দ্বীনি শিক্ষার বাতিঘর বাগে জান্নাত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৪ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার

দ্বীনি শিক্ষার বাতিঘর বাগে জান্নাত

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাগে জান্নাত জামে মসজিদটি ৩৬ বছর পূর্বে ১৯৮৫ সালে আলী আহাম্মদ চুনকার আমলে স্থাপিত হয়। পুরাতন কবরস্থান হিসেবে (সরকারি কাগজপত্রেও) এই জায়গাটি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দেশিত। বহুকাল আগে থেকে মুসুল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মাহমুদের অনুমতি সাপেক্ষে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। ১৯৯৭ সালে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বাগে জান্নাত মাদরাসা নির্মিত হয়। চেয়ারম্যান নাজিম জীবনের শেষ বহুদিন নিয়মিত একটা সময় এই মসজিদ মাদরাসায় কাটিয়ে গেছেন। বর্তমানে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসাটি বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার অর্ন্তভুক্ত। এতে কওমী মাদরাসা বোর্ডের সর্বোচ্চ ইফতা (আইন গবেষণা) বিভাগ পর্যন্ত চালু রয়েছে। দেশের সকল কওমী মাদরাসাকে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। সারাদেশের কওমী মাদরাসাগুলো যে নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে অত্র মাদরাসাটিও একই নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। বাগে জান্নাত মাদরাসায় এতিম অসহায় ও দু:স্থ পরিবারের শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে-ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বছর বছর এখান থেকে বহু ছাত্র কুরআনের হাফেজ ও মুফতি হয়ে বের হচ্ছেন।

অথচ মাদরাসাটিতে টাকা নিয়ে পড়ানো হয় এবং এখানে মাদরাসার নামে বাণিজ্য হয় এহেন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা ছড়িয়ে মাদরাসাটি বন্ধের পায়তারা করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য মুসুল্লীদের দানের একটি খাত হচ্ছে যাকাত। আর যাকাতের অর্থ সাধারণত এতিমরা গ্রহণ করে থাকে। ছাত্রদের থেকে যে অর্থ পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে খোরাকী বাবদ। একজন ছাত্রের দৈনিক খোরাকী ভাতা ৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। সেই খোরাকী ভাতা বা বোর্ডিং চার্জ প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করলেও মাত্র হাতে গোনা কিছু ছাত্র খোরাকী ভাতার অর্ধেক দিতে পারে। বেশীরভাগ ছাত্রই খোরাকী ভাতার আংশিক অর্থ দিচ্ছে। বেশীরভাগ ছাত্রই খোরাকী বাবদ প্রতি মাসে ৫০০ টাকা কিংবা তারও কম অর্থ দিচ্ছে।

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে বাগে জান্নাত মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি হয়েছিল ২৬৮ জন। যার মধ্যে করোনাকালীন সময়ে মাদরাসাটি থেকে অন্য মাদারাসায় ভর্তি হয়েছে ৪৪ জন। বর্তমানে ২২৪ জন ছাত্র অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৬৪ জন ছাত্র সম্পূর্ণরূপে বিনা বেতনে অধ্যয়ন করছে। যাদের বেশীরভাগই এতিম ও অসহায় পরিবারের সন্তান। ছাত্রদের মাসিক খোরাকীভাতা ২৫০০ টাকাসহ সর্বমোট খরচ জনপ্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বেশীরভাগ ছাত্রই অর্ধেকের চেয়েও অনেক কম অর্থ পরিশোধ করে থাকে। ২২৪ জন ছাত্রের মাসিক খরচ ৭ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা হলেও প্রতি মাসে ছাত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মাসে ছাত্রদের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হয় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা। এক বছরে ভর্তুকি ৭২ লাখ ৬৩ হাজার ৬০০ টাকা। আর এই ভর্তুকির টাকা আসে মুসুল্লীদের দান থেকে। বিনা বেতন অধ্যয়ন করা ৬৪ জন ছাত্রের জন্য মাসে ভর্তুকি লাগে ২ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এক বছরে এই ৬৪ জন ছাত্রের জন্য ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। মাদরাসার ইতিহাসে এবারই প্রথম গত চার মাস ধরে ৩১জন শিক্ষকসহ স্টাফের বেতন দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। অথচ মাদরাসাটিতে ছাত্রদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, বাণিজ্য করা হচ্ছে এহেন বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা ছড়িয়ে দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি বন্ধের পায়তারা করা হচ্ছে।

জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসা থেকে চলতি বছরে খতমে বোখারী শরীফ, ইফতা ও হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দি উপলক্ষ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল।

বাদ মাগরিব চাষাঢ়া বাগে জান্নাত জামে মসজিদে মাদরাসাটির ৩০ জন ছাত্রের দস্তারবন্দি উপলক্ষ্যে প্রত্যেককে পাগড়ি প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ইফতা বিভাগে ১৭ জন, খতমে বোখারী শরীফ ৮ জন ও হাফেজ ৫ জন ছাত্র রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মধ্যে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাতই প্রথম যারা মুফতি ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান করলেন।

খতমে বোখারী পরিচালনা করেন জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি নাছির উদ্দিন কাসেমী দা.বা.। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বাদামতলী শাহজাদা মিয়া লেন জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী দা.বা.।

বিশেষ আলোচকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার শাইখুল হাদিস ও প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি কামরুল হাছান দা.বা., জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার মুহাদ্দিস ও বাগে জান্নাত জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি ইমরান হাছান, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি আব্দুর রহীম দা.বা., জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা মুফতি সিফাতুল্লাহ সাহেব। সভাপতিত্ব করেন জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও জামতলা বায়তুল মোশারফ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুশতাকুর রহমান দা.বা.। সার্বিক তত্বাবধায়নে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার সহসভাপতি আবুল হোসেন কামরান। বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লী উক্ত ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টায় মোনাজাতের মাধ্যমে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন হয়। জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ¦ হাফেজ আবু তাহের দা.বা উপস্থিত মুসুল্লীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও