দরিদ্রতার দূরের সহজ আমল : জুমআর বয়ানে মাওলানা লুৎফর

রোমান চৌধুরী সুমন, বাংলাদেশ প্রতিদিন || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৭ শুক্রবার

দরিদ্রতার দূরের সহজ আমল : জুমআর বয়ানে মাওলানা লুৎফর

ফতুল্লার মাসদাইর গর্ভমেন্ট গার্লস স্কুল সংলগ্ন বায়তুস সালাম মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব মাওলানা লুৎফর রহমান বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে পবিত্র কোরআন পাকে বর্ণিত সূরা ওয়াকিয়াহ পাঠ করবে দারিদ্রতা তাকে স্পর্শ করবে না। তার কোন দিন রিজিকের অভাব হবে না। এক্ষেত্রে এক হাদীসের বর্ণনায় তিনি বলেন, সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসাউদ (রাদি) মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। ইসলামের খলিফা হযরত ওসমান (রাদি) অসুস্থ্য সাহাবী মাসাউদকে দেখতে গেলেন। সে সময় তিনি সাহাবী মাসাউদকে অনুরোধ করে বলেন, আমি আপনার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থা করি। মাসাউদ বললেন, সবচেয়ে বড় চিকিৎসক তো আল্লাহ। যিনি আমাকে অসুস্থতা দিয়েছেন। ডাক্তারা কি করবে। সুস্থতার মালিক তো আল্লাহ। এ সময় ওসমান (রাদি:) আবার বলেন, আমি আপনার জন্য বায়তুল মাল থেকে কিছু হাদিয়া এনে দেই। এতে আপনার মৃত্যুর পর আপনার মেয়েদের ভবিষৎতের জন্য কাজে আসবে। জবাবে মৃত্যুশয্যায় থাকা সাহাবী মাসাউদ বলেন, কোন দরকার নাই। আমার রসূল হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে আমি এরশাদ করতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে পবিত্র কোরআন থেকে সূরা ওয়াকিয়াহ পাঠ করবেন তার কোন দিন দারিদ্রতা আসবে না। রিজিকের অভাব তাকে স্পর্শ করবে না। আমি আমার মেয়েদেরকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছি। অতত্রব হাদিয়ার দরকার নাই। কোরআন পাকের ওই সূরাই তাদের রিজিকের জন্য যথেষ্ট।

২৪মার্চ শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে মসজিদের বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত মসিজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন চল্লিশ দিনের চিল্লায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রয়েছেন।  

মাওলানা লুৎফর রহমান উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, তাই আমাদের সকলের প্রতিদিন কোরআন পাঠ করতে হবে। আমারা যেমন আসমানের তারকাকে ঝলমল করতে দেখি। ঠিক তেমনি যে ঘরে কোরআন পাঠ হয় সে ঘরকে ফেরেস্তারা তারকার মত ঝলমল করতে দেখে। যে ঘরে কোরআন পাঠ হয় সে ঘরে আল্লাহর রহম বর্ষিত হতে থাকে। শয়তার ঘর থেকে পলায়ন করে। প্রত্যেক বাবা মায়ের দায়িত্ব তার সন্তানদের সহি শুদ্ধ কোরআন শেখানোর ব্যবস্থা করা। না হয় কাল কেয়ামতে ময়দানে জবাবদিহি করতে হবে। দুনিয়ার শিক্ষার জন্য সন্তানদের পেছনে যে শ্রম দেওয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে আল্লাহর পবিত্র কোরআন ও ইমান শিক্ষায় কতটুকু শ্রম দেওয়া হয়েছে। তিনি সকলের ঘরে ঘরে আল্লাহর রহমতের আশায় কোরআন পাঠ করার তাগিদ দেন।

এ সময় ব্যাখায় তিনি বলেন, আজকাল রিজিকের জন্য আমার হালাল ও হারাম বিচার করছি না। রিজিকের জন্য পেরেশান হয়ে রিজিকের পেছনে দৌড়াচ্ছি। অথচ সূরা ওয়াকিয়াহ পাঠ করলে রিজিক সহজ হয়ে যাবে তা নিশ্চয়তা আছে। কিন্তু নিশ্চিত নিশ্চয়তার পথকে অবলম্বন না করে আজ আমরা অনিশ্চিত রিজিকের পেছনে ছুটে আমলের সময় পাচ্ছি না। নামাজ ছেড়ে দিচ্ছি। নামাজের সময় হলেও কাজে মত্ত থাকছি।

তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা মূলক পাঠ করবে। তার জন্য কবরে সূরা মূলক সুপারিশ করবে। কবরে তার আজাব হবে না।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও