যুবদল কমিটি বদলে গেল কেন্দ্রে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১ সোমবার

যুবদল কমিটি বদলে গেল কেন্দ্রে

কমিটি গঠনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছেন। প্রথমে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এরপর কর্মসূচি নিয়ে এবং সবশেষ তাদের অধীনে থাকা ইউনিট কমিটি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল যে কমিটি দিয়েছেন কেন্দ্রে সে যুবদলের কমিটি পরিবর্তন হয়ে গেছে। একই উপজেলায় দুই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। ফলে কে আসল কে নকল কিংবা কে মূলধারা তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের অধীনে থাকা আড়াইহাজার উপজেলায় আহবায়ক কমিটির অনুমোদ দেয়া হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন স্বাক্ষরিত এই কমিটিতে মো. জহিরুল ইসলাম জহিরকে আহবায়ক করে এবং কবির হোসেন ভিপিকে সদস্য সচিব করে ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত কমিটি আড়াইহাজার উপজেলায় কবির হোসেনকে আহবায়ক, রুহুল আমিন মোল্লা এবং মো. খোরশেদ আলম ভূইয়াকে সদস্য সচিব করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জেলা যুবদল ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় যুবদল দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছে। সেই সাথে জেলা যুবদলের কমিটির সাথে কেন্দ্রের কমিটির কোনো মিল নেই।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আগে জেলাই উপজেলা থানা কমিটির ঘোষণা দিত। এখন বিভাগীয় টিম করার কারণে কেন্দ্র থেকেও এসকল কমিটি ঘোষণা দেয়। আমরা যে কমিটি ঘোষণা দিয়েছি সেটা কেন্দ্রে জমা দিয়েছিল। কেন্দ্রে জমা দেয়ার পরও তারা আবার নতুন করে কিভাবে কমিটি দিল এটা তারাই বলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে কমিটি দিয়েছি সেখানে সকলকে সমন্বয় করে কমিটি দেয়া হয়েছে। এখানো কোনো ভাই কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ দেখা হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে হতাশ। আমরা এখানে রাজনীতি আমরা জানি কারা কাজ করতে পারবে।

সূত্র বলছে, দীর্ঘ প্রায় কয়েক যুগ ধরেই আহবায়ক কমিটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কোন সময়ই এর পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। তবে দীর্ঘদিনের সেই রেকর্ড ভঙ্গ করে ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ৫ মাস পরই জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যা এর আগে কখনও এত অল্প সময়ের মধ্যে কমিটির ঘোষণা হয়নি।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার শুরুতেই দেখা দেয় বিতর্ক। জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। পদ দেয়ার বিনিময়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ফলে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়ে যায় দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরাও। যার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন রকম উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়নি। এতদিন পর জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি।

সেই বিতর্কের রেস কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনিরুল আলম সেন্টুর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। যে মনিরুল আলম সেন্টুর নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন পদ ছিল না। সে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর তার পক্ষ থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি হয়ে শহীদুল ইসলাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে মো. মনিরুল আলম সেন্টু বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে কয়েকবার দল থেকে বহিস্কারও হয়েছেন। নিজের চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি নেতা হয়েও ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের ‘পীর’ মানেন তিনি। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের পক্ষে কাজ করেছেন তিনি। আর তার পক্ষেই জেলা যুবদলের সভাপতি হয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম টিটু। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতিক পেয়ে নির্বাচন করছেন।

সেই সাথে দলীয় কর্মসূচি পালনে বিতর্কে থেকে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের। কমিটি গঠনের শুরু থেকেই বিএনপি দলীয় কর্মসূচিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। পদে থাকা নেতাদের বেশিরভাগই থাকেন অনুপস্থিত। বরাবরই কর্মসূচির নামে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলকে কয়েক মিনিটের ফটোসেশন করতে দেখা যায়। যা নিয়ে তৃণমূলে দেখা যায় ক্ষোভ। তারা এটাকে শীর্ষ নেতাদের স্ট্যান্টবাজি হিসেবে ধরে নেন।

একই সাথে ফতুল্লা থানা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ২৭ জুন মাসুদুর রহমান মাসুদকে আহবায়ক ও সালাহউদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ফতুল্লা থানা যুবদলের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায় কমিটি ঘোষণা করা হয়। যে কমিটি পদধারী অনেক নেতা জেলার যুবদলেরও শীর্ষ পদধারী। তারা এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেছেন। পাশাপাশি এই কমিটিতেও নিস্ক্রিয় নেতাদেরকে জায়গা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে অনেক বিতর্কিত নেতারাও রয়েছেন। ফলে এই কমিটি নিয়েও সন্তুষ্ট নয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর এভাবেই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন জেলা যুবদল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও