বুধবার চতুর্থ রমজান : রোজা মুমিনকে আল্লাহর ঘরের দোরে পৌঁছে দেয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৯ পিএম, ৩০ মে ২০১৭ মঙ্গলবার

বুধবার চতুর্থ রমজান : রোজা মুমিনকে আল্লাহর ঘরের দোরে পৌঁছে দেয়

মাহে রমজানে রোজা পালন মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। মুমিনের আত্মাকে চির অভাবমুক্ত করে। আর যার মন উদার ও আত্মা পরিশুদ্ধ, সে দরিদ্র হলেও প্রকৃত ধনী। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আত্মার অভাব মুক্তিই হচ্ছে আসল অভাবমুক্তি।’ বুধবার হলো ৪র্থ রোজা।

তাই যে ব্যক্তি শুধু প্রথাগত রোজা পালন করে, কিন্তু দানশীলতা ও বদান্যতার চর্চা করে না, মাহে রমজানে তার এ রোজা তাকে আল্লাহও তার রাসূলের প্রিয় বানাতে পারবে না। হজরত ওমর ইবনে আবদুল আযিয (রা.) বলেছেন, ‘নামাজ মানুষকে আল্লাহর পথে অর্ধেক পৌঁছে দেয়। রোজা তাকে আল্লাহর ঘরের দরজার কাছে পৌঁছায়। আর দান-খয়রাত তাকে খোদ আল্লাহর ঘরে পৌঁছে দেয়।’

ইসলাম যেমন দানশীলতাকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি পরনির্ভরশীল হওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছে। মহানবী (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, `ওপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম, আর যারা তোমার অধীন আছে, তাদের থেকেই দান করা শুরু কর। আর উত্তম দান হচ্ছে তা, যা প্রাচুর্য থেকে প্রদান করা হয়। আর যে ব্যক্তি আত্মা থেকে পবিত্রতা চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন` (বুখারি ও মুসলিম)।

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার মুমিন বান্দার অন্তরে দানশীলতা ও বদান্যতার গুণাবলি সৃষ্টি হতে পারে। মানুষকে দানশীল, উদার হৃদয়, সহানুভূতিশীল, মানবদরদি ও পারস্পরিক কল্যাণকামী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইসলামের প্রতিটি বিধিবদ্ধ ইবাদত সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তাই রোজাদার ব্যক্তিকে ইবাদতে মগ্ন থেকে সহানুভূতি, সদয় আচরণ, দানশীলতা ও বদান্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে। রোজার দ্বারাই মানুষ দানশীল ও আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ হয়। দানশীলতা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, `আল্লাহপাক বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক আমিও তোমাকে দান করব।` (বুখারি ও মুসলিম)।

যিনি দাতা বা দানশীল তার হাত দানগ্রহীতা বা দান গ্রহণকারীর হাত থেকে উত্তম। দাতা শ্রেষ্ঠ এ জন্য যে তিনি দানশীলতা ও বদান্যতার মাধ্যমে অন্যের উপকার করেন। যেহেতু দান গ্রহণহীন কাজ, সেহেতু স্বীয় অধীনস্থ অভাবগ্রÍ আত্মীয়স্বজন থেকে প্রথম দান শুরু করে নিজের বংশের লোককে অন্যের কাছে হাত পাতা তথা দান গ্রহণ থেকে রক্ষা করতে হবে। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যারা আত্মমর্যাদাশীল অথচ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত, তারা প্রকাশ্যে সাহায্য চাইতে লজ্জাবোধ করলেও তাদের থেকে দান আরম্ভ করা অপরিহার্য। আর দান করে রোজাদার ব্যক্তির অন্তরে কষ্ট অনুভব করলে সেই দান আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় ও পছন্দনীয় হয় না। তাই প্রাচুর্য থেকে দান করলে অধিক পূণ্য হয়। কেননা এতে দাতার অন্তরে কোনোরূপ কষ্ট হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, `আর তাদের (ধনীদের) অর্থ-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।` (সূরা আল-যারিআত, আয়াত ১৯)।

যে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে তাকওয়া বা খোদাভীতি সৃষ্টি হলো না, ‘সামাহাত’ তথা দানশীলতা ও বদান্যতার গুণাবলি তৈরি হলো না, তার রোজা পালন নিছক উপবাস ছাড়া আর কিছু নয়। তাই যে ব্যক্তি মাহে রমজানে শুধু রোজা পালন করে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত, ত্যাগ-তিতিক্ষায় এগিয়ে আসে না, সমাজের গরিব-দুঃখীদের অভাব দূরীকরণ তথা দারিদ্র্যবিমোচনে হাত সম্প্রসারণ করে না, সে ব্যক্তি রমজান মাসের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়। এমন রোজাদার ব্যক্তির মর্যাদা একজন আবেদ সাধারণ দানশীল রোজাদারের মর্যাদার অনেক নিচে। একজন আবেদ রোজাদার ব্যক্তি রোজা রেখে মন থেকে কৃপণতা পরিহার করে যদি দানশীল না হন, তাহলে তিনি আল্লাহর কাছে কেবল রোজা রাখার জন্য তার রহমত লাভে বঞ্চিত হবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন কৃপণ আবেদের চেয়ে একজন মূর্খ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ আর যে ব্যক্তি রমজান মাসে দান-খয়রাত করে সে সাধারণ সময়ের দানের চেয়ে বহুগুণ বেশি সওয়াব পাবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রমজান মাসে এক দিরহাম দান-খয়রাতের বিনিময়ে সহ¯্র দিরহামের পূণ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।’

মাহে রমজানকে ‘শাহরুল মুওয়াসাতি’ বা সহানুভূতির মাস বলা হয়েছে। এ মাস সমাজের গরিব-দুস্থদের প্রতি অর্থ দ্বারা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। প্রতিটি রোজাদার মুমিন বান্দা রমজান মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে খাদ্য-পানীয়ের অভাবে গরিব-দুঃখী ও দরিদ্র অসহায় লোকদের কষ্ট অনুভব করে থাকেন। এ জন্য তাদের মধ্যে দানের প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজের ধর্মপ্রাণ ধনী সামর্থ্যবান রোজাদার ব্যক্তি রোজা পালনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদ গঠনে গরিব-দুঃখী, দুস্থ, অভাবী, অনাথ, এতিম, মিসকিন ও কপর্দকহীন পথচারীকে প্রয়োজনে অর্থ বণ্টন করে দেবেন। তারা ক্ষুধার্ত হলে প্রয়োজনে তাদের সেহির-ইফতারের বন্দোবস্ত করবেন, এটা মাহে রমজানে দানশীলতা ও বদান্যতা প্রদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মিসকিনকে দান করা হলে তা একটি দান মাত্র, কিন্তু নিকটাত্মীয়, দরিদ্রদের দান করা হলে তা যেমন দান, তেমনি তা আত্মীয়তার হক আদায়েরও ব্যবস্থা।’


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও