লড়াই করে হারলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২২ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১ শনিবার

লড়াই করে হারলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করার লক্ষ্যে একাই লড়াই করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। কিন্তু এই লড়াইয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হলো। তার সাথে লড়াই করে জিতেছেন নীতির বাইরে থাকা নেতারা। তবে আব্দুল হাই শেষ পর্যন্ত তার নীতিতে অটল থেকেছেন।

সূত্র বলছে, আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ১৬ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সভায় এ নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

আর এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়। কিন্তু এই জমা দেয়ার ক্ষেত্রে যাদের নাম রাখা হয়েছে তাদের নিয়ে দেখা দেয় অনেক বিতর্ক। তাদের নামের সাথে যুক্ত রয়েছে কাউয়া হাইব্রীড বিশ্লেষণ। ফলে এসব নাম জমা দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করেনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার স্বাক্ষর ছাড়াই এসকল নাম জমা দিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।

জানা যায়, আলীরটেক ইউপি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও সায়েম আহমেদ। কিন্তু এদের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেই। চেয়ারম্যান হওয়ার আশায় তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আর এ বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল হাই মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি স্বাক্ষরও করেননি। কিন্তু তার স্বাক্ষর ছাড়াই এসকল নাম কেন্দ্রে জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছিলেন, তাদের নামের তালিকায় আমি স্বাক্ষর করি নাই। কারণ তারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার না।

এদিকে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জসিমউদ্দিন। কিন্তু তার নামটি না পাঠিয়ে নব্য আওয়ামী লীগার ব্যবসায়ী ফজর আলীর নাম পাঠানো হয়েছে। যা মেনে নিতে পারেননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি আলাদাভাবে জসিম উদ্দিনের পক্ষে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। সেই সাথে শেষ পর্যন্ত জসিম উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি কলঙ্কিত ঘটনা ঘটেছে কুতুবপুরে। কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীকে পিছনে ফেলে বিএনপি নেতা মনিরু আলম সেন্টুকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয়। তিনি কবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তা কেউ না জানলেও তার নামটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেই সাথে তাকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়নও দেয়া হয়।

যিনি একসময়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলাও রয়েছে। কিন্তু এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কুতুবপুর সেই মনিরুল আলম সেন্টুকেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ফলে এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সেই সাথে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এই বিষয়টিকে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্টি হয় অনেক সমালোচনা। সেন্টু নিজেও স্বীকার করেছেন এমপি শামীম ওসমানের বদৌলতে তিনি নৌকা পেয়েছেন।

যার সূত্র ধরে বিএনপি নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও নজরে আনা হয়। সেই সাথে কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মনিরুল আলম সেন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছিলেন, মনিরুল আলম আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের লোক। তাঁর নাম কীভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়? মনোনয়ন প্রস্তাবে এ কারণে তিনি সই করেননি উল্লেখ করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত এককভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সই করলেও তিনি আপত্তি জানিয়ে সই করেননি। তাঁর সাক্ষর ছাড়াই মনিরুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু এসকল সমালোচনা এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মনিরুল আলম সেন্টুরই মনোনয়নপত্র থেকে যাচ্ছে। বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা উবে গেছে। ফলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই হেরে নীতিহীন কর্মকান্ডের কাছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও