শামীম ওসমান কার পক্ষে যাবেন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৪ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১ রবিবার

শামীম ওসমান কার পক্ষে যাবেন

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার প্রত্যাশায় অনেকেই সরব হয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডে অনেকেই সরব হয়েছেন।

আর তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগ নেতা খান মাসুদ এবং কদমরসুল পৌর যুবলীগে সাধারণ সম্পাদক কাজি জহির। তারা দুজনেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে কাজ করে থাকেন।

ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবার তাদের দুইজনের মধ্যে কাকে বেছে নিবেন সেটা নিয়ে চলছে নানা আলাপ আলোচনা। শেষ পর্যন্ত খান মাসুদ নাকি কাজি জহিরের কে শামীম ওসমানের সমর্থন পাবেন সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এদের মধ্যে খান মাসুদের নামের সাথে যুক্ত রয়েছে নেতিবাচর বিশ্লেষণ।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ছাত্রলীগের তৎকালিন সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তপন খান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

সেসময় থানা-পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, কর্তব্যরত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অস্ত্র আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় অবৈধ অস্ত্রসহ ২০১৬ সালের ২ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৫৫ দিনের মাথায় ২৫ আগস্ট তিনি আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। আর এই জমিনের চার দিন পরই তাঁর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় জিডি হয়।

একই সাথে খান মাসুদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের বিবরণ দিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ সংস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দিয়েছিল। সেখানেও এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে খান মাসুদ বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ও আশপাশের বিরাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করছেন। অবৈধভাবে গত সাত বছরে তিনি কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৫৫ দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ভয়ে সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

যদিও সে সময় খান মাসুদ বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। প্রতিপক্ষরা তাঁকে ফাঁসাতে এসব মামলা দিয়েছে। এগুলোর প্রমাণ নেই।

এরপর খান মাসুদকে ‘সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, হত্যকারী’ আখ্যায়িত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করছে দাবি করে দল থেকে বহিস্কারের জন্যও দাবি জানিয়েছিলেন তারা। ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবী জানিয়েছিলেন।

সেদিন বক্তারা বলেছিলেন, ‘বন্দরের দুধর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক স¤্রাট, চাঁদাবাজ, অস্ত্র মামলার আসামী, পুলিশকে মারধর, নারী ও মানব পাচার, গুম, মাদক সহ একাধিক মামলার আসামী কুখ্যাত সন্ত্রাসী খাঁন মাসুদ ও তার সহযোগি পাতলা রাজু, ডালিম, শান্ত, নূরুজ্জামান, সুজন, সোহাগ, আলামিন, নয়ন, ইমরান, সাদ্দাম সহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।’

সবশেষ বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগালসহ উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে বন্দর উপজেলা ছত্রলীগ নেতা খান মাসুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন এ বিষয়ে জিডি (নম্বর-৪০৪) করেছিলে।

বিপরীতে কদমরসুল পৌর যুবলীগে সাধারণ সম্পাদক কাজি জহিরের নামে তেমন কোনো বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ নেই। নির্বাচন প্রসঙ্গে তার বক্তব্য হচ্ছে, ২২নং ওয়ার্ড নির্বাচনে শিক্ষিত মানুষ প্রয়োজন। কারণ অশিক্ষিত লোক যদি জনপ্রতিনিধি হয় তাহলে সমাজে ভাল কিছু আসা করা যাবে না। এই ওয়ার্ডে যেই নির্বাচন করুক না কেন সাধারণ মানুষ সৎ শিক্ষিত ব্যাক্তিকেই নির্বাচিত করবে। আমিও একজন প্রার্থী আমাকে যদি ওয়ার্ডবাসী যোগ্য মনে করে তাহলে অবশ্যই ভোট দিবে। আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। সেই সুবাধে আমিও দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও