সোমবার দ্বিতীয় রোজা : আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সাফল্য অর্জন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৬ পিএম, ২৮ মে ২০১৭ রবিবার

সোমবার দ্বিতীয় রোজা : আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সাফল্য অর্জন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। খোশ আমদেদ পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক। আহলান ওয়া সাহলান। সুস্বাগতম হে আত্মার মাস, আল্লাহর মাস, আল কোরআনের মাস এবং ইনসানিয়াতের মাস। পরম করুণাময় রহমানুর রহিম রাব্বুল আলামিন আল্লাহকে জানাই শত কোটি প্রশংসা, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

মাহে রমজানুল মোবারকের দ্বিতীয় দিবস সোমবার ২৯ মে। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াত ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে মশগুল ইমানদার রোজাদাররা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা পানাহার ও সব ধরনের জৈবিক চাহিদা থেকে নিজেদের বিরত রেখে মানবীয় প্রবৃত্তি দমন ও নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাযকিয়ায়ে নফস অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির এবং ইহসান ব্যাপক অনুশীলন করার সুযোগ আসে। আর জীবনের সাফল্য তাযকিয়ায়ে নফস ও ইহসানে নিহিত রয়েছে।

কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাদ আফলাহা মান তাযাক্কা ওয়া যাকারাসমা রাব্বিহী ফাসল্লা’ অর্থাৎ নিশ্চয় সাফল্য অর্জন করে সেই ব্যক্তি যে শুদ্ধতা অর্জন করে এবং তার রবের নামে জিকির করে ও সালাত আদায় করে। (সুরা আ`লা: আয়াত ১৪-১৫)। ইহসান কি তা জানতে চেয়ে প্রিয়নবী হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, `আন তা`বুদাল্লাহা কা আন্নাকা তারাহু ফাইনলাম তাকুন তারাহু ফাইন্নাহু ইয়ারাক` অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করবে এমনভাবে যে, তুমি আল্লাহকে দেখছ। যদিও তুমি তাকে না দেখ, তিনি তো তোমাকে দেখছেন-ই।

এখানে একাগ্রচিত্তে ইবাদত করার কথা বলা হয়েছে। এই একাগ্রচিত্তে বা হুযুরি কলব হওয়ার গুণ অর্জন করতে হলে রিপুসমূহ অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ দমন করা জরুরি। রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে এগুলো দমন করার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয়।

আল্লাহ বলেন, বান্দার পাপ যত বিশালই হোক না কেন আমি তাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল তার প্রতি যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকাজ করে ও সৎপথে অবিচল থাকে। (তাহা ২০:৮২) আর তওবা কবুল হওয়ার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে রমজান মাস। এই মাসে কোনো মানুষ যদি তওবা করে পরিশুদ্ধ হতে চায় তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে তার জীবনকে পরিশুদ্ধ করে দেবেন।

হজরত মুহম্মদ (সা.) আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আসে তখন একজন আহ্বানকারী আহ্বান করেন : ইয়া বাগিইয়াল খায়রি আকবিল (হে কল্যাণকামী এগিয়ে যাও) ইয়া বাগিইয়াল শাররি আকসির (হে মন্দান্বেষী থাম)।

হাদিসে এসেছে, কেউ যদি লোক দেখানো সিয়াম রেখে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী করে মানুষের জীবন নির্বাহে কষ্ট সঙ্কট আনে তারা মূলত মানবতার শত্রু। তারা কেবল রমজানকে অবজ্ঞা করে না, সে নিজেকে যেন হত্যা করে। সে নিজের হাতে জাহান্নামের পথ তৈরি করে।

রমজান মাসকে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, এটা সহমর্মিতার মাস (শাহরুল মুওয়াসাত)। এই রমজান মাসে মানবতায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয়। এ কারণে এ মাসে মুনাফাখোর ও মজুদদারদের তাদের পাপের পথ থেকে সরে আসার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

কোরআন মজিদে মুসলমানদের ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের তাগিদ দিয়ে সুরা বাকারার ২০৮ নাম্বার আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, হে মুমিনরা, তোমরা ইসলামে পুরোপুরি প্রবেশ কর, আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আয়াতের মর্ম অনুযায়ী, ইসলামের নিয়মকানুন পুরোপুরি মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য এবং তা না করা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণের শামিল। মানুষের জীবনে যত ক্ষেত্র ও পর্যায় হতে পারে, সবকিছুর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। বিশ্বাস ও আচরণ, কায়কারবার ও নৈতিকতা, বিনোদন ও নান্দনিক সবকিছুই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে হবে ইসলামের নীতিমালা অনুসারে। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য বিভিন্ন আদর্শ অনুসরণ মুসলমানদের জন্য হতে পারে না। কেননা ইসলাম সামগ্রিক জীবনবিধানের নাম। ইসলামকে শুধু বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত জীবনের গ-ির মধ্যে সীমিত রেখে কায়কারবার ও সামাজিকতায় অন্য আদর্শ অনুসরণ করা হলে পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়া যাবে না। আর জীবনের ক্ষেত্রগুলোকে বিভাজন করা বাস্তবতারও পরিপন্থী। বিশ্বাসই নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের আচরণ। বিশ্বাস অনুযায়ীই মানুষ তার জীবনে ছক তৈরি করে। কাজকর্মের বিন্যাস করে। তবে একটি শ্রেণি পরিকল্পিত উপায়ে ও উদ্দেশ্যমূলক ভঙ্গিতে প্রচার করে যে, মানুষের বিশ্বাস নিজস্ব ব্যাপার। কার্যকলাপ ও পার্থিব জীবন হওয়া উচিত বাস্তবতা ও যুক্তির আলোকে। প্রকারান্তরে তারা বলতে চান, ধর্মীয় নির্দেশনার সঙ্গে বাস্তবতা ও যুক্তির অমিল রয়েছে। বস্তুত এ অভিযোগ অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু ইসলামের নীতিমালা ও আদর্শ সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবমুখী। কল্পিত কিংবা অবাস্তব বিষয় ইসলামে নেই। বিশেষ করে মানুষের বৈষয়িক জীবন ও কার্যকলাপ সম্পর্কে যে নির্দেশনা ইসলাম দিয়েছে, তার চেয়ে বাস্তবমুখী ও যুক্তিসঙ্গত কোনো নির্দেশনা হতে পারে না। এ পর্যন্ত কেউ আবিষ্কার করে দেখাতে পারেনি, আধুনিক যুগে মুসলিম উম্মাহ অনেক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও