জীবনের চেয়ে সময় অনেক মূল্যবান

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৯ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার

জীবনের চেয়ে সময় অনেক মূল্যবান

“জীবনের চেয়ে সময় অনেক মূল্যবান” এ শ্লোগানটি যার জীবনের মূলমন্ত্র সেই ব্যক্তিত্ব কলামিস্ট, রাজনৈতিক ও প্রতিযশা আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার ১৯৫৩ সালের ১৯ অক্টোবর জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন মাতুলালয়ে তারাবো পৌরসভাধীন খাদুন গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

৬৮ বছর শেষ করে ৬৯তে পা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তৈমুরের বাবা শাহআলম খন্দকার ছিলেন বিলুপ্ত গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক এর বাংলাদেশ ও নারায়ণগঞ্জ শাখার ম্যানেজার। ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন্ডলেজ ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন। শাহআলমের বাবা তোরাব আলী খন্দকার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন।

তৈমুরের শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জ ও রূপসীতে। শহরের গলাচিপা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসী খন্দকার বাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রাইমারী পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু সড়কে গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক এলাকাতেই প্রথমে তারা বসবাস করতেন। পরে শাহআলম খন্দকার শহরের মাসদাইরে জায়গা কিনে সেখানে বসবাস শুরু করেন।

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ফাস্ট ক্লাস পান তৈমুর। ৬৯ সালে তোলারাম কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। এ কলেজে পড়াশোনা কালে সংগঠক হিসেবে নিজেকে জাহির করেন।

মাসদাইরে প্রভাতী কল্যাণ সংস্থা, মুসলিম একাডেমী করার পাশাপাশি দিনমজুরদের বিভিন্ন সংগঠনও শুরু করেন। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান গাড়ি, রিকশা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ শুরু করেন তৈমূর। কলেজ জীবনেই বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার সঙ্গে ঘনিষ্টতা হয় তৈমূরের। ওই সময়ে চুনকার আশেক হিসেবেই পরিচিতি পান।

তৈমূরের দাবী, সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যখন চুনকার বিরোধ তুঙ্গে তখন আমাকে খুব অনুভব করতেন চুনকা ভাই। আমরা দুইজন প্রায় সময়ে নীরবে অনেক কথা আর আলোচনা করতাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। ৭৪ সালে ডিগ্রী পরীক্ষায় সেকেন্ড ক্লাস পায়। পরে তৈমূর ভর্তি হন নারায়ণগঞ্জ ল কলেজে। এ কলেজ থেকে ৭৬ সালে ল পাশ করে ৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮২ সালে ঢাকার মগবাজার এলাকার হালিমা ফারজানার সঙ্গে বিয়ে হয় তৈমূর আলম খন্দকারের।

৮৪ সালে তৈমূর চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যারিস্টার পড়াশোনা করে ৩পার্টের মধ্যে পার্ট ১ ও ২ শেষ করেন।

৮৫ সালে দাদা তোরাব আলী মাস্টার মারা গেলে তৈমূর দেশে ফিরে আসলে আর বিলেতে যাওয়া হয়নি। তৈমূর আলম খন্দকারের ২ মেয়ে।

বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার ই য়াম খন্দকার বিবাহিত। তিনি এখন বাবা তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গেই কাজ করেন। ঢাকার পল্টনে মেহেরাবা প্লাজায় চেম্বার। ছোট মেয়ে নুসরাত খন্দকার ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে এলএলবি অনার্স শেষ করে মাস্টার অব ল পড়ছেন।

১৯৯৬ সালে তৈমূর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও শামীম ওসমানের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

ওই সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তনের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন করে আওয়ামী লীগ যার তীব্র বিরোধীতা করেন তৈমূর। একই সময়ে সাবেক এমপি আবুল কালাম নিস্ক্রিয় হলে তৈমূরকে সে সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ দেওয়া হয়।

শহরের শায়েস্তা খান সড়কে তৈমূরের চেম্বার থাকলেও শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে ঢাকায় থেকে হাইকোর্টে আইন পেশা চালিয়ে যান তিনি। ওই সময়ে একটি রাজনৈতিক মামলায় হাইকোট থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় ওঠে আসেন।

১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি মিছিলে গুলি করে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। ওই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। ঢাকায় অবস্থান করাকালীন ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা ঘটনায় তৈমূর আলমকে আসামী করা হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামাত জোট সরকার তৈমূর আলম খন্দকারকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বানায়।

২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তৈমূর আলমের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আতাতীয়দের হাতে খুন হয়। সাব্বির আলম হত্যার ঘটনায় বিএনপি দলীয় এমপি সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছাত্রদল ক্যাডার জাকির খানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর তৈমূর আলমের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তৈমুর আলমের ক্ষমতা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়।

২০০৩ সালে তৈমুরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রথমবারের মত তার আইনজীবি হিসেবে আইনী লড়াই চালিয়েযান তৈমুর। পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করে যার মধ্যে একটি মামলায় ১২ বছরের জেল হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে মুক্তি পান তৈমুর। ওই বছরের জুন মাসে তৈমুরকে আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। বছরের শেষের দিকে ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৈমুর হন জেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ১৮দলীয় ঐক্য জোটের আহবায়ক করা হয়। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। বিএনপি প্রথম দিকে তাকে সমর্থন দিলেও ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহবায়ক।

নারায়ণগঞ্জ মুক ও বধির সংঘ ও নারায়ণগঞ্জ অন্ধকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি ছিলেন। তৈমূর আলম খন্দকার গণডাক নামে একটি জাতীয় সাপ্তাহিক সম্পাদনার মাধ্যমে মিডিয়া জগতে প্রবেশ করেন এবং বিচার বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে সম্পাদকীয় লেখার কারণে কয়েকবার আদালত অবমাননার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।

১৯৭৬ থেকে তার লেখা আর্টিকেল জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতি শনিবার “সময় অসময়”, প্রতি বুধবার দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইনকিলাব, আমাদের অর্থনীতি জাতীয় পত্রিকায় তার লেখা কলাম প্রকাশিত হওয়াসহ দেশের ভিতরে ও বাহিরে লন্ডন/আমেরিকা থেকে বাংলায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকগুলিতে নিয়মিত লেখক এবং ইলেকট্রিক মিয়াতে “টক-শো”তে জাতীয় বিভিন্ন সমস্যার উপর বক্তব্য রেখে প্রতিনিয়ত অংশ নিচ্ছেন।

স্বাধীনতার পর যৌতুক বিরোধী আইন পাশ করার জন্য ১৯৭৭-৮০ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মানব বন্ধন, র‌্যালী, সভা সমাবেশ সহ যৌতুকের অভিশাপ সম্পর্কে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় আর্টিকেল লিখে যৌতুক আদান প্রদানকে আইনগত অপরাধ হিসাবে গণ্য করার জন্য শক্ত জনমত গড়ে তোলেন। ফলশ্রুতিতে ১৯৮০ সালে জাতীয় সংসদে যৌতুক নিরোধ আইন অনুমোদন হয়।

অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধেও তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন। আশির দশকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প মেলায় ব্যানারে জুয়া, মাদকতা ও অসামাজিক ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী শুরু হলে নারায়ণগঞ্জে তার নেতৃত্বে প্রতিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় নারায়নগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়াম মেলায় অগ্নিসংযোগ হলে তাকে প্রধান আসামী করে তৎকালিন মহকুমা প্রশাসন মামলা দায়ের করে। তার বাড়ীর মালামাল ক্রোক করার আদেশ দিলে তোলারাম কলেজের ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসন মামলা রুজু করলেও মালামাল ক্রোক করা থেকে বিরত থাকে। তৎকালিন জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা তাকে জামিন প্রদান করেন এবং দীর্ঘদিন মামলা চলার পর তিনি অব্যাহতি পান।

এছাড়াও তিনি চারদলীয় ঐক্যজোট ও ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি কন্টকময় জীবন যাপন করতে হয়, তার নারায়ণগঞ্জস্থ ২৭নং এস.কে. রোডের চেম্বার জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বাড়ী ঘরে বোমা বিস্ফোরন ও সশস্ত্র হামলা ছিল নিয়মিত ঘটনা।

তৈমূর আলম খন্দকার বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকেই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়াও গণ বিদ্যানিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাটাগরির সদস্য ও নারায়নগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার দাতা সদস্য। তৈমূর আলম খন্দকার মা’য়ের নামে বেগম রোকেয়া খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া খন্দকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, নানার নামে মনির উদ্দিন ব্যাপারী কাওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

স্বাধীনতার পর যখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে “ইসলাম” ও “মুসলিম” শব্দটি উঠিয়ে দেয়া হয়, তখন তিনি নারায়ণগঞ্জে শহীদ সাব্বির খন্দকার সড়কে (মাসদাইরে) প্রতিষ্ঠা করেন “মুসলিম একাডেমী” এবং অনৈতিক ও অনৈসলামিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। মায়ের নামে রাস্তা করার জন্য তারাবো পৌরসভাকে জমি দান করেছেন। বাঙালী সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত এবং দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক সম্প্রীতি দৃঢ় করার জন্য প্রতি বৎসর ১লা বৈশাখ নিজ বাড়ী রূপসীতে ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে প্রচুর পরিমাণ সমাবেশের মাধ্যমে প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন। রূপগঞ্জে আবাসন প্রকল্প নামে গড়ে উঠা ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কৃষক ও জমির মালিকদের পক্ষে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোলাব ইউনিয়নকে ভূমিদস্যু মুক্ত করেন।

২০০৭ সনের সংসদ নির্বাচনে ৪ (চার) দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনে প্রতিধন্ধীতা করার জন্য মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তারেক রহমান গ্রেফতার হলে তিনি আইনজীবী হিসাবে প্রথম আইনী লড়াই শুরু করে টাক্সফোর্সের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ৪দিন শুনানীতে অংশ গ্রহণের পর ৫ম দিনে কোর্টে যাওয়ার পথে টাক্স ফোর্স তাকে গ্রেফতার করে নারায়নগঞ্জ জেলার প্রায় ১হাজার লোককে বিআরটিসিতে স্থায়ী চাকরী দেয়ার অভিযোগে ১৮/৪/২০০৭ ইং তারিখে গ্রেফতার করলে তিনি ২৬ মাস কারাভোগ করেন। ২০০৯ সনে ১৪মে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হলে ০৪/৬/২০০৪ ইং সনে শাহবাগে বিআরটিসি’র দোতলা বাসে গানপাউডারের মাধ্যমে অগ্নি সংযোগে ১১ জন পুড়িয়ে মারার মামলায় পুনরায় জড়িত করে সি.আই.ডি কর্মকর্তা আঃ কাহার আখন্দের নেতৃত্বে একটি টিম ১৫/১২/২০১০ ইং তারিখ থেকে একাধারে কয়েকদিন ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তিনি পরে অব্যাহতি পেয়েছেন।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষানী প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর, নারায়নগঞ্জ আইন কলেজের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। “ভলভো” বাস তার সময়েই রাজধানীতে চলাচল শুরু, সংস্থাটির ব্যাপক উন্নতিসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০টি পুনরায় ডিপো চালু করে দেশব্যাপী বিভিন্ন রুটে যাত্রী সেবা বৃদ্ধি করেন।

ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস তার প্রচেষ্টায় চালু হয়। বিআরটিসির বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও বিভিন্ন জেলায় নতুন জায়গা ক্রয় করে ১৮টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, হাইওয়ে এস্বুলেন্স সার্ভিস, বিআরটিসি পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিবন্দীদের ৫০% ভাড়ায় বিআরটিসি বাসে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তিনি কলোম্বিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সিঙ্গাপুর, ভারত সফর করেন। ব্যক্তিগত ভাবে সৌদি আরব, থাইল্যান্ড ও মালোয়শিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র সফর করেছেন। ধর্মের প্রতি অনুরাগী বিধায় বিভিন্ন রাষ্ট্রে ইসলাম ধর্মের ত্বত্ব দর্শনিক, কামেল ব্যক্তিদের মাজার জেয়ারত ছাড়া অনেক বার স্বপরিবারে পবিত্র হজ্ব ও ওমরা পালন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য সরকারের নিকট তিনি সর্বপ্রথম বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উল্লেখ করে “নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন” গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেন। ২০১১ সনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রতিধন্ধিতা করার জন্য বিএনপি মনোনয়ন প্রদান করলেও নির্বাচনের মাত্র ৫ ঘন্টা পূর্বে খালেদা জিয়ার নির্দেশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

তৈমূর আলম খন্দকার সুপ্রীম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনে সনদপ্রাপ্ত একজন আইনজীবী। তার প্রর্নীত “মীর জাফর যুগে যুগে” এবং “সময় অসময়” “রাজনীতির ভগ্নাংশ” ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তার লেখা পরবর্তী প্রকাশনা “জাতি স্বত্তার অন্তরালে বিষাক্ত নিঃশ্বাস”, “ভুলে ভরা এ জীবন”, “মিথ্যার নিকট জাতি পরাজিত”, “আমলাতন্ত্র: যখন যেমন, তখন তেমন” প্রকাশের অপেক্ষায়। ২ কন্যা সন্তান, ব্যারিষ্টার মার-ই-য়াম খন্দকার ও নূসরাত খন্দকারের জনক তিনি। ২০১৪ইং সনে একই দিনে জন্ম তার দৌহিত্র আরহাম মোহাম্মদ তৈমূর আল-হোসাইন এবং আরয়াজ মোহাম্মদ তৈমূর আল-হোসাইন তার সর্বাধিক প্রিয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও