নাসিকে শক্ত প্রার্থীতায় ফিরবে বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১ সোমবার

নাসিকে শক্ত প্রার্থীতায় ফিরবে বিএনপি

দিন যাওয়ার সাথে ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। আর এই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন বরাবরই দেশের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়ে থাকে। বরাবরের মতো এবারও আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। তবে এই নির্বাচন আগে থেকেই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বিএনপি। তারপরেও কোনো শক্তিশালী প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকলে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তারা সেই শক্তিশালী প্রার্থী নিয়ে হয়তো হাজির হয়ে যাবেন। সেই সাথে নির্বাচনী সকল হিসেব নিকেস উল্টিয়েও দিতে পারেন।

সূত্র বলছে, আগামী জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিকল্প হিসেবে কেউ নিজেকে জাহির করতে পারেনি। একমাত্র আইভীকেই আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা নিয়ে নেতাকর্মীরা সরব থাকলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো শক্তিশালী প্রার্থী আবির্ভাব হয়নি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও আওয়ামী লীগের মেয়র আইভীর তুলনায় তাদের অবস্থান একটু কম।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ আলোচনায় থাকলেও তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য তার অবস্থান এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করেননি। সেই সাথে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় মেয়র প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তার আলোচনাও অনেকটা কমে গেছে।

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশে আপাতত কোন নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিবেন না জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের বাবা মোস্তাফিজুর রহমানের কুলখানীর ভোজ শেষে একথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত বা আলোচনায় হয়নি। তবে বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে দলীয়ভাবে কোন নির্বাচনেই অংশ নিবে না। কারণ বর্তমান সরকার জবরদস্তিমূলক দখলদার সরকার। ফ্যাসিবাদ সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। বর্তমান সরকার সকল নির্বাচন তাদের মত করে পরিচালনা করেছে। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ রেখে একটি তোষণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। সরকার অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় আগের রাতে ভোটবাক্স ভরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যে কারণে দেশে বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যে বিএনপির নির্বাচনের অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের অবস্থান অনেকটাই পরিস্কার। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য বিএনপির কোনো শক্তিশালী প্রার্থী প্রস্তুত থাকলে তারা সহজে ছেড়ে দিবেন না মাঠ। খালি মাঠে আওয়ামী লীগকে একা গোল করতে দিবেন না বিএনপি। নির্বাচনী মাঠে ফেরার তাদের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি মাঠে ছিলেন। তবে সেবার বিএনপির কোনো শক্তিশারী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তু সে সময়ে তিনি মাঠ জমিয়ে তুলতে পারেননি। সেই নির্বাচনে জয়েও দেখাও পাননি। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ধারে কাছেও পৌছাতে পারেননি সাখাওয়াত হোসেন খান।

তবে সে সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রথম পছন্দের তালিকায় ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তাকে অনেকভাবে বলা হয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য। কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার অনুরোধ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য। কিন্তু অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার শেষ পর্যন্ত আর রাজী হননি।

এরপর কেন্দ্রীয় বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তাকে বলা হয় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য রাজী হননি।

তারপর বিএনপির পছন্দের তালিকায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তাকেও অনেকবার অনুরোধ করা হয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য। কিন্তু তিনিও রাজী হননি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য।

এভাবে একে একে বিএনপির তিনজন প্রভাবশালী নেতা রাজী না হওয়ায় কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাকে নিয়ে মাঠে নামেন বিএনপির নেতারা। কিন্তু অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। নির্বাচন শেষে বিএনপির পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ফিরতে হয়।

আর এবারের নির্বাচনে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য যদি কোনো শক্তিশালী প্রার্থী পেয়ে যান তাহলে সহজে মাঠ ছেড়ে দিবেন না। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও