নারায়ণগঞ্জে বড়দিনে ‘বড় উৎসব’ আসছেন না আইভী

|| নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৬ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার

নারায়ণগঞ্জে বড়দিনে ‘বড় উৎসব’ আসছেন না আইভী

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদ্যাপনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নারায়ণগঞ্জের দুটি প্রতিষ্ঠান। দিনটি উপলক্ষে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। রবিবার ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে প্রার্থনা সভা, কেক কাটা, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গির্জা ও সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ব্যাপ্টিস্ট চার্চকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। তৈরি করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি (আলোকসজ্জিত গাছ)।

নারায়ণগঞ্জ জেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিন্টু পলিকাপ পিউরিফিকেশন বলেন, ‘এবার আমরা তেমন আয়োজন করিনি। অনেকটা সাদামাটা আয়োজন চলছে। সকাল ১১টায় আমরা কেক কাটবো। আমাদের অনুষ্ঠানে এবার জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক উপস্থিত থাকবেন। এবার মেয়রের দায়িত্বে না থাকায় আইভী এবারের অনুষ্ঠানে আসছেন না। মুলত অনুষ্ঠানের পর সবাই বাইরে উৎসব করে, কিন্তু আমাদের এখানে পর্যাপ্ত যায়গা নেই তাই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টগুল সাজিয়ে আয়োজন করা হয়।’

পিন্টু পলিকাপ পিউরিফিকেশন বলেন, আইভী আপার সাথে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন এবার তিনি মেয়রের দায়িত্বে নেই তাই তিনি আসবেন না। তবে পরবর্তী বছর তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী দুটি গোত্রের (ক্যাথলিক ও ব্যাপ্টিস্ট) জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরে দুটি গির্জা রয়েছে। ক্যাথলিকদের জন্য শহরের ১৩৫ বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জা ও ব্যাপ্টিস্টদের জন্য সিরাজউদ্দৌলা সড়কে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ। ব্যাপ্টিস্ট চার্চটি ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। চার্চ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রেভারেন্ড রামচরণ ঘোষের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ চার্চে ধর্মীয় আচার ছাড়াও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজকর্মও হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে চিকিৎসা সেবা, মাতৃসদন, শিক্ষাদান উলে¬খযোগ্য। অন্যদিকে সাধু পৌলের গির্জা ১৯৪৯ সালে ইতালিয়ান ফাদার জন সে ক্যাথলিক গির্জা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি গির্জার নাম দেন সাধু পৌলের গির্জা।`

জেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড সৌরভ দেউড়ী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় খ্রিস্টানদের সংখ্যা হাতেগোনা, এদের মধ্যে অনেকেই ঢাকায় উৎসব পালন করতে চলে যান, আবার অনেকে আমাদের সঙ্গে পালন করেন। আমাদের আলোকসজ্জা ও ক্রিসমাস ট্রি সম্পন্ন হয়েছে।`

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ছাড়াও ফতুল্ল¬ার সস্তাপুর, পাগলা, দেলপাড়া, বন্দরের লক্ষ্মণখোলা, সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড, সদর থানার গোগনগর এলাকায় খ্রিস্টানদের বাস। তাদের বেশির ভাগই চাকরিজীবী। বিশেষ করে গার্মেন্টস, বায়িং হাউস, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ও বিউটি পার্লারে কর্মরত। নারায়ণগঞ্জে ক্যাথলিক ও ব্যাপটিস্ট ছাড়াও খ্রিস্টানদের কয়েকটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকও রয়েছে। তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জে কোনো চার্চ নেই। তারা বাসায় কিংবা অফিসে অথবা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বড়দিন উপলক্ষে অস্থায়ী গির্জা তৈরি ও ক্রিসমাস-ট্রি সাজিয়েছে।

বড় দিনের নিরাপত্তার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন (ডিএসবি) বলেন, ‘দুটি গির্জায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করছে।’

তবে নারায়ণগঞ্জে ক্যাথলিক ও ব্যাপিস্টমন্ডলী ছাড়াও কিছু ক্ষুদ্রমন্ডলী রয়েছে। তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জে কোনো চার্চ নেই। তারা স্থানীয়ভাবে বাসা, অফিস বা রেস্টুরেন্টে বড়দিন উপলক্ষে অস্থায়ী গির্জা তৈরি করে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে বড়দিনের উৎসব পালন করে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও