৫ লাখ টাকায় মেম্বার

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:০৫ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২১ রবিবার

৫ লাখ টাকায় মেম্বার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে এবারের চিত্র আগের চাইতে অনেক ভিন্ন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রস্তুতি শুরু হতে না হতেই তাতে বাধ সেধেছে ক্ষমতাসীন দলের গুটি কয়েক নেতা। প্রভাবশালীর ইশারায় প্রার্থীকে ডেকে আনা হচ্ছে একটি পার্কে। আর সেখানেই হচ্ছে নির্বাচনী দফারফা।

বলছি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের কথা। দুটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিষয়ে হিসেব নিকেশ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। এবার মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে হিসেব কষা শুরু হয়েছে। আর সকল হিসেব নিকেশের কাজ চলছে লিংক রোডে একটি রেস্টুরেন্ট কাম পার্কে। কুতুবপুরের ওয়ার্ডের প্রার্থীদের ডেকে আনা হচ্ছে একে একে। এরপর তাদের সাথে কখনও নরম কখনও কঠিন ভাষায় বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণ। আর তাতে একমত হলেই মিলে মুক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুতুবপুর ওয়ার্ডে কারা নির্বাচিত হবেন তা আগেই পরিস্কার করে রাখার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার এবং আগ্রহী প্রার্থীদের ডেকে নেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতার মাধ্যমেই প্রস্তাব দেয়া হয় নির্বাচনের বিষয়ে। তাতে কখনও বর্তমান মেম্বারকে আবার নির্বাচিত করা কিংবা নতুনকে ছাড় দেয়ার প্রসঙ্গ থাকে। নির্ধারিত এক ব্যক্তির বাইরে যতজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকেন তাদের সবাইকেই আনা হয় এক বৈঠকে। এরপর প্রস্তাব দেয়া হয় সমঝোতার। যদি তাতে কেউ আপত্তি জানায় তবে সমঝোতা রূপ নেয় ধমকিতে। কোন না কোন ভাবে তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বাধ্য হয়ে বসে যেতে রাজি হলে ধরিয়ে দেয়া হয় ৫ লাখ টাকা। যাতে এনিয়ে খুব বেশী বাড়াবাড়ি না করেন কিংবা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করেন।

ঠিক এমনটাই ঘটেছে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মন্টুর সাথে। তিনি ইউপি সদস্যের পাশাপাশি জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি। বিএনপির জনপ্রিয় এই মেম্বার বেশ কয়েকবার বিজয়ী হওয়ায় এবারও তিনি আগ্রহী ছিলেন নির্বাচনে। কিন্তু তাকে কৌশলে সমঝোতার মাধ্যমে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। আর তাই তিনি এবার নির্বাচনে থাকছেন না বলে নিশ্চিত করছে একাধিক সূত্র।

তার এই ঘটনার পর থেকে অন্যান্য ওয়ার্ড সমূহে প্রার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কার কখন ডাক আসে সেই পার্কে সেই চিন্তায় অনেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া নির্বাচনে নির্ধারিত প্রার্থীর বিপরীতে প্রার্থী থাকলেও সেভাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে না বলে আগেই নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে। ফলে বাস্তবে কয়টি ওয়ার্ডে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন টিকে থাকে তা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরনের শামিল। ডেকে নেয়ার এমন সংস্কৃতি এখনই রোধ করা না গেলে আগামী দিনে ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে কোন ভালো মানুষ অংশ নিতে চাইবে না। ঘুরে ফিরে দুর্নীতিবাজ এবং লুটেরাদের হাতেই থাকবে সব ক্ষমতা। এমন অবস্থায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও