এক কোটির আশ্বাসে ২ কোটি পকেটে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩২ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোমবার

এক কোটির আশ্বাসে ২ কোটি পকেটে

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপুর দ্বন্ধের বিষয়টি বারবারই উঠে আসে গণমাধ্যমের পাতায়। অথচ ২০১৬ সালের নির্বাচনের পুরো সময় জুড়েই দুজনের ভালো সম্পর্ক ছিলো। নির্বাচনের পরেই কেন তাদের দ্বন্ধ তৈরী হলো তা স্পষ্ট করেছেন টিপু। নির্বাচনের পরপরেই ২ কোটি টাকা লেনদেনের একটি বিষয় উঠে আসলে সন্দেহ জাগে টাকা ভাগাভাগি নিয়েই এই দ্বন্ধ কিনা। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউজ নারায়ণগঞ্জের টকশো ভিত্তিক অনুষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কথনে আলাপকালে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে সাখাওয়াতকে মনোনয়ন এনে দেয়ার পেছনেও তার অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু বলেন, সাখাওয়াত হোসেন ছাত্র রাজনীতি, যুব রাজনীতি কিংবা মহানগর বিএনপির কোন রাজনীতিতে ছিল না। যখন নির্বাচন আসলো তখন আমি তৈমূর আলম খন্দকার, আবুল কালাম এবং গিয়াসউদ্দিন সাহেবকে অনুরোধ করেছি নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু তারা কেউ রাজি হয়নি। সেই সময়ে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে অ্যাডভোকেট হওয়ার সুবাদে আমার সুসম্পর্ক ছিলো। সে আমাকে বললো আমি নির্বাচন করতে চাই। আমি বললাম নির্বাচন করতে তো ফান্ড লাগবে। সে বললো আমি ১ কোটি টাকা খরচ করতে পারবো। তখন পর্যন্ত তাকে কেউ চিনে না। আমি ম্যাডাম আর মহাসচিবের সামনে ৪৫ মিনিট কথা বললাম তাকে নমিনেশন দেয়ার জন্য। আমাকে ম্যাডাম জিজ্ঞাসা করলো কত বছর ধরে আছো এই দলে? আমি বললাম আমি ৩৪ বছর ধরে বিএনপি করছি। তিনি শুনে শিমুল বিশ্বাসকে বললেন ওকে একটা চেয়ার দেও। আমি তার পাশে বসলাম। ম্যাডাম আমাকে বললো কাকে নমিনেশন দিলে ভালো হবে? কাকে তুমি বিজয়ী করে আনতে পারবে? আমি কথা বলার সময় সোনারগাঁ বিএনপির মান্নান আমার কথা কেড়ে নিচ্ছিলো। ম্যাডাম তাকে ধমক দিয়ে বললো তুমি থাকো সোনারগাঁয়, আর ও থাকে সিটিতে। তোমার থেকে ও ভালো বলতে পারবে। আমি তখন বলুলাম, ম্যাডাম সাখাওয়াত ৭ মার্ডার মামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে, বেশ কয়েকবার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলো। ম্যাডাম এই কথা শুনে আমার সামনেই মহাসচিবকে বললেন, এই ফখরুল সাখাওয়াতকে নমিনেশন দিয়ে দাও।

তাকে যখন নমিনেশন এনে দিলাম তখন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র নেতারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়। অথচ ম্যাডামকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো যে সাখাওয়াতকে নমিনেশন দিলে সে অবশ্যই বিজয়ী হবে। ম্যাডাম তৎকালীন দলের মিডিয়া উইং শাইরুলকে বললো আমার সাথে যেন ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রাক রাখে। নির্বাচনের মনোনয়ন যখন চূড়ান্ত হলো তারপর ১৫ দিন কোন নেতা তার পাশে আসে না। আমি তাকে নিয়ে ২৭টা ওয়ার্ডের মসজিদে মসজিদে নামাজ পরে সেই এলাকায় ঘুরেছি। ৫ ওয়াক্ত নামাজে নিয়ে তাকে প্রচারণা চালিয়েছি। ৩ দিন পর সে বলে আমার কাছে টাকা নাই তুমি ম্যাডামের কাছে টাকা চাও। আমি শাইরুল ভাইকে বলার পর সে বলে, সাখাওয়াত না বললো ১ কোটি খরচ করবে? তাহলে তার টাকা কোথায়? তারপরে ম্যাডামকে অনুরোধ করে টাকা আনিয়েছি।

বিএনপির নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাখাওয়াতের পুরো নির্বাচনী কার্যক্রমে আমি অলিখিতভাবে প্রধান সমন্বয়কারী হয়ে গেলাম। কে কোন ওয়ার্ডে যাবে, কে কোথায় প্রচারণা চালাবে, কোথায় লিফলেট পোস্টার যাবে সব আমি দেখভাল করেছি। হঠাৎ নেতাকর্মীরা বললো সাখাওয়াত সারাদিন প্রচারণা চালিয়ে ক্লাবের সামনে নেমে যায়, আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে না। আমি তাকে বললাম, এইটা কি? কর্মীদের না খাওয়ালে কিভাবে হবে? তারপরে নির্বাচন হলো, আমরা ফেল করলাম।

ইলেকশনের পরে আমার কাছে খবর আসলো সে একটা পক্ষ থেকে টাকা নিয়েছে ২ কোটি টাকা। তাছাড়া দলের শুভাকাংখীরা দলের নির্বাচনের তহবিল ফান্ডে বেশ কিছু অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। সেই টাকাও সে নির্বাচনে খরচ করেনি। দেখলাম নেতাকর্মীরা হতাশ। ম্যাডাম নির্বাচনের জন্য বিশাল বাজেট পাঠিয়েছিলো যা দিয়ে আমরা মাঠ গরম সহ নির্বাচনের কাজে মাঠে ছিলাম। আর সে একপক্ষের থেকে ২ কোটি টাকা আর বিএনপি মাইন্ডের ব্যবসায়ীদের টাকা সে আর খরচ করেনি। এটা শুনে আমার বিবেকে খুবই বেঁধেছে। আমার কথা হচ্ছে, তুমি নির্বাচন করলা, এত পরিচিত হলো, কিন্তু ১ কোটি টাকার কথা বলে ৫ লাখ টাকাও খরচ করো নাই।

টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুজনের দ্বন্ধ কিনা তা জানতে চাইলে টিপু বলেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, তার সাথে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কোন দ্বন্ধ নাই। পৃথিবীতে আমাকে ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা দিয়ে যদি কেউ কিনতে না পারে তার টাকা দিয়ে আমাকে কেনার কোন ক্ষমতা নাই। তার সাথে দ্বন্ধ হয়েছে, কেন সে এই অনৈতিক কাজ করলো। যারা টাকা দিয়েছে তারাও তার সাথে পরে রাগারাগি করেছে। অথচ আমাদের বিজয় অর্জন করার সুবর্ন সুযোগ ছিলো। আমি আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ২টি বিষয় সবসময় ঘৃণা করি। একটি হচ্ছে দলের পদবী বিক্রি করে খাওয়া এবং দলের কমিটি বিক্রি করে খাওয়া। আমি ছাত্রদল, শ্রমিকদল করে বিএনপি করছি। কোন কর্মী বলতে পারবে না আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে পদ বিক্রি করেছি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও