তবে কি উপজেলাতেও নৌকা ভাড়া!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১ সোমবার

তবে কি উপজেলাতেও নৌকা ভাড়া!

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুতুবপুরে সেন্টুর হাতে নৌকা তুলে দেয়ার মত চমক প্রত্যাশা করেননি কেউই। মাসজুড়ে নৌকার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও সেন্টু নৌকা পাবেন তা বিশ্বাস করেননি অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা। বিএনপি আওয়ামী লীগ যৌথভাবেই ভেবেছিলো স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচন করতে হবে সেন্টুকে। কিন্তু শেষতক অসাধ্যকে সাধন করতে পেছেন তিনিই। আর এতে করে ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

কুতুবপুরে বিএনপির কাছে নৌকা প্রতীক চলে যাওয়াকে অনেকেই বলেছেন নৌকা বেঁচে দেয়া হয়েছে। আবার কেউ বলছেন নৌকা ভাড়া নিয়েছে খাস বিএনপির নেতারা। ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে অসাধ্যকে সাধন করে দেখিয়েছেন। এতে উভয় দিকেই লাভবান হয়েছে ওসমান পরিবার। আর অবমূল্যায়িত হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে দল করে আসা দলীয় নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির স্থলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দৃষ্টি বহুদিন ধরেই। এই দুটি পদে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক আওয়ামী নেতা রয়েছেন যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী। কিন্তু এদের একজনকে দিলে মন খারাপ করবেন আরেকজন। আর তাই বিএনপির বর্তমান জনপ্রতিনিধিকে সেই আসনে বসিয়ে নিজেদের কাজ হাসিল করে নেয়াকেই শ্রেয় ভাবছেন কেউ কেউ। এতে করে নিজেদের ভেতরে মনমালিন্যও হয়নি এবং ব্যক্তি স্বার্থও উদ্ধার হয়েছে পুতুল হয়ে থাকা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে।

নির্বাচন অফিস সূত্র বলছে, উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশনকে কেন্দ্র করে বন্ধ আছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে শেষবার অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপরে সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়। এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী। রিট আবেদনকারী ৩ জনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

আসাদ চৌধুরী সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি নিত্যান্ত একজন ছা পোষা লোক। লেখাপড়া তেমন জানেন না। ফতুল্লা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আজাদ বিশ্বাসের ভায়রা মোস্তাফিজুর রহমান রুমী চৌধুরীর ফুট ফরমাশ খাটে সে। ২নং আবেদনকারী বজলু তৈমূর আলমের ভাগ্নে ও ছাত্রদল নেতা রুশোর ভাই। অপরজন হামিম মুন্সী কাশিপুর গোয়ালবন্দ এলাকার যুবদল নেতা ও আজাদ বিশ্বাসের কর্মী বলে পরিচিত। তিনজন অপরিচিত মুখ দিয়ে আদালতে রিট করার পেছনের কারিগর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কথা আড়ালে আবঢালে স্বীকার করেছেন অনেক বিএনপি নেতা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সবশেষ সারাদেশে যখন উপজেলা নির্বাচন হচ্ছিলো তখন সদর উপজেলায় প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছিলো। তাঁর মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, জেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া সাজনু। তাঁদের সকলেই মূলত শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

তবে এই নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে সদর উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি আশ্বাস দিয়েছিলেন এমপি শামীম ওসমান। তবে সেই আশ্বাসের কোন বাস্তবায়ন ঘটেনি। এমনকি দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপও নিতে দেখা যায়নি এমপি শামীম ওসমানকে। যে কারণে হতাশায় নির্বাচনের দাবির বিষয়টি ভুলেই গেছে সেসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

সূত্রটি আরও জানায়, বর্তমানে শামীম ওসমানের অন্যতম অনুগামীদের মধ্যে শাহ নিজাম ও জাকিরুল আলম হেলাল অন্যতম। উপজেলা নির্বাচন যখন সারাদেশে হচ্ছিলো তখন দুই অনুগামীকে নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছিলেন শামীম ওসমান শিবির। কারণ এই দুজনেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়ণ প্রত্যাশী। ফলে কাকে রেখে কাকে মনোনয়ন দিবেন সেটা নিয়ে বিব্রত ছিলেন। কারণ শাহ নিজামকে মনোনয়ন দিলে জাকিরুল আলম হেলাল ক্ষুদ্ধ হবেন বিপরীতে জাকিরুল আলম হেলালকে মনোনয়ন দিলে শাহ নিজাম ক্ষুদ্ধ হবেন। তিনি না পারছেন শাহ নিজামকে ক্ষুদ্ধ করতে পারছেন না আবার জাকিরুল আলম হেলালকেও ক্ষুদ্ধ করতে। এতে করে শামীম ওসমান বলয় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছেন না।

একই বিষয় তৈরী হয়েছিলো কুতুবপুরে। উপজেলায় নির্বাচন না হওয়ায় কুতুবপুরে ভেতরে ভেতরে প্রত্যাশা রেখেছিলেন কেউ কেউ। উপজেলার মত একই কারনে দলের বাইরে সেন্টুকেই রাখতে মৌন সম্মতি ছিল বলয়ের। তবে গত নির্বাচনে নৌকাকে ডুবিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেন্টু জয়ী হওয়ায় কেন্দ্রে বাঁকা চোখে পড়েছিলো আওয়ামী লীগ। এবার যাতে সেই বাঁকা দৃষ্টিতে না পরতে হয় তাই সেন্টুর হাতেই তুলে দেয়া হলো নৌকা। একই ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও একই পরিনতি ঘটবে কিনা তা নিয়েও জল্পনা কল্পনা তৈরী হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলার কারনে ঝুলে থাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবার খবর শোনা যাচ্ছে। প্রভাবশালীর নির্দেশ পেলেই উঠিয়ে নেয়া হবে মামলা। আর তাই উপজেলার প্রার্থীতা নিয়েই গুঞ্জন সকলের মাঝে। সামনে যদি উপজেলা নির্বাচন হয় তবে ওসমান পরিবারের বিশ্বস্থ বিএনপির নেতা আবুল কালামই থাকতে পারেন এই দায়িত্বে। আর সেক্ষেত্রে তার হাতে নৌকা তুলে দিলে অবাক হবেন না কেউই, কারন অবাকের পালা শেষ হয়েছে সেন্টুর মাধ্যমেই।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৌকার সাথে সেন্টু ও আজাদ বিশ্বাসের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। কে বা কারা এই ছবিটি তৈরী করে ছড়িয়ে দিয়েছে ফেইসবুকে। আর এনিয়েই গুঞ্জন, আলোচনা এবং হাস্যরস তৈরী হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ওসমান পরিবারের কাছে অনুগত থাকার প্রতিদান পেয়েছেন বিএনপির সেন্টু। আগামীতে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভাড়ায় নৌকা পেতে পারেন আজাদ বিশ্বাসও। কারণ তিনিও ওসমান পরিবারের কাছে বিশ্বস্থতার কোন দিক থেকেই পিছিয়ে নেই।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও