে মামলা করেন? জবাবে তিনি বলেন,‘এমনিতেই কয়দিন পর মইরা যামু। মামলা করলে এখনই মাইরা ফেলবো। আর আমি অনেক কষ্ট করে আপনাদের কাছে আইছি। সিড়ি দিয়ে উঠতে ৮ থেকে ১০ বার বসে ছিলাম। ভালো ভাবে হাটতেও পারি না। আদালতে যামু কিভাবে। এমনিতেই আমার নামে আদালতে মামলা দিছে ভাতিজারা। ওই মামলায় বয়স্ক ও হাটতে পারি না তাই আদালত খারিজ কইরা দিছে। এখন মামলা করলে আদালতে গিয়ে ঘুরতে পারমু না। এজন্যই শামীম ওসমানের কাছে যাইতে চাইছলাম।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী হলেও বসবাস করেন ঢাকাতে। নারায়ণগঞ্জে তাঁর কোন কার্যালয় নাই। তিনি মূলত শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবেই বসেন। সপ্তাহে কয়েকদিন তিনি নারায়ণগঞ্জ আসলে এ ক্লাবে অবস্থান করলেও নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ যাদের কোন বড় ভাই নাই তারা দেখা করতে বেশ ভীত থাকেন। কারণ ক্লাবে ঢুকতে হলে প্রবেশ পথেই প্রহরীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণেই অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে চায় না। তবে কোন নেতার সঙ্গে সখ্যতা থাকলে হয়তো শামীম ওসমানের সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ রাইফ্লেল ক্লাবের সদস্য। এর সভাপতি পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক।

১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনার সংলগ্ন কার্যালয় বানায় শামীম ওসমান। সেখানে সপ্তাহে কয়েকদিন তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তখন অনেক সাধারণ মানুষ শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন। এছাড়া তখন তিনি চাষাঢ়ায় পৈতৃক বাসা হীরামহল এও লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেন। কয়েক বছর আগে তিনি ফতুল্লায় ও সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক কার্যালয় করতে নেতাকর্মীদের বলেন। এও বলেন তিনি নিয়মিত এসব অফিসে বসবেন। কিন্তু সেটা আর কার্যকর হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও