মসজিদ কমিটি দখলের চেষ্টায় মাকসুদ চেয়ারম্যান, হট্টগোল

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৬ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার

মসজিদ কমিটি দখলের চেষ্টায় মাকসুদ চেয়ারম্যান, হট্টগোল

মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে মাকসুদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ওই মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কিংবা নিয়মিত মুসুল্লী না হয়েও মুসুল্লীদের মতামতকে উপেক্ষা করে নিজের মনগড়া কমিটি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন চেয়ারম্যান মাকসুদ। নিজের মনগড়া কমিটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজ অনুগামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে মসজিদে শোডাউনও করেছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমআর নামাজের পরে কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল হলে মসজিদের মোতয়াল্লী কমিটির কার্যক্রম বিলুপ্ত করে ২ মাস পরে কমিটি গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

মুসুল্লীদের অভিযোগে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মুসুল্লীদের মতামতের ভিত্তিতেই গঠিত ও পরিচালনা হয়ে আসছিল। গত আগস্টে মসজিদের কয়েকশত মুসুল্লী পূর্বতন কমিটিই বহাল থাকবে বলে লিখিত কাগজে সাক্ষর করেন। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কতিপয় বিতর্কিত সদস্যের উপর ভর করে মাকসুদ চেয়ারম্যান মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের এলাকার বাসিন্দা হয়েও মসজিদ কমিটি দখলের পায়তারা শুরু করেন।

প্রায় এক মাস পূর্বে তিনি মসজিদে এসে স্থানীয় কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে পূর্বতন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এই অজুহাতে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি এডহক কমিটি গঠন করেন। এডহক কমিটিতে তিনি নিজেই আহবায়ক বনে যান। অথচ পূর্বতন কমিটির উপদেষ্টা ও এডহক কমিটিতে বাকী সদস্যদের বেশীরভাগেরই মতামত নেননি।

পরে কুড়িপাড়া বাজার ও মহল্লা জামে মসজিদে মিটিং না বসে দূরবর্তী এলাকার চাপাতলী নামিরা জামে মসজিদে মিটিং করেন। মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে নিজের অধিন্যস্ত ব্যক্তিকে অধিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে পূর্বতন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো শাহজালাল ভূইয়াকে ডিমোশন দিয়ে সহ সাধারণ সম্পাদক করে ২য় সহ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ওরফে জামানকে সাধারণ সম্পাদক পদে বসাতে চান। একই ভাবে নিচের দিকে সহসভাপতি থাকা শফিকুল ইসলাম ও মো: শরিফুল ইসলামকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে বসাতে চান।

গত ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মনগড়া কমিটি ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে নিজের বাহিনীর লোকদের মসজিদে জড়ো করেন বিতর্কিত চেয়ারম্যান রাজাকারপুত্র মাকসুদ। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে তার বাহিনীর সদস্য সালাউদ্দিন, বিল্লাল, সমরাট, রবিন, মোহন, এসহাক, ইকবাল, প্রণয়, হৃদয়, জামাল, তাওলাদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমআর নামাজের পরে স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুলকে সঙ্গে মাকসুদ চেয়ারম্যান নিজের মনগড়া কমিটি ঘোষণা করতে চাইলে তখন তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় মুসুল্লীদের সঙ্গে মাকসুদ চেয়ারম্যান অনুগামীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়। তবে বন্দর থানার ওসি ফখরউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে মসজিদের মোতয়াল্লীর আজিমউদ্দিন ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান শাহজাহান মসজিদের পূর্বতন কমিটি ও এডহক কমিটির সমস্ত কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি মুসুল্লীদের মতামত নিয়ে ২ মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করে দিবেন বলে ঘোষণা দেন। পরে বন্দর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বন্দর থানার ওসি ফখরউদ্দিন জানান, কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল। পরবর্তীতে কমিটি করা হবে এ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও