জাপা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ক্রয় সঙ্গী আওয়ামী লীগ সভাপতি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৩ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২১ রবিবার

জাপা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ক্রয় সঙ্গী আওয়ামী লীগ সভাপতি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাপা নেতা দেলোয়ার প্রধানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ। অথচ ওই ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী কাজিমউদ্দিন প্রধান।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের সময়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপস্থিত থাকায় ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ থেকে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী কাজিম উদ্দিন প্রধানকে নৌকায় মনোনয়ন দেওয়া হলেও এম এ রশিদ সমর্থন দিয়েছেন জাপা নেতা দেলোয়ার প্রধানকে। তবে এম এ রশিদ বলছেন ভিন্ন কথা।

জানা গেছে, ১০ অক্টোবর রোববার বন্দর উপজেলা নির্বাচন অফিসে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাপা নেতা দেলোয়ার প্রধান। এসময় তার পাশে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে দেখা যায়। দুইজনই হাস্যোজ্জলরত অবস্থায় ছবিও তুলেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারণ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাপা নেতা দেলোয়ার প্রধানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে জাতীয় পার্টির কোন নেতা উপস্থিত না থাকলেও সেখানে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে দেখা গেছে। যে কারণে এমএ রশিদ আগামী নির্বাচনে কার পক্ষে থাকবেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ বলেন, আমি নির্বাচন কমিশন অফিসে বসে ছিলাম আমার আইডি কার্ডের জন্য। ওই সময়ে দেলোয়ার প্রধান আমাকে বলেছে, ‘ভাই আমাকে দোয়া করেন। আমি ক্যান্ডিডেট। আমার ফরমটা ধরেন।’ আমি এর প্রতিউত্তরে বলেছি, ‘আমিতো আওয়ামী লীগার।’ তারপরও সে বলেছে, ‘একটু ধরেন।’ এসময় অনেক সাংবাদিক ছিল, ছবি তুলেছে।

দেলোয়ার প্রধানের মনোনয়ন পত্র সহ এম এ রশিদের ছবির ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, এই ছবি নিয়ে যদি কেউ ব্ল্যাকমেইল করে তাহলে আমার কোন বক্তব্য নাই। এটা একটা সামান্য ব্যাপার। আমি একটা অফিসে গিয়েছি। সেই অফিসে আমার সামনে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেছে। এটাতে আমার মনে হয়না আমার দলের নেতাকর্মীরা এতো ঠুনকো যে তারা এটা নিয়ে কিছু মনে করবে। আমার ৭০ বছরে আওয়ামী লীগে কোন স্পট নেই। সুতরাং আমার কর্মীরা আমাকে নিয়ে কোন সন্দেহ করবে এমন বিশ্বাস আমি করিনা। আর যখন নির্বাচন আরম্ভ হবে তখনই বুঝা যাবে কে কোথায় কোন দিকে আছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগের বাইরের কোন প্রার্থীকে সমর্থন করার সুযোগ নেই। আওয়ামীলীগের কেউ অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা বিশ্বাসী তারা অন্য দলকে সমর্থন করে কিভাবে। কেউ যদি অন্য দলকে সমর্থন করে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী এবং শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে রশিদ ভাই আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। আমি বিশ^াস করিনা উনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন। এটা কখনোই হতে পারেনা।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ১৬ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ইতিমধ্যে ১৬টি ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেয়েছে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন। তবে জাতীয় পার্টি দলীয় স্থানীয় এমপি ও বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান দীর্ঘদিন ধরেই দেলোয়ার প্রধানকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। এমনকি কাজিমউদ্দিনকে নির্বাচন করতেও নিষেধ করেছিল এমপি সেলিম ওসমান। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের অনেক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বাদ দিয়ে হাইব্রিড ও বিএনপি নেতাকে সমর্থন করে আসছে আওয়ামীলীগের পদধারী নেতারা। বিশেষ করে কুতুবপুরে সদ্য বিএনপি থেকে বহিস্কৃত বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু পেয়েছেন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক। যা নিয়ে দলের মধ্যে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ফলে বন্দরেও একই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও