চেয়ারম্যান হবেন বিএনপি থেকে আম পাতায় ফজর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৪ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০২১ শুক্রবার

চেয়ারম্যান হবেন বিএনপি থেকে আম পাতায় ফজর

বিএনপি ঘেঁষা হাইব্রিড ও বহুল আলোচিত সমালোচিত বিতর্কিত নেতা ফজর আলী আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা ডুবানোর নাটের গুরু হিসেবে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন এই ফজর আলী। এতো কিছুর পরেও আম পাতা মার্কা নেতা ফজর আলীকে মোটা অংকের বিনিমেয় চেয়ারম্যান করতে কাজ করছে প্রভাবশালী মহল। এতে করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ১৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আর এসকল ইউনিয়নের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদরের গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও রয়েছে। নির্বাচনে আগে থেকে ফজর আলী ও জসিমউদ্দিনের পক্ষ নেয় দুই ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়।

প্রত্যক্ষভাবে জসিমউদ্দিনের পক্ষে সভা করে চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। তবে মধ্যেখানে এমপি সেলিম ওসমান কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেলে জটিলতা তৈরি হয়। অন্যদিকে পরোক্ষভাবে ফজর আলীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এমপি শামীম ওসমান। সদর থানা আওয়ামীলীগের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের পর এমপি শামীম ওসমানের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রকাশ্যে ফজর আলীর পক্ষে ভোট চেয়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল।

এমনকি ফজর আলীর নৌকার মনোনয়ন না পেলে প্রয়োজনে আম পাতা মার্কা দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান সদর থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আল মামুন। আর সেই বক্তব্যের সময় পাশে বসা ছিলেন বাদল। এখন পর্যন্ত সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেনি এই নেতা। এতে করে যোগসাজসের একটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

২৪ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘ফজর আলীকে (গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী) আমরা আপনারা সকলে মিলে নৌকা পাইলেও পাশ করামো না পাইলেও পাশ করামো। যদি সম্ভব হয় ফজর আলী ভাইকে আমপাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করামো। ফজর আলী ভাইকে পাশ করিয়ে নিবোই। নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। ভোট দিবেন আপনারা। ভোট দিব আমরা। ফজর আলী ভাইয়ের দিকে দৃষ্টি রাখবেন।’

এদিকে এক লাইভ অনুষ্ঠানে ফজর আলী হাইব্রিড ও নৌকা ডুবানো নেতা উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, ফজর আলীর পরিবার ছিল বিএনপি সমর্থিত ও ঘেষা। ওরা কখনো আওয়ামীলীগ করে নাই। আওয়ামীলীগের সাথে কখনো সম্পৃক্ত ছিলনা। বিশেষ করে তার ভাই (নওশেদ চেয়ারম্যান) বিগত নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করে নৌকা ডুবিয়েছে। আজকে ফজর আলী নৌকা চাচ্ছে, অথচ বিগত নির্বাচনে নৌকাকে ডুবানোর জন্য সে ও তার লোকজন যতরকম প্রক্রিয়া আছে সব করেছে। ২০১৬ সালের ওই নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করে নৌকা ডুবিয়েছে।

ফজর আলীর সহ সভাপতি পদ নিয়ে বলেন, ‘গঠনতান্ত্রিকভাবে ফজর আলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি পদে আসতে পারেনা। সে সবেমাত্র আওয়ামীলীগের নতুন ফরম সংগ্রহ করেছে। সে এর আগে আওয়ামীলীগের কোন পদ পদবিতে ছিলনা।’

১৫ আগস্টের এক সভায় গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, দলের কিছ অসাধু নেতা কাউয়া হাইব্রিডদের পদে বসানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে। যারা দুর্দিনে রাজ পথে মিছিল মিটিং করেছে তাদের মূল্যায়ন না করে অন্যদের বসানো হলে আমরা তা মেনে নিবো না। যে ব্যক্তি নাকি কখনো আওয়ামীলীগ করে নাই ওই ব্যক্তি এখন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি হতে চায়। এত বড় দুঃসাহস তাদের হয় কি করে। কিছু অসাধু ব্যক্তি নেতা হয়ে টাকার বিনিময়ে সদর থানা ও ইউনিয়নে কয়েকজন কাউয়া হাইব্রিডদের পদ পদবী দেয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামীলীগ এত সস্তা না। হাইব্রিডদের দলে জায়গা দেয়া হলে আমরা তাদেরকে মেনে নিবো না। তাদের বক্তব্যের একই দাবী জানান গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম।

ফজর আলী প্রসঙ্গে গোগনগরের অনেক বাসিন্দা জানান, ফজর আলীর পরিবারের কেউ কখন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলোনা। ফজর আলী থাকতেন প্রবাসে আর তার ভাই নওশেদ আলী তাদের সম্পত্তি দেখভাল করতেন। যদি সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদউল্লাহ আল মামুন একটি মিটিংয়ে বলেছিলেন যে, আওয়ামীলীগ করার অপরাধে নাকি ২০০১ সালে তাদের বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযান হয়েছিলো। কিন্তু আল মামুনের সেই মিথ্যা তথ্যের বিষয়েও স্থানীয় গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিলো। মুলত সেটি ছিলো একটি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। মুলত আল মামুনরা টাকার প্রলোভনে পড়ে উক্ত মিটিংয়ে এরুপ মিথ্যাচার করেছেন।

এদিকে দলের এমন সিদ্ধান্তে অনেকটা আনন্দিত গোগনগরবাসী। কারণ আল মামুনগংরা যেভাবে ফজর আলীর মত হাইব্রিডকে আওয়ামীলীগের নেতা বানিয়ে নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করাতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন সেখানে প্রকৃত ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতারা পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয়দের দাবী প্রবাসী ফজর আলীকে চেয়ারম্যান বানালেও গোগনগরবাসী সর্বদা থাকবে তাদের প্রাপ্য সেবা বঞ্চিত। কারণ প্রবাসে তার স্ত্রী-সন্তান ও ব্যবসা রয়েছে যার কারনে বেশীরভাগ সময়ে তাকে প্রবাসে থাকতে হবে।

এখানে উল্লেখ যে, এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারী গোগনগর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়নের আগামী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জসিম উদ্দিনের নাম ঘোষণা করেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাকে একজন সঠিক মানুষ দিতে চান তাহলে জসিম উদ্দিনকে পাস করাবেন। সেই সাথে বর্তমান পরিষদের সকল মেম্বারদেরকেও আবারো পাস করাবেন। আমার একজন মানুষ চাই সেই মানুষটির নাম জসিম উদ্দিন। আমরা জাতীয় পার্টি গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিলাম।

যদিও সাংসদের এই ঘোষণার কোনো পাত্তা না দিয়ে দুই দিন পরে আরেক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ফজর আলী। ওই সভায় সেলিম ওসমানের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে তার অনুসারী লোকজন। এ নিয়ে আবার ক্ষুব্দ হয়েছেন সেলিম ওসমান। গত ৫ মার্চ বন্দর ইউনিয়নের টি-হোসেন গার্ডেনে এক মতবিনিময় সভায় ফজর আলীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশও করেন তিনি। সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমার পেছনে যে সাতজন চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে একজন নতুন। গোগনগরের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী ইন্তেকাল করলে তার পরিবর্তে আমরা জসিম উদ্দিন সাহবেকে সেখানে নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ করেছি। তবে সব জায়গায়ই বান্দরও থাকে আবার শয়তানও থাকে। এক আলীর পরিবর্তে আরেক আলী হবে, এটা হয় না। আমরা ওই এলাকায় মিটিং করেছি, মিটিং শেষে জনগণের কাছে জসিম উদ্দিনকে চেয়েছি। আমি তাকে নমিনেশন দেয়নি। জনগণের কাছে আমি জসিম উদ্দিনকে চেয়েছি। তারপর কিছু ছিচকে ছোড়াদের নিয়ে উনি মিটিং করে বললো, মানি না মানবো না। তোমার যদি এত বড় কলিজা থাকে তাহলে তুমি জনসমক্ষে মিটিংয়ে বললা না কেন?’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও